Latest News

বালাকোটের ‘ক্ষত’ ঢাকতেই এত সক্রিয় জইশ শিবির, ভারতে ঢোকার চেষ্টা করছে ৫০০ জঙ্গি: সেনাপ্রধান

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বালাকোটে ফের সক্রিয় উঠেছে জইশ শিবির। আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র ও ইজরায়েলি বোমা নিয়ে তৈরি হচ্ছে জইশের অন্তত ৫০০ জঙ্গি, জানালেন সেনাপ্রধান বিপিন রাওয়াত। গত ফেব্রুয়ারিতে শক্তিশালী মিরাজ-২০০০ যুদ্ধবিমান থেকে লাগাতার বোমা বর্ষণ করে বালাকোটের একাধিক জঙ্গি শিবির গুঁড়িয়ে দিয়েছিল ভারতীয় বায়ুসেনা। সেই শিবির ফের সক্রিয় হয়েছে, এমনটাই খবর গোয়েন্দা রিপোর্টে। জানা গিয়েছে, এই শিবিরে বর্তমানে ৪০ জন জেহাদিকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। তাদের ভারতে পাঠানোর ছক কষছে জঙ্গিরা।

বালাকোটে জইশ গোষ্ঠীর তৎপরতা নিয়ে সম্প্রতি রিপোর্ট দিয়েছিল এনআইএ। সেই রিপোর্টে বলা হয়েছিল, বালাকোট অভিযানের সাত মাস পরে সেই জঙ্গি ঘাঁটিকে ফের গড়ে তুলতে নেমেছে জইশ-ই-মহম্মদের জঙ্গিরা। এবং এ সবের পুরোটাই চলছে পাক মদতে। সীমান্তে ক্যাম্প করে রয়েছে অন্তত ৫০০ জঙ্গি। ভারতে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালাচ্ছে তারা। গোয়েন্দা রিপোর্টের পরিপ্রেক্ষিতেই পাকিস্তানকে ফের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ। ইসলামাবাদকে চ্যালেঞ্জ করে তিনি বলেছেন, ‘‘দেখি কত জন জঙ্গিকে ওরা ভারতে পাঠাতে পারে! এক জনও ফিরে যাবে না।’’ সোমবার সকালে চেন্নাইয়ে অফিসার্স ট্রেনিং অ্যাকাডেমিতে সাংবাদিক বৈঠক করে সেনাপ্রধান বিপিন রাওয়াত বলেন, “পাকিস্তান যতই মিথ্যা প্রমাণ করতে চাক, ভারতীয় বায়ুসেনার বালাকোট অভিযানে পাকিস্তানের জঙ্গি শিবিরগুলির যে বিরাট ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল সেটা নিশ্চিত। সেই ক্ষত ঢাকতেই ফের নাশকতার ছক কষছে তারা। প্রশিক্ষণ দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে জঙ্গিদের। যারা পালিয়ে গিয়েছিল তাদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।”

২৭ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানে ঢুকে ভারতীয় বায়ুসেনা জইশের ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছিল। সাত মাস কেটে গিয়েছে। ৩৭০ ধারা বিলোপের বিষয় নিয়ে এখন ভারত-পাকিস্তান মধ্যে টানাপড়েনের বেড়েছে। এরই মধ্যে ভারতীয় গোয়েন্দাদের কাছে খবর, পাক সরকারের মদতে জঙ্গি গোষ্ঠীগুলি ফের তৎপর হয়েছে। জইশের কমান্ডার আব্দুল রউফ আসগরের সঙ্গে পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের কর্তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

গোয়েন্দা সূত্রে খবর, জম্মু-কাশ্মীরের উপর থেকে স্পেশ্যাল স্ট্যাটাস তুলে নেওয়ার পর থেকেই সক্রিয় হয়েছে জঙ্গিরা। তাদের প্রত্যক্ষ মদত দিচ্ছে পাক সেনা। জঙ্গিদের বিষয়ে কড়াকড়ি একদমই কমিয়ে দেয় পাক প্রশাসন। এমনকী জানা গিয়েছে, জইশ-এর হাত ধরেই ভারতে সন্ত্রাস চালাতে চাইছে পাকিস্তান। জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এও জানিয়েছে, নতুন করে মানসেরা, গুলপুর, কোটলির জঙ্গি শিবিরে প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে।  খাইবার পাখতুনখোয়ার  বিভিন্ন এলাকা থেকে জইশ নতুন করে জঙ্গি নিয়োগ করছে। তাদের ফিদায়েঁ প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে বলে খবর।

পড়তে ভুলবেন না

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ কাশ্মীরের পুলওয়ামায় সিআরপিএফ কনভয়ে ফিদায়েঁ হামলা চালায় জইশ। তার উপযুক্ত জবাবে ২৬ ফেব্রুয়ারি নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে পাকিস্তানে ঢোকে ভারতীয় বায়ুসেনা। পাক অধিকৃত কাশ্মীর, বালাকোট এবং চাকোটিতে, মিরাজ-২০০০ যুদ্ধবিমান থেকে প্রায় ১০০০ কেজির বোমা ফেলে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয় জইশের একাধিক প্রশিক্ষণ শিবির। বায়ুসেনার দাবি ছিল, এই হামলায় খতম হয়েছে জইশ, লস্কর-সহ প্রায় ৩০০ জঙ্গি, যার মধ্যে জইশ মাথা মাসুদ আজহারের ভাই ও আত্মীয়েরাও রয়েছে। তবে ভারতীয় বায়ুসেনার এই দাবি মানতে চায়নি পাকিস্তান।

বস্তুত, বালাকোটের খাইবার পাখতুনখোয়ার যে জায়গায় একাধিক জইশ শিবির ও জইশ পরিচালিত মাদ্রাসা বোমা ছুড়ে ধ্বংস করার দাবি করেছিল ভারতীয় বায়ুসেনা, ঠিক সেই জায়গায় বিবিসি, আল-জাজিরা-সহ একাধিক বিদেশি সংবাদমাধ্যম ও বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গিয়েছিল পাক সেনারা। তাদের দাবি ছিল, সব কিছু নাকি ঠিক আগের মতোই বহাল তবিয়তে রয়েছে। গাছপালাও নাকি বিশেষ নষ্ট হয়নি। উপগ্রহ চিত্রে বিমান হানার চিহ্নস্বরূপ যে বড় বড় গর্তগুলো দেখা গিয়েছিল, সেগুলি নাকি ছোট ও মাঝারি মাপের কিছু গর্ত। মাদ্রাসাতেও পড়াশনা করছে ছাত্রেরা। এরই মধ্যে সামনে আসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোর প্ল্যানেট ল্যাবস আইএনসি সংস্থার তোনা একটি উপগ্রহ চিত্র। যাকে হাতিয়ার করে আলাদা আলাদা দাবি করতে থাকে বিদেশি সংবাদ সংস্থাগুলি।

রয়টার্সের সেই ছবি

সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানায়, বালাকোটের জাবা গ্রামে জইশের জঙ্গিঘাঁটি মাথা তুলে দাঁড়িয়ে রয়েছে। অক্ষত অবস্থায় দাঁড়িয়ে রয়েছে মাদ্রাসা-সহ মোট ছ’টি বাড়ি। ভারত সরকার যে বিপুল ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তুলে ধরছিল, তার কোনও প্রমাণ মেলেনি বলেই দাবি করে তারা। সংবাদ সংস্থা প্রিন্ট জানায়, যে এলাকায় জঙ্গি প্রশিক্ষণ শিবিরের তাঁবু ছিল, সেখানে বিস্ফোরণের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে। অর্থাৎ সেদিন যে বিস্ফোরণ হয়েছিল, তা নিশ্চিত। সংবাদ সংস্থা টাইমস নাও দাবি করে, এই হামলায় স্পাইস ২০০০ গ্লাইড বোমা ব্যবহার করা হয়েছিল। এই বোমার নিয়মই হচ্ছে, যেখানে পড়ে, সেখান থেকে গর্ত করে ভেতরে ঢোকে। আর  উপগ্রহ চিত্রে পরিষ্কার দেখা গেছে, কমপক্ষে ১০ থেকে ১২টি গর্ত রয়েছে মূল প্রশিক্ষণ শিবিরের ছাদে।  সংবাদসংস্থাগুলির এই দাবির প্রেক্ষিতে চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু করে পাকিস্তান ও ভারতের বিরোধী শিবিরগুলি। যদিও ভারত সরকার বালাকোটে জঙ্গি নিধনের দাবিতে অটল থাকে।

বস্তুত, এ দিন সেনাপ্রধান বিপিন রাওয়াত জানান, পাকিস্তান বালাকোট নিয়ে এতদিন যে দাবিগুলো করে এসেছে সে গুলো যে ভিত্তিহীন তার প্রমাণ মিলেছে। বালাকোটে জইশ ও লস্কর পরিচালিত একাধিক জঙ্গি ঘাঁটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল ভারতীয় বায়ুসেনা। সেই জায়গায় এখন নতুন করে শিবির তৈরির চেষ্টা চলছে। গোয়েন্দা রিপোর্টও বলছে, জইশের কম্যান্ডাররা একজোট হয়ে নাশকতার নতুন ছক কষছে। তবে যে কোনও পরিস্থিতি সামাল দিতে যে ভারতীয় সেনা তৈরি।  বালাকোটের পর থেকে সেনার প্রত্যেকের মধ্যে একটা আলাদা জোশ তৈরি হয়েছে। সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সব রকম ভাবে প্রস্তুত রয়েছে ভারতীয় বায়ুসেনা।

You might also like