Latest News

পার্থ নিয়ে বিস্ফোরক বৈশাখী: মহিলা আর টাকার লালসাতেই আজ এই জায়গায়

দ্য ওয়াল ব্যুরো: একটা সময় দেখা যেত, কিছু হলেই বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় ছুটতেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নাকতলার বাড়িতে। তখন বৈশাখী মিল্লি আল আমিন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আর পার্থবাবু শিক্ষামন্ত্রী (Partha Chatterjee)। তৃণমূল থেকে যখন শোভন চট্টোপাধ্যায় দূরত্ব বাড়িয়ে বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Baishakhi Banerjee) সঙ্গে থাকতে শুরু করে দিয়েছেন সেই সময়েও কালীঘাটের দূত হিসেবে গোলপার্কের ফ্ল্যাটে বোঝাতে যেতেন পার্থ। সেই তিনি আজকে দুর্নীতি কাণ্ডে ইডি হেফাজতে। আর তাঁকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন শোভন-বান্ধবী বৈশাখী (Partha-Baishakhi)। রাখঢাক না করেই বললেন, যা সামনে এসেছে তা সারদা-নারদকেও ছাপিয়ে গিয়েছে। মহিলা আর অর্থের প্রতি লালসাই পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে আজকে এই জায়গায় এনে দাঁড় করিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বৈশাখী।

কী বলেছেন বৈশাখী (Partha-Baishakhi)?

শোভন-বান্ধবী বলেছেন, তিনি পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে সতর্ক করেছিলেন দুর্নীতি নিয়ে। তাঁর দাবি, তিনি এও বলেছিলেন, আপনার অস্তিত্ব (রাজনৈতিক ও সামাজিক) সংকটে পড়তে পারে! বৈশাখীর কথায়, “এই ধরনের দুর্নীতি যে ঘনিয়ে আসছে এবং তাঁর অস্তিত্ব যে সংকটে পড়তে পারে এটা আমি বারবার বলেছি। কিন্তু ক্ষমতার ঔদ্ধত্যে তিনি বেপরোয়া হয়ে গিয়েছিলেন।”

এখানেই শেষ নয়। শিক্ষা দফতর কীভাবে পার্থ জমানায় দুর্নীতির কারখানায় পরিণত হয়েছিল সে ব্যাপারেও আক্রমণ শানিয়েছেন বৈশাখী। পার্থবাবু দীর্ঘদিন কর্পোরেটে চাকরি করেছেন। বড় পদে ছিলেন। এবং সেকথা নিজেও বলতেন। সেই প্রসঙ্গ টেনে বৈশাখী বলেছেন, “পার্থদা কর্পোরেটে ছিলেন। সেই ধাঁচেই শিক্ষা দফতরকে দুর্নীতির শিল্পে পরিণত করেছিলেন।”

নাম না করে শিক্ষা দফতরের আধিকারিককে উদ্ধৃত করে বৈশাখী দাবি করেছেন, তাঁকে এক আধিকারিক বলেছিলেন, যাদবপুর এবং কলকাতা বাদ দিয়ে রাজ্যের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের মাসিক কোটা বাঁধা ছিল। যে টাকা পৌঁছে দিতে হতো শিক্ষা দফতরে। বৈশাখী এও বলেন, ওই কর্তা তাঁকে বলেছিলেন এই টাকা যায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে। তাঁর কথায়, “আমি সেটা বিশ্বাস করি না। তাহলে আজকে তাঁর বান্ধবীর বাড়ি থেকে এত টাকা পাওয়া যেত না।”

নারদ কাণ্ডে নাম জড়িয়েছিল শোভন চট্টোপাধ্যায়ের। গত বছর মে মাসে শোভনকে গ্রেফতার করেছিল সিবিআই। সেই প্রসঙ্গেও আলোকপাত করেছেন বৈশাখী। তাঁর দাবি, স্টিং অপারেশন হয়েছিল উদ্দেশ্য নিয়ে। রাজনৈতিক দল চালানোর জন্য টাকা নেওয়া আর টাকা নিয়ে বান্ধবীর বাড়িতে জমিয়ে রাখা—দুটো এক জিনিস নয়।

সম্প্রতি শোভন এবং বৈশাখী নবান্নে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করে এসেছিলেন। অনেকের মতে, সেদিনই শোভনের তৃণমূলে ফেরার ভিত পুজো হয়ে গিয়েছে। যদিও দু’জনের কাউকেই একুশে জুলাইয়ের মঞ্চে বা আশপাশে দেখা যায়নি। কিন্তু পার্থ কাণ্ডে বৈশাখী বোঝাতে চাইলেন, শিল্পমন্ত্রী তথা প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী নিজেকে সব কিছুর ঊর্ধ্বে মনে করছিলেন। তাঁর কথায়, “বারবার পার্থ চটোপাধ্যায় বলতেন, “শিক্ষা দফতর চলবে নাকতলা থেকে, হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট থেকে নয়। আই অ্যাম নম্বর টু। আই অ্যাম নেক্সট টু মমতা। মমতা আমার উপর কিছু বলতে পারবে না। এসবের জন্যই আজকের এই অবস্থা।”

বিস্ফোরক তৃণমূলের অনন্তদেব, ‘পার্থবাবু শিক্ষক নিয়োগে নাম চেয়েছিলেন’

You might also like