Latest News

Assam: মুসলিম বহুল জেলায় হিন্দুদের সংখ্যালঘু তকমা, অসমের মুখ্যমন্ত্রীর মতলবটা কী?

অমল সরকার

অসমে (Assam) ২৭টি জেলার মধ্যে নয়টি জেলায় মুসলিমরা (Muslim) সংখ্যাগরিষ্ঠ। ওই নয় জেলায় হিন্দুদের (Hindu) সংখ্যালঘু হিসাবে গণ্য করার পক্ষপাতী অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা (Himant biswa sharma)।

সংবিধান ও প্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এই পথেই সরকার এগোয়, তাহলে, এই নয় জেলায় সংখ্যাগুরু মুসলিমরা তাদের সংখ্যালঘু তকমা হারাবে। সেই সূত্রে প্রাপ্য সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। কারণ, একাধিক ধর্মীয় গোষ্ঠী সংখ্যাগুরুর স্বীকৃতি পেতে পারে না।

সংখ্যালঘু, সংখ্যাগুরু নিয়ে অসমের মুখ্যমন্ত্রী সম্প্রতি বিধানসভায় তাঁর অভিমত জানান একটি মামলায় সুপ্রিম কোর্টে কেন্দ্রীয় সরকারের সংখ্যালঘু বিষয়ে বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে।

বিজেপি নেতা তথা আইনজীবী অশ্বিনী উপাধ্যায়ের দায়ের করা মামলায় অমিত শাহের স্বরাষ্ট্র দফতর জানিয়েছে, রাজ্য সরকারগুলিও চাইলে কারা সংখ্যালঘু ও কারা সংখ্যাগুরু তা নির্ধারণ করতে পারে।

Image - Assam: মুসলিম বহুল জেলায় হিন্দুদের সংখ্যালঘু তকমা, অসমের মুখ্যমন্ত্রীর মতলবটা কী?
অসমে এনআরসি বিরোধী আন্দোলন। ফাইল চিত্র।

কেন্দ্রীয় সরকারের ওই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে অসমের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অসম সরকার ওই মামলায় যুক্ত হতে চায়। এই ব্যাপারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর কথাও হয়েছে।

হিমন্ত বিশ্ব শর্মার এই নয়া ভাবনা ঘিরে অসমের রাজনীতিতে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। বিরোধী দল এবং নাগরিক সমাজের একাংশের মতে, হিমন্তের এই বক্তব্যের পিছনে বিশেষ কোনও কৌশল আছে। ক্ষমতায় এসেই তিনি বিজেপি ও সঙ্ঘ পরিবারের হিন্দুত্বের ইস্যুগুলিকে নিয়ে জোরকদমে ব্যাট চালাতে শুরু করেছেন। অনেকেই তাঁকে উত্তর-পূর্বের যোগী আদিত্যনাথ মনে করেন। উত্তরপ্রদেশে যোগী যেমন হিন্দুত্বের কর্মসূচি রূপায়ণে খুল্লামখুল্লা, অসমে হিমন্তও তাই। অনেকেই মনে করছেন, মুসলিম প্রধান জেলায় হিন্দুদের সংখ্যালঘুর মর্যাদা দেওয়ার ভাবনার পিছনে ধর্মীয় মেরুকরণের নয়া ভাবনা কাজ করছে। সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট মামলায় আর কোনও রাজ্য এখনও পর্যন্ত যুক্ত হতে আগ্রহ প্রকাশ করেনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করছেন, অসমের মুখ্যমন্ত্রীকে দিয়ে বিজেপি ধর্মীয় বিভাজন এবং মুসলিমদের আরও কোণঠাসা করার নয়া রাস্তা খুঁজছে। জেলা ভিত্তিক সংখ্যালঘু বাছাইয়ের রাস্তায় হাঁটা শুরু হলে এরপর দেখা যাবে জেলা ভাগের সময় এমনভাবে সীমানা নিধারণ করা হবে যেখানে মুসলিমরা হবে সংখ্যাগরিষ্ঠ। ফলে তারা সেখানে সংখ্যালঘুর সুবিধাদি হারাবে। অন্যদিকে হিন্দুরা সংরক্ষণ-সহ নানা সুবিধা পাবে।

বর্তমানে শুধু জাতীয় ও রাজ্যভিত্তিক ধর্মীয় সংখ্যালঘু বাছাইয়ের ব্যবস্থা আছে দেশে। কেন্দ্রীয় সরকার মুললিম, খ্রিস্টান, শিখ, জৈন, বৌদ্ধ ও পার্সিদের সংখ্যালঘু বলে বিবেচনা করে থাকে। কম-বেশি সব রাজ্যেই এই ক’টি ধর্মীয় সম্প্রদায়ই সংখ্যালঘু হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে।

২০১১ সালের জনগণনার রিপোর্ট অনুযায়ী অসমের জনসংখ্যার ৩৪.২২ শতাংশ মানুষ মুসলিম। যে নয়টি জেলায় মুসলিমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ সেগুলি হল, নিম্ন অসমের ধুবরি, গোয়ালপাড়া, বরপেটা, মরিগাঁও এবং বঙ্গাইগাঁও। মধ্য অসমের নওগাঁ এবং দরং এবং বরাক ভ্যালির হাইলাকান্দি ও করিমগঞ্জ। গত বছর বিধানসভা নির্বাচনে ওই নয় জেলার ৪৯টি আসনের মধ্যে বিজেপি জিতেছে ১২টি। বাকি ২৯টি পেয়েছে কংগ্রেও এবং এআইইউডিএফ জোট।

বিজেপি মনে করছে, ওই এলাকায় হিন্দুদের সংখ্যালগুর মর্যাদা দেওয়া গেলে তারাও চাকরি, শিক্ষায় সংরক্ষণের বাড়তি সুবিধা পাবে এবং দীর্ঘমেয়াদে বিজেপির সুবিধা হবে।

সুপ্রিম কোর্ট অবশ্য সংবিধানকে উদ্ধৃত করে ভাষাগত সংখ্যালগুদের স্বীকৃতি প্রদানের কথাও বলেছে। অসমের মুখ্যমন্ত্রী গোড়ায় ভাষার ভিত্তিতে সংখ্যালঘুর স্বীকৃতি দেওয়ার কথা বলেও পিছিয়ে যান। কারণ, অসমে মুসলিমদের সিংহভাগই বাংলাভাষী। আবার গোটা রাজ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুদের ষোলোআনার ভাষাই হল অসমিয়া। তারা ধর্মীয় কারণে কিছু জেলায় সংখ্যালঘুর স্বীকৃতি হারালেও ভাষাগত কারণে কিছু জেলায় তাদের সেই একই তকমা মিলবে। আবার এই অংশকেই বিজেপি এবং অসম গণ পরিষদের মতো দলগুলি ‘বহিরাগত’ বলে থাকে। এনআরসি-র পয়লা নম্বর টার্গেটও তারাই।

এনআরসি বিরোধী আন্দোলন। ফাইল চিত্র।

আজন্ম অসমের বাসিন্দা তথা অসম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য তপধীর ভট্টাচার্যর মতে, বর্তমান সরকারের সময় রাজ্যটিতে যেভাবে বিভাজন সৃষ্টি করা হচ্ছে, এটা তাতে নয়া সংযোজন হতে যাচ্ছে। মুসলিম এবং বাঙালিদেরই এজন্য ভুগতে হবে।

অসমে এনআরসি বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম মুখ এই শিক্ষকের আরও সংযোজন, বিজেপির রাজনীতিই হল, বিভেদ, বিদ্বেষ, ঘৃণা বর্ষণ।

হিমন্তর নয়া সমীকরণের আসল উদ্দেশ, অসমিয়া জাতীয়তাবাদ, এমন সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না বিশেষজ্ঞ মহল। তিনি বিজেপিতে আসার আগে ছিলেন কংগ্রেসের প্রভাবশালী নেতা এবং রাজনীতিতে হাতেখড়ি অল অসম স্টুডেন্টস ইউনিয়নের অসম ফর অসিমিস -এর ‘বঙ্গাল খেদাও’ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে।

তবে গোড়ায় ভাষাগত সংখ্যালঘুদের স্বীকৃতি দেওয়ার কথা বলেও পরে সেই বয়ান বদলে ফেলেন হিমন্ত। মুখ্যমন্ত্রীর এই ব্যাপারে বক্তব্য, ভাষাগত তথ্য সরকারের কাছে নেই। ফলে সুপ্রিম কোর্ট মামলায় চূড়ান্ত রায় কী দেয় সরকার ততদিন অপেক্ষা করবে।

ঝালদায় সেদিন কাছেই ছিল পুলিশ ভ্যান, খবর পেয়েও কেউ যায়নি! নতুন তথ্য পেল সিবিআই

You might also like