Latest News

‘বললেই হয়, রাজ্য থেকে মুসলমানরা চলে যাক’, যোগীকে খোঁচা ওয়েইসির

দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ (Yogi Adityanath) সরকার স্বীকৃতিহীন মাদ্রাসাগুলি নিয়ে একটি সমীক্ষার নির্দেশ জারি করেছে। মুসলিমদের বিভিন্ন সংগঠন রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। তাদের বক্তব্য, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সরকার মুসলিমদের নিয়ে সন্দেহের বাতাবরণ তৈরি করতে চাইছে।

যোগী সরকারের সিদ্ধান্তের সমালোচকদের সঙ্গে এবার গলা মিলিয়েছেন এআইএমআইএম নেতা আসাউদ্দিন ওয়েইসি (Asaduddin Owaisi)। যোগী সরকারের মাদ্রাসা নিয়ে ওই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এমন আদেশই বরং জারি করা যেত যে উত্তরপ্রদেশে (Uttar Pradesh) কোনও মুসলমান বসবাস করবে না। ওয়েইসির কথায়, যোগী সরকারের এই সিদ্ধান্ত স্বেচ্ছাচারী এবং মুসলমানদেরকে সন্দেহের চোখে দেখার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এটা একটা ছোটমাপের এনআরসি।

প্রসঙ্গত, ন্যাশনাল রেজিস্ট্রার অফ সিটিজেন বা এনআরসি নিয়ে বছর তিনেক যাবৎ দেশে বিতর্ক চলছে। সুপ্রিম কোর্ট একমাত্র অসমে নাগরিকদের এই বিশেষ তালিকা তৈরির সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছে। কিন্তু কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সারা দেশেই এনআরসি হবে বলে সংসদে ঘোষণার পর থেকেই বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে। যদিও সরকারের তরফে পরে জানানো হয়, সারা দেশে এনআরসি করার কোনও সিদ্ধান্ত কেন্দ্র নেয়নি। কিন্তু বিরোধীরা সন্দিহান। তাদের বক্তব্য, অসমে নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য যে সব নথিপত্র দাবি করা হচ্ছে অনেক নাগরিকের পক্ষেই তা দাখিল করা সম্ভব হচ্ছে না। গোটা দেশে এনআরসি হলে কয়েক কোটি মানুষ নিজেদের এ দেশের নাগরিক প্রমাণে ব্যর্থ হবেন।

বিলকিস: দেশ নীরব কেন? প্রশ্ন তুলে কেঁদে ফেললেন শাবানা

ওয়েইসি ইঙ্গিত করেছেন, মাদ্রাসা কেন্দ্রীক সমীক্ষায় মুসলিমরা আলাদা করে বিপাকে পড়বে। তাঁর প্রশ্ন, স্বীকৃতিহীন মাদ্রাসাগুলিকে সরকার কোনও আর্থিক সহায়তা দেয় না। তাহলে কোন অধিকারে সরকার সেগুলি নিয়ে সমীক্ষা চালাতে পারে? আরও বলেন, ‘বেসরকারি মাদ্রাসার সঙ্গে সরকারের কোনও সম্পর্ক নেই। শুধুমাত্র মাদ্রাসা বোর্ড কর্তৃক স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানগুলিকে সরকার সহায়তা দেয় এবং সেগুলি নিয়ে তদন্ত করতে পারে। হায়দরাবাদের সাংসদের বক্তব্য, সংবিধানের ৩০ নম্বর অনুচ্ছেদে সংখ্যালঘুদের নিজস্ব প্রতিষ্ঠান চালানোর অধিকার রয়েছে।

ওয়েইসি অবশ্য শুধু মাদ্রাসা নয়, উত্তরপ্রদেশে যোগী সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রায়ই মুখ খুলে থাকেন। রাজ্যের বিগত বিধানসভা নির্বাচনে তাঁর দল অনেক আসনে প্রার্থী দেয়। তা নিয়ে অবশ্য কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, বহুজন সমাজবাদী পার্টিরও সমালোচনার মুখে পড়েন ওয়েইসি। এই দলগুলির বক্তব্য, ওয়েইসি আসলে বিজেপির বি-টিম। তাঁর কাজ মুসলিম ভোটে বিভাজন ঘটিয়ে বিজেপির জয়যাত্রা নিশ্চিত করা।

অবশ্য রাজনৈতিক মহলের অন্য একটি ব্যাখ্যাও আছে। দেশে বিগত কয়েক বছর যাবৎ মুসলিমদের স্বার্থে লড়াই করা কোনও নেতা নেই যাঁকে গোটা দেশ একনামে চেনে। ওয়েইসি সেই শূন্যস্থান পূরণে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করছেন। উত্তরপ্রদেশে দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মুসলিমের বাস। তাই ওই রাজ্যের অনেক ঘটনাতেই প্রতিক্রিয়া দেন হায়দরাবাদের সাংসদ।

যোগী সরকারের মাদ্রাসা বিষয়ক মন্ত্রী দানিশ আজাদ আনসারি অবশ্য বলেন, সরকারের এই জরিপের উদ্দেশ্য হল, শিক্ষার্থীর সংখ্যা জানা। সেটা জানা গেলে সরকারের পক্ষে পরিকল্পনা করা সহজ হবে।

প্রসঙ্গত, উত্তরপ্রদেশ সরকারের শিক্ষা বিভাগের একজন উপসচিব উপসচিব শাকিল আহমেদ সিদ্দিকী সম্প্রতি আদেশ জারি করে বলেছেন ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এই সমীক্ষার জন্য একটি দল গঠন করা হবে। যার মধ্যে সংশ্লিষ্ট তহসিলের ডেপুটি জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা আধিকারিক এবং জেলা সংখ্যালঘু কল্যাণ আধিকারিক থাকবেন।

সমীক্ষার কাজ ৫ অক্টোবরের মধ্যে শেষ করতে হবে এবং ২৫ অক্টোবরের মধ্যে সরকারের কাছে রিপোর্ট পেশ করতে হবে। জরিপে স্বীকৃতিহীন মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠার বছর, জমির বিবরণ, ভবনের অবস্থা, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের সংখ্যা, পাঠ্যক্রম, আয়ের উৎস ইত্যাদির বিবরণ থাকবে। মাদ্রাসার সমীক্ষা চালিয়ে এসব মাদ্রাসার সম্পূর্ণ বিবরণ পাওয়া যাবে, যাতে জানা যাবে রাজ্যে কত ধরনের মাদ্রাসা রয়েছে। দানিশ আজাদ বলেন, বিস্তারিত জানার জন্য এই জরিপের উদ্যোগ। এর পিছনে কোনও অসৎ উদ্দেশ্য নেই।

You might also like