Latest News

ওমিক্রন বাড়ছে, ভ্যাকসিনের বুস্টার ডোজ নিয়ে পরিকল্পনা কী? আদালতে বলল কেন্দ্র

দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনার একাধিক নতুন প্রজাতির সংক্রমণে তটস্থ দেশ। ডেল্টা প্রজাতি নিয়ে চিন্তার মধ্যেই ওমিক্রনের উপদ্রব বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে কোভিড ভ্য়াকসিনের তৃতীয় ডোজ তথা বুস্টার শট নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার কী ভাবনাচিন্তা করছে তা জানতে চেয়েছিল দিল্লি হাইকোর্ট। মঙ্গলবার আদালতে কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, বুস্টার ডোজ নিয়ে এখনই তেমন কোনও পরিকল্পনা  নেই সরকারের। গোটা দেশকে ভ্য়াকসিনের দুটি করে ডোজ দেওয়াই প্রাথমিক লক্ষ্য়। তবে ওমিক্রনের সংক্রমণ রোখার জন্য় তৃতীয় ডোজ আনা হবে কিনা সে নিয়ে বিজ্ঞানীদের সঙ্গে কথাবার্তা চলছে।

আদালতে স্বাস্থ্য় মন্ত্রক জানিয়েছে, দেশের দুই ভ্য়াকসিন বিশেষজ্ঞ কমিটি ন্য়াশনাল টেকনিক্যাল ইমিউনাইজেশন এবং ন্য়াশনাল এক্সপার্ট গ্রুপ অন ভ্য়াকসিন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনও বুস্টার ডোজ নিয়ে কোনও গাইডলাইন দেয়নি। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের বক্তব্য়, দেশের সব মানুষকে এখনও ভ্যাকসিনের দুটি ডোজ দেওয়া শেষ হয়নি। এখনই বুস্টার ডোজ নিয়ে ভাবনাচিন্তা করার সময় আসেনি। তাছাড়া বিজ্ঞানীদের তরফেও বুস্টার ডোজের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলাদা করে কিছু বলা হয়নি।

বুস্টার ডোজ কী মতামত দিচ্ছেন ভাইরাস বিশেষজ্ঞরা?

বিশ্বজুড়েই ভাইরোলজিস্টরা বলছেন, সার্স-কভ-২ ভাইরাল স্ট্রেনে মিউটেশন বা জিনের গঠন বিন্যাস খুব দ্রুত বদলে যাচ্ছে। মানে মিউটেশন হচ্ছে পর পর, র‍্যাপিড। একবারে ২০০ বার জিনের গঠন বদলাতেও দেখেছেন বিজ্ঞানীরা। স্পাইক প্রোটিনে অ্যামাইনো অ্যাসিডের কোডও বদলে যাচ্ছে। তাই ভাইরাল স্ট্রেন দিনে দিনে আরও ছোঁয়াচে, অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠছে। ভাইরাসের জিনোম সিকুয়েন্স করে বা জিনের বিন্যাস সাজিয়ে যেমনটা দেখে ভ্যাকসিনের ফর্মুলা তৈরি হয়েছিল, সেই জিনের বিন্যাসই এখন বদলে গেছে। যদিও ভ্যাকসিনে কাজ হবে ঠিকই, কিন্তু সারা বছর সংক্রামক ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হলে শরীরের ইমিউনিটি সেই পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে। এর জন্যই দরকার এই তৃতীয় ডোজ।

ভ্যাকসিনের তৃতীয় ডোজ হবে ‘বুস্টার’, অর্থাৎ শরীরের ইমিউন পাওয়ার বা রোগ প্রতিরোধ শক্তিকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেবে। সাধারণত, ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ শরীরে ঢুকে ইমিউন কোষগুলোকে (বি-কোষ ও টি-কোষ) সক্রিয় করার চেষ্টা করে। দেহকোষে ভাইরাস প্রতিরোধী সুরক্ষা বলয় তৈরি করার জন্য ইমিউন কোষগুলোকে অ্যাকটিভ করা শুরু করে। দ্বিতীয় ডোজে এই কাজটাই সম্পূর্ণ হয়। বি-কোষ সক্রিয় হয়ে প্লাজমায় অ্যান্টিবডি তৈরি করে। অন্যদিকে, টি-কোষ বা টি-লিম্ফোসাইট কোষ সক্রিয় সংক্রামক কোষগুলিকে নষ্ট করতে শুরু করে। দুই ডোজের পরে যে অ্যান্টিবডি শরীরে তৈরি হয় তাই ভাইরাস থেকে সুরক্ষা দেয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভ্যাকসিনেশনের প্রায় এক বছর পরে যদি এই বুস্টার দেওয়া হয়, তাহলে আবারও শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হবে, আরও কয়েকমাস ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা পাওয়া যাবে।

পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকাসুখপাঠ

You might also like