Latest News

Apiculture: হাতি তাড়াতে মৌমাছি চাষ! বক্সা-জলদাপাড়ায় দু’কোটি টাকার প্রকল্প, জেনে নিন কেন

দ্য ওয়াল ব্যুরো: হাতি তাড়াতে এবার মৌমাছি চাষে (Apiculture) মন দিল আলিপুরদুয়ার জেলা প্রশাসন। এ কাজে ইতিমধ্যেই খরচ হয়েছে প্রায় দু’কোটি টাকা। বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্প ও জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান লাগোয়া এলাকায় শুরু হয়েছে মৌমাছির চাষাবাদ।

কিন্তু মৌমাছি চাষে (Apiculture) কীভাবে কমবে হাতির উৎপাত?

আসলে একমাত্র মৌমাছিকেই ভয় পায় হাতি। মৌমাছির গুঞ্জন শুনলে তার ত্রিসীমানায় যায় না হাতির পাল। আর বুনোদের এই স্বভাবকে কাজে লাগিয়েই এলাকায় হাতি ও মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান গড়ে তুলতে উদ্যোগী হল আলিপুরদুয়ার জেলা প্রশাসন। বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের জঙ্গল লাগোয়া নুরপুর, মাঝের ডাবরি, কালিখোলা, জয়ন্তী এলাকায় মৌমাছি চাষ শুরু হয়েছে। স্থানীয়রাই মৌমাছি প্রতিপালন করছেন। জেলা প্রশাসন তাদের সব রকম সুবিধে দিচ্ছে।

জলদাপাড়া ও বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের ভেতরে ও বাইরে মোট ৬৬টি বনবস্তি রয়েছে। এই সব বনবস্তিগুলো কিছু বনাঞ্চলের ভেতরে ও কিছু বনের বাইরে হলেও বনাঞ্চল লাগোয়া। এই সব এলাকার মানুষরা নানান প্রয়োজনে যেমন বনের ভেতরে ঢোকেন তেমনি নির্দিষ্ট করিডোর ধরে নিত্যই এইসব এলাকায় ঢুকে পড়ে হাতির পাল। হাতির হামলায় ফসলহানি তো নিত্যদিনের ঘটনা, বহুক্ষেত্রে হাতির হামলায় মানুষের প্রাণ পর্যন্ত চলে যায়। হাতির ভয়ে মানুষজন জঙ্গল লাগোয়া জমিতে ফসলের চাষ পর্যন্ত করতে পারেন না। এই হাতির পালের থেকে বাঁচতেই এবার অভিনব উদ্যোগ বন দফতরের।

Image - Apiculture: হাতি তাড়াতে মৌমাছি চাষ! বক্সা-জলদাপাড়ায় দু'কোটি টাকার প্রকল্প, জেনে নিন কেন

সঙ্গে বাড়তি পাওনা মৌমাছির চাষ (Apiculture) করে পাওয়া মধুর অর্থকরী সাফল্য। সুন্দরবনের ঢঙে এবার বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্প ও জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের মধুও নতুন ব্র্যান্ডে বাজারে আসছে। আগামী সপ্তাহেই এই নতুন ব্র্যান্ডের সূচনা করবেন আলিপুরদুয়ারের জেলাশাসক সুরেন্দ্র কুমার মীনা। তিনি জানান, সুন্দরবনের ধাঁচে এবার উত্তরবঙ্গের বক্সা ও জলদাপাড়া এই দুই বনাঞ্চলের মধু নতুন ব্র্যান্ডে বাজারে আনবেন তাঁরা। দুই বনাঞ্চল লাগোয়া এলাকায় বাসিন্দাদের মধু চাষে উৎসাহিত করা হচ্ছে। প্রশাসনিক উদ্যোগে বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে বি বক্স। এর ফলে একদিকে হাতি মানুষের সংঘাত যেমন কমবে, অন্যদিকে খাঁটি সুস্বাদু মধু তাঁরা ক্রেতাদের হাতে তুলে দিতে পারবেন। স্থানীয়ভাবে প্রচুর কর্মসংস্থানও তৈরি হবে।

জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগে খুশি বন লাগোয়া এলাকার বাসিন্দারা। নুরপুর গ্রামের বিনোদ খারিয়া বলেন, “এখানে আমরা আগে হাতির অত্যাচারে কোনও চাষাবাদ করতে পারতাম না। কিন্তু মৌমাছির চাষ করায় এখন গ্রামে আর হাতি আসে না। আমরা অন্যান্য চাষও করতে পারছি। হাতির হামলায় মৃত্যু ও বাড়ি ঘর ভাঙার ঘটনাও কমে যাচ্ছে।”

‘কিষেনজি অমর রহে, তৃণমূলের সঙ্গে খেলব,’ জ্ঞানেশ্বরীর মহল্লায় মাওবাদী পোস্টার

You might also like