Latest News

Aparajito: ছবিতে মুগ্ধ বিমান-সূর্যরা, সুজন খাওয়ালেন পপকর্ন, প্রিয়ায় হইহই সিপিএমের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: শনিবার বিকেল চারটে পাঁচ। রাসবিহারী অ্যাভিনিউয়ে প্রিয়া সিনেমা হলের সামনে এসে দাঁড়াল একটা সাদা বোলেরো গাড়ি। ততক্ষণে ম্যাটিনি শোয়ে অপরাজিত (Aparajito) দেখার লম্বা লাইন পড়ে গিয়েছে। গাড়ি থেকে এক নাতিদীর্ঘ উচ্চতার ধুতি, পাঞ্জাবি পরা পক্ককেশের ভদ্রলোক নামতেই লাইন থেকে শোনা গেল, ‘ওই দ্যাখ বিমান বসু।’ সঙ্গে ছিলেন সূর্য মিশ্র, সুজন চক্রবর্তী, কল্লোল মজুমদাররাও। লাইন ভেঙে কেউ কেউ ছিটকে বেরিয়ে এলেন, ছবি-সেলফি নিতে। ততক্ষণে পরিচালক অনীক দত্ত ভিতর থেকে বাইরে বেরিয়ে বিমানবাবুদের স্বাগত জানাচ্ছিলেন। সংবাদমাধ্যম আর সেলফি শিকারিদের ভিড় ঠেলে প্রিয়ার গেট দিয়ে ভিতরে ঢুকলেন সিপিএম নেতারা। পিছনে জটলা করে একদল কর্মী।

সে এক হইহই কাণ্ড। একেবারে অন্য মেজাজে সিপিএম নেতারা। নেতাদের মেজাজ দেখে কর্মীরাও উচ্ছ্বসিত (Aparajito)।

শনিবার সকালে দ্য ওয়ালেই সবার আগে লেখা হয়েছিল বিমান বসুরা হলে গিয়ে অপরাজিত দেখবেন। সঙ্গে শতাধিক সিপিএম কর্মী। যাদবপুর এলাকার বহু সিপিএম নেতা পরিবারকে সঙ্গে নিয়েও গিয়েছিলেন। সুজন চক্রবর্তীর স্ত্রীও ছিলেন। সব মিলিয়ে নেতা-কর্মী মিলেমিশে একাকার। ব্রাঞ্চ আর পলিটব্যুরোর দূরত্ব ঘুচিয়ে দিল অপরাজিত।

Image - Aparajito: ছবিতে মুগ্ধ বিমান-সূর্যরা, সুজন খাওয়ালেন পপকর্ন, প্রিয়ায় হইহই সিপিএমের

: বিশ্বভারতীর গবেষকের শ্লীলতাহানির অভিযোগ উপাচার্যের রক্ষীর বিরুদ্ধে! নিশানায় বিদ্যুৎও

কর্মীদের সঙ্গে দল বেঁধে সিনেমা দেখতে যাওয়ার ব্যাপারটাই অন্য মুড তৈরি করে দিয়েছিল সিপিএমের মধ্যে। আর সিনেমার দৃশ্যে দৃশ্যে করতালিতে ফেটে পড়া হল জানান দিল, এ শুধু সিনেমার তারিফ নয়, অন্য এক আবেশ রয়েছে।

যাদব পুর এলাকার তরুণ সিপিএম কর্মীদের বায়নাতেই সুজন চক্রবর্তী ১৩০টা টিকিট কাটিয়েছিলেন। তারপর দেখেন যা উন্মাদনা তাতে এটা কম পড়ে গিয়েছে। শুক্রবার রাতে দ্য ওয়াল-কে সেকথা বলেছিলেন সুজনবাবু। শনিবার হলে ঢোকার আগেও সেকথা বলেন তিনি।

তবে নন্দনে অপরাজিতকে জায়গা না দেওয়া নিয়েও ক্ষোভের জ্বালামুখ খুলে দেন সিপিএম নেতারা। শো শেষের পর সিপিএম নেতৃত্ব বলেন, “অনীক দত্ত পরিচালিত অপরাজিত ছবিটি বাংলা সিনেমার মাইলফলক হয়ে থাকবে। সত্যজিৎ রায়ের পথের পাঁচালি নির্মাণের কাহিনি নিখুঁত ভাবে ধরা রয়েছে ছবিটিতে। অর্থ সংকটে সত্যজিৎ যখন দিশেহারা তখন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বিধান চন্দ্র রায় তাঁকে সরকারি সাহায্য করেছিলেন। সত্যজিৎবাবু নন্দনের ফিতে কেটেছিলেন, পাশে ছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু। এটাই বাংলার সংস্কৃতি। আর সত্যজিৎ রায়ের সেই সিনেমা বানানোর কাহিনি লেখা হল যে ছবিতে সেই ছবি জায়গা পেল না নন্দনে। এটা আজকের অধঃপতন।”

ইন্টারভালের সময়ে দেখা গেল উপর থেকে নীচে নেমে এসেছেন সুজন। কর্মীদের কিনে দিলেন পপকর্ন। সিনেমা চলার মধ্যেই কলকাতা কালবৈশাখীতে লণ্ডভণ্ড হয়ে গিয়েছে। তা হলের ভিতরে বসে টের পাওয়ার জো ছিল না। কারণ প্রতিটি দৃশ্যে তখন মুগ্ধতা ছড়িয়ে দিচ্ছেন জিতু কমল, সায়নী ঘোষরা। সিনেমা নির্মাণের উত্তেজনায় বুঁদ সকলে। সিনেমা যখন শেষ হল তখন বাইরের ঝড়ও শেষ। প্রিয়া সিনেমার সামনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে গাছের ডাল। তারমধ্যেই সূর্য-বিমানরা আগে বেরিয়ে গেলেন। তারপর আর একপ্রস্থ চা বিস্কুট খাওয়ালেন সুজন। পপকর্ন, চা, বিস্কুট, সিনেমায়—মিলেমিশে একাকার। এই বর্ষার মুখেও সিপিএমে যেন অন্য বসন্ত। অনেকদিন পর।

You might also like