Latest News

অনুব্রতর ১০ দিনের সিবিআই হেফাজত ঘোষণা করল আসানসোলের বিশেষ আদালত

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সকাল সকাল খবর এসেছিল, সিবিআইয়ের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata Mondal)। এর পরে তাঁকে আনা হয় পশ্চিম বর্ধমানের কুলটিতে, সিবিআইয়ের একটি অস্থায়ী ক্যাম্পে। সেখানেই চিকিৎসকরা তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। এর পরে বিকেলবেলায় আসানসোলের বিশেষ আদালতে তোলা হয় গরু পাচার মামলায় অভিযুক্ত অনুব্রতকে। সেখানে তাঁর (Anubrata Mondal) ১৪ দিনের হেফাজত চায় সিবিআই হেফাজতের (CBI Custody)। অবশেষে ১০ দিনের হেফাজত মঞ্জুর করলেন বিচারক।

প্রসঙ্গত, এদিন অনুব্রতর আইনজীবীর তরফে জামিনের আবেদনই করা হয়নি আদালতে। জানা গেছে, আজ রাতেই আসানসোল থেকে কলকাতায় নিয়ে আসা হবে অনুব্রতকে। সেখানেই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

আজ সকালে বোলপুরের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করার পরে অনুব্রতকে পশ্চিম বর্ধমানের খুশকির শীতলপুরের গেস্ট হাউসে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সিবিআইয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পে কেষ্টর স্বাস্থ্য পরীক্ষা হয়। ইসিএল হাসপাতাল থেকে চিকিৎসকরা আসেন ওই ক্যাম্পে, সেখানে তাঁরা স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন অনুব্রতর। এর পর তাঁকে আসানসোলের বিশেষ সিবিআই আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়।

শুনানির সময়ে যাতে সাংবাদিকরা কোনওভাবেই ভিতরে ঢুকতে না পারে, সে জন্য সাদা পোশাকের পুলিশ আদালতের প্রবেশ পথে তালা দিয়ে দেয়। তবে অনুব্রতর আদালতে প্রবেশ করার আগে তাঁকে রীতিমতো জুতো দেখানো হয় বিরোধীদের তরফে। আসানসোলের বিশেষ আদালত চত্বরে সকাল থেকেই ভিড় করে ছিলেন বাম এবং বিজেপি কর্মী সমর্থকরা। অনুব্রত মণ্ডলের গ্রেফতারির পর তাঁদের মধ্যে উৎসবের আমেজ। কেষ্টকে আদালতে তোলার মুখে ‘চোর চোর’ বলে স্লোগানও দেন তাঁরা। ভিড়ের মধ্যে থেকে আওয়াজ ওঠে, ‘চোর চোর চোট্টা, বীরভূমের কেষ্টটা’। অনুব্রত মণ্ডল অবশ্য মুখে কুলুপ এঁটেছিলেন বরাবরই।

আদালতে অনুব্রতকে দেখেই বিক্ষোভ যেন আলাদা মাত্রা পায়। স্লোগানের ঝাঁঝ বেড়ে যায়। পা থেকে জুতো খুলে কেউ কেউ অনুব্রতর দিকে তাক করেন। তবে জুতো ছুড়ে মারা হয়নি।

আজ গ্রেফতারির আগে অন্তত দশবার সিবিআই তলব করেছিল অনুব্রত মণ্ডলকে। প্রত্যেকবারই কোনও না কোনও বাহানায় হাজিরা এড়িয়েছেন তিনি। কিছুদিন আগে সিবিআইয়ের তলব শুনে তিনি সোজা চলে গিয়েছিলেন এসএসকেএম হাসপাতালে। সেখানে তাঁর সমস্ত পরীক্ষানিরীক্ষা করে চিকিৎসকরা জানিয়ে দেন, ভর্তি করার কোনও প্রয়োজন নেই। সকলে ভেবেছিলেন, হাসপাতাল থেকে সিবিআই দফতরে যাবেন তিনি। কিন্তু গাড়ি ঘুরে যায় সল্টলেকের পথে। সেখান থেকে বোলপুরে ফিরে যান তিনি।

এর পরেই গত পরশু, মঙ্গলবার সকাল সকাল খবর আসে, বোলপুর মহকুমা হাসপাতাল থেকে এক জন চিকিৎসক ও দু’জন স্বাস্থ্যকর্মী পৌঁছে গেছেন অনুব্রতর বাড়িতে। তাঁর অর্শের সমস্যা বেড়েছে। জানা যায়, অনুব্রত নিজেই চিকিৎসককে দিয়ে কার্যত জোর করেই লিখিয়ে নেন ‘১৪ দিন বেডরেস্ট’। এর পরেই ওই হাসপাতালের চিকিৎসক ও সুপারের ভূমিকা নিয়ে ঘনায় বিতর্ক।

এখানেও শেষ নয়, গতকাল শোনা যায়, ফিসচুলা রয়েছে অনুব্রতর। তা তিনি অস্ত্রোপচার করাতে চান বলে নিজেই দরবার করেছেন বেসরকারি হাসপাতালে।

কিন্তু এসব কিছুই শেষমেশ হয়নি। আজ সকাল সকাল সিবিআইয়ের আধিকারিকরা পৌঁছে যান অনুব্রতর বাড়িতে। সঙ্গে ছিল সিআরপিএফ বাহিনী। গ্রেফতার করা হয় অনুব্রতকে। এবার ১০ দিনের সিবিআই হেফাজতের নির্দেশ হল তাঁর।

আরও পড়ুন:

একা অনুব্রত নন, বিএসএফ থেকে নবান্ন— গরু পাচারে জড়িত আরও অনেকে! দাবি সেলিমের

অনুব্রত কাঠগড়ায় উঠবেন না, আসানসোলের সিবিআই কোর্টে বসার বিশেষ ব্যবস্থা ফিসচুলায় কাতর কেষ্টর

অনুব্রতকে কুলটির সিবিআই ক্যাম্পে এসে দেখবেন চিকিৎসকরা, সেখান থেকে সোজা আদালত

ফিসচুলায় ভুগছেন অনুব্রত, এই অসুখটা কী জানেন তো?

অনুব্রত একনজরে: মুদির দোকান, ছবির সঙ্গে প্রেম, বিয়ে, প্রোমোটিং ব্যবসা ও বীরভূমের অদ্বিতীয় নেতা

অনুব্রতর পাশে থাকবে না তৃণমূল, একাই লড়তে হবে কেষ্টকে

‘অনুব্রত হাটে মাগুর মাছ বেচত’, কেষ্ট-শুভেন্দুর শঠে শাঠ্যংয়ের মূলে মেডিকেল কলেজও

অনুব্রতকে জুতো দেখতে হল আসানসোলে! কোর্টে ঢোকার মুখে বিব্রত কেষ্ট

You might also like