Latest News

গাঁজা কেসের সাজা! অনুব্রতই রাজা?

দ্য ওয়াল ব্যুরো: অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata Mondal) শিব-ভক্ত। সিবিআই হেফাজতে যাওয়ার আগে পর্যন্ত প্রতি সোমবার ১০৮টি বেলপাতা দিয়ে শিবপুজো ছিল তাঁর রুটিন। তিনি এতটাই শিবভক্ত যে নিজের রাইস মিলের নাম রেখেছিলেন ভোলে ব্যোম! সেই অনুব্রতর মুখে গাঁজা কেসের (Narcotics Case) কথা কতবার যে শোনা গিয়েছে ইয়ত্তা নেই। জন্মাষ্টমীতে সেই কেষ্ট-কথা ফিরে এল অন্য আঙ্গিকে।

এদিন অনুব্রতর রাইস মিলে একটি ফোর্ড এনডেভার গাড়ি পাওয়া গিয়েছে। তারপর সিউড়ির ব্যবসায়ী প্রবীর মণ্ডল দাবি করেছেন, কাজ ঠিকাদারির কাজ পাওয়ার জন্য ওই গাড়ি তাঁকে দিতে হয়েছিল। তাঁর নামেই গাড়ি। ভিআইপি নম্বর-সহ দাম পড়েছিল ৪৬ লক্ষ টাকা। সেই ব্যবসায়ী এও বলেছেন, ‘কাজটা যখন শেষ পর্যন্ত হল না, তখন আমি গাড়িটা ফেরত চেয়েছিলাম। আমায় তখন অনুব্রত বলেছিলেন, গাঁজা কেসে ভিতরে ঢুকবি নাকি গাড়ি চাপবি? আমি আর ভয়ে গাড়ি ফেরত চাইনি।’

এখন প্রশ্ন হচ্ছে এই গাঁজা কেসের ব্যপ্তি কত দূর?

ফেরা যাক ২০১৮ সালের ২ সেপ্টেম্বর। সেদিন বীরভূম জেলা কমিটির বৈঠক ডেকেছিলেন অনুব্রত। সেই বৈঠকেই নেতাদের উদ্দেশে কেষ্ট বলেছিলেন, “ওই যে বিল্লোগ্রামের মেয়েটার কী নাম …মোটা করে মেয়েটা, কাপড়ের দোকান আছে!” বৈঠকে থাকা এক নেতা উত্তর দেন, ওঁর নাম সঙ্গীতা চক্রবর্তী। সেই উত্তর শুনে অনুব্রতর বক্তব্য ছিল, “সঙ্গীতা! ও বিজেপি করে। ওকে অ্যারেস্ট করিয়ে দে। গাঁজা কেস দিয়ে…!”

অনুব্রতর হাতে দেড় কোটি দিয়েছিলাম, আমাদের সব শেষ হয়ে গেছে: বিস্ফোরক ব্যবসায়ী

একসময়ে সঙ্গীতা তৃণমূল করতেন। তারপর দলের মধ্যে সংঘাত থেকেই তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। সেই সঙ্গীতাকে গাঁজা কেস দিয়ে ভিতরে ঢুকিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন অনুব্রত।

তারপর আসা যাক ২০২০তে। কালীপুজোর সময়ের কথা। মঙ্গলকোটের বিধায়ক তথা মমতা মন্ত্রিসভার মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী তাঁর নির্বাচনী কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, “আমি মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখব। অনুব্রত মণ্ডল আমার লোকেদের গাঁজা কেস দিয়ে ভিতরে ঢুকিয়ে দিচ্ছে। জেলার পুলিশ ওঁর কথায় উঠছে-বসছে। আমি মন্ত্রী। আমার কথা শোনে না।”

এখানে বলে রাখা ভাল, অনুব্রত বীরভূমের জেলা সভাপতি হলেও সাংগঠনিক ভাবে পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোট ও কেতুগ্রাম বিধানসভা দেখেন তিনি। কারণ এই দুটি বিধানসভা পড়ে বোলপুর লোকসভার মধ্যে।

তাহলে কী দাঁড়াল?

যিনি তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে গিয়েছেন, তাঁকে গাঁজা কেস। সিদ্দিকুল্লা তৃণমূলের নেতা, মমতার মন্ত্রী—তাঁর লোকজনকে গাঁজা কেস। আবার গাড়ি ফেরত চাওয়ায় ঠিকাদারকেও হুমকি—গাঁজা কেসেরই!

বিরোধীদের অভিযোগ, অনুব্রত কাউকে কেস দেওয়ার কথা বলা মানেই ছিল মহামান্যের রায়। থানা পুলিশ দেরি করত না কেস দিতে। বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষের দাবি, অনুব্রতর কথায় বীরভূমের অন্তত ৭০০ জনকে গাঁজা কেস দেওয়া হয়েছে।

আবার প্রবীণ কংগ্রেস নেতা আবদুল মান্নান এদিন বলেন, বিক্ষিপ্ত ভাবে গাঁজা কেস দেওয়ার ঘটনা কমবেশি সব জেলাতেই হয়েছে। কিন্তু অনুব্রত স্বৈরাচারী শাসকের মতো মঞ্চ থেকে গাঁজা কেস দেওয়ার হুমকি দিতেন। যেন তিনিই রাজা তিনিই মন্ত্রী তিনিই আইন।

এখন প্রশ্ন হল, সব ছেড়ে অনুব্রত কেন গাঁজা কেসের কথা বলতেন?

আসলে নারকোটিক্স আইন এমনই কঠোর, গাঁজা মামলায় একবার কেউ গ্রেফতার হলে তাঁর জামিন পাওয়া মুশকিল। অর্থাৎ একটা বড় সময় জেলের ভাত খাওয়ার বন্দোবস্ত হয়ে যাওয়া।

অনেকের মতে, একেই বলে সময়ের ফের। একদিন যে অনুব্রত গাঁজা কেস দিয়ে ভিতরে ঢুকিয়ে দেওয়ার হুমকি দিতেন, আজ সেই তিনিই নিজাম প্যালেসে। সিবিআই হেফাজতে। যে অনুব্রতর পরিবার, মেয়েকে ঘিরে থাকত নিরাপত্তারক্ষীরা, কেউ কথা বলার সাহস পেত না, আজ সেই তাঁর মেয়েকেই হাইকোর্টে শুনতে হচ্ছে ‘গরু চোরের মেয়ে!’ রাজনীতিতে বোধহয় সময়টাই শেষ কথা। যার সঙ্গে সঙ্গে অনেক ছবি বদলে যায়।

You might also like