Latest News

দেশবিরোধী শক্তি ছড়াচ্ছে ঘৃণা ও হিংসা, গণতন্ত্রের ওপরে বাড়ছে একনায়কতন্ত্রের প্রভাব, মন্তব্য সনিয়ার

দ্য ওয়াল ব্যুরো : শনিবার ছত্তিসগড়ের নতুন বিধানসভা ভবনের ভূমিপূজন হয়। সেই উপলক্ষে মুখ্যমন্ত্রী ভূপেশ বাগেল ও প্রশাসনের অন্যান্য কর্তার উদ্দেশে ভাষণ দেন কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গান্ধী। তাঁর রেকর্ড করা ভাষণ বাজিয়ে শোনানো হয়। তিনি বলেন, “দেশবিরোধী শক্তি ঘৃণা প্রচার করছে। তারা হিংসার বিষ ছড়াচ্ছে। গণতন্ত্রের ওপরে বাড়ছে একনায়কত্বের প্রভাব।”

পরে তিনি বলেন, কোনও কোনও শক্তি দেশকে সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত করতে চাইছে। তাঁর কথায়, “স্বাধীনতার পর থেকে আমরা অনেক পথ পেরিয়ে এসেছি। আমরা বহু সমস্যার মুখোমুখি হয়েছি। সেগুলো সমাধানও করেছি। কিন্তু আমাদের পূর্বপুরুষরা যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, তা পূরণ হতে এখনও অনেক বাকি আছে।” এরপরে কংগ্রেস সভানেত্রী বলেন, “গত কয়েক বছর ধরে দেশকে সঠিক পথ থেকে সরানোর চেষ্টা চলছে। আমাদের দেশ এখন দাঁড়িয়ে আছে সন্ধিক্ষণে। যে শক্তিগুলি গরিবের শত্রু, দেশের শত্রু, তারা মানুষকে একে অপরের বিরুদ্ধে লড়িয়ে দিচ্ছে। তারা ঘৃণা ও হিংসা ছড়িয়ে চলেছে।”

সনিয়া এদিন কোনও দলের নাম করেননি। কিন্তু কিছুদিন আগেই ফেসবুকের মাধ্যমে ঘৃণা ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে। গত সপ্তাহে মার্কিন সংবাদপত্র ওয়াল স্ট্রিট জানায়, ব্যবসায়িক লাভের কথা মাথায় রেখে এক বিজেপি নেতার ঘৃণা ছড়ানোর বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেয়নি ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। এই রিপোর্টকে সামনে রেখে বিজেপি ও আরএসএসের বিরুদ্ধে আক্রমণ হানেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। বলেন, ভারতে ফেসবুক-হোয়াটসঅ্যাপকে নিয়ন্ত্রণ করছে বিজেপি আরএসএস। তথ্যপ্রযুক্তি সংক্রান্ত সংসদীয় স্ট্যান্ডিং কমিটির প্রধান হিসাবে কংগ্রেস এমপি শশী থারুর চেয়েছিলেন, ফেসবুকের কোনও প্রতিনিধিকে ডাকা হোক। স্ট্যান্ডিং কমিটি এবিষয়ে তাঁর বক্তব্য শুনুক।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে একটি নির্দিষ্ট ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, তেলেঙ্গানার বিজেপি বিধায়ক টি রাজা প্রকাশ্যে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে হিংসার কথা বলেছিলেন। সেই বক্তব্য ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছিল দাবানলের মতো। কিন্তু কোনও ব্যবস্থাই হয়নি। কেন হয়নি তাও উল্লেখ করেছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছ, ভারতে ফেসবুকের পাবলিক পলিসি বিষয়ক আধিকারিক আঁখি দাস মূলত পদক্ষেপের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। সেখানে বলা হয়, “টি রাজার বক্তব্য ছিল হিংসা ও উস্কানিতে ভরা। তবু ফেসবুক ব্যবস্থা নেয়নি। এটা এক ধরনের কেন্দ্রের শাসকদলের হয়ে পক্ষপাতিত্বমূলক আচরণ।”

যদিও এই অভিযোগ ওঠার পরে ফেসবুকের তরফে মুখপাত্র অ্যান্ডি স্টোন বলেন, “আমরা ঘৃণা ছড়ানোর নিন্দে করি, সেটা যে কোনও রাজনৈতিক দল বা তাঁর যে কোনও রাজনৈতিক অবস্থান হোক না কেন। এই ধরনের বার্তা আমরা ছড়াই না। গোটা বিশ্বজুড়ে এই ক্ষেত্রে আমাদের পলিসি একই রয়েছে। আমরা জানি এখনও কিছু কাজ বাকি, সেই কাজই করছি আমরা। যাতে আরও স্বচ্ছভাবে এই সোশ্যাল মিডিয়া চালানো যায়, সেই কাজই করা হচ্ছে।”

You might also like