Latest News

মানসিক চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি অন্ধ্রের প্রহৃত চিকিৎসক! সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ পরিবারের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক চিকিৎসককে জামা খুলে হাত বেঁধে পুলিশ মারছে, এই ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল গতকাল অর্থাৎ রবিবারই। জানা গেছিল, তাঁকে মারধর করার অপরাধে সাসপেন্ডও করা হয়েছে ওই পুলিশকর্মীকে। আজ, সোমবার অন্ধ্রের সেই প্রহৃত চিকিৎসক কে সুধাকরকে গ্রেফতার করে রুজু করা হল মামলা। সেইসঙ্গেই তাঁর মানসিক চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে কিং জর্জ হাসপাতালে।

বিশাখাপত্তনমের পুলিশ কমিশনার আরকে মিনা জানিয়েছেন, নরসিপত্তনম হাসপাতালের অ্যানাস্থেসিস্ট হিসেবে কাজ করতেন ওই চিকিৎসক। সরকাররের বিরুদ্ধে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে এপ্রিল মাসের ৮ তারিখে সেই হাসপাতাল থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল তাঁকে। এখন তিনি মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত, তাঁর নিজেরই চিকিৎসা চলছে সরকারি হাসপাতালে।

সোমবার চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দিনের পর দিন স্ট্রেস নিতে নিতে মানসিক স্থিতি হারিয়েছেন ওই চিকিৎসক। তার উপরে তিনি নানা কারণে ক্ষুব্ধ সরকারের উপরে। সেই ক্ষোভ বাইরে বের করতে না পারায় ওই কাণ্ড ঘটিয়েছেন তিনি বলে অনুমান।

চিকিৎসক সুধাকরের মা কাবেরীদেবী অভিযোগ করেছেন, সরকারের গাফিলতির বিরুদ্ধে সরব ছিল তাঁর ছেলে। চিকিৎসকদের পর্যাপ্ত এন ৯৫ মাস্ক ও পিপিইকিট নেই কেন– এই প্রশ্ন তুলেছিলেন। এই জন্যই তাঁকে পাগল প্রমাণ করার চেষ্টা করা হচ্ছে সরকারের তরফে। তিনি জানান, তিনি নিজের দায়িত্বে ছেলেকে নিয়ে বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করতে চান। সরকারের উপর তাঁর আস্থা নেই।

অভিযোগ উঠেছে, এই দাবি তোলার অপরাধেই সরকারি রোষের মাসুল দিতে হয়েছে তাঁকে। ঘটনার ভিডিও সামনে আসতেই গোটা অন্ধ্রপ্রদেশ জুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জগন্মোহন রেড্ডির বিরুদ্ধেও সরব হয়েছে বিরোধী দলগুলি।

আরও পড়ুন: সরকারের বিরুদ্ধে সরব হওয়ার মাসুল! জামা খুলে, হাত বেঁধে বেদম মার অন্ধ্রের চিকিৎসককে, সাসপেন্ড পুলিশকর্মী

সুধাকরের স্ত্রী মঞ্জরীও জানান, ন্যায্য দাবি করার জন্য সাসপেন্ড হতে হয় তাঁকে। তাই নিয়ে হতাশায় ভুগছিলেন সুধাকর। সেই জন্যই আজ এমন পরিস্থিতি হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর।

পুলিশ জানিয়েছে, সরকারি কর্মচারীকে কাজে বাধা দেওয়া অর্থাৎ ৩৫৩ ধারায় মামলা রুজু হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের ৪২৭ ধারাও যোগ হয়েছে সেই সঙ্গে।

একটি ভিডিওয় ধরা পড়েছিল, একদল পুলিশের উদ্দেশে চিৎকার করছেন অভিযুক্ত ওই চিকিৎসক। অভিযোগ করছেন, পুলিশরা মুখ্যমন্ত্রীর হয়ে কাজ করে, দলিতদের হত্যা করে। এর পরেই আরও একটি ভিডিওয় সামনে আসে, শরীরের ওপরের অংশে কোনও পোশাক নেই ওই চিকিৎসকের। তাঁর হাত দু’টি পিছমোড়া করে বাঁধা। তাঁকে রাস্তায় হিঁচড়ে বেদম মারধর করছে একাধিক পুলিশ। এর পরে এক পুলিশকর্মীকে সাসপেন্ডও করা হয়।

পুলিশ দাবি করেছে, ১০০-তে ফোন করে এক ব্যক্তি জানিয়েছিলেন, মদ খেয়ে অশালীন আচরণ করছেন কোনও এক জন। পুলিশের দাবি, তাঁরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই চিকিৎসককে আবিষ্কার করেন মত্ত অবস্থায়। পুলিশ দেখেই আরও বেশি গালি দিতে শুরু করেন ওই চিকিৎসক, উন্মত্ত আচরণ করতে থাকেন। পুলিশের দাবি, রাস্তায় চলন্ত ট্রাকের সামনে চলে যাচ্ছিলেন ওই চিকিৎসক। তখনই তাঁকে সামলানোর জন্য পুলিশ সক্রিয় হয় বলে দাবি। কিন্তু জামা খুলে, হাত বেঁধে মারার যুক্তি কী, তা নিয়ে কিছু বলতে পারেনি পুলিশ।

You might also like