Latest News

মোদীজি শিবের মতো বিষপান করে এখন সোনার মতো খাঁটি: শাহ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: গুজরাত দাঙ্গার (Gujarat Violence) মামলায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে শুক্রবার ক্লিনচিট দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট (SC Verdict)। সর্বোচ্চ আদালতের ওই রায় নিয়ে মুখ খুলেছেন প্রধানমন্ত্রীর বিশ্বস্ত সৈনিক অমিত শাহ (Amit Shah On Modi)। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একটি সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ২০০২-এর গুজরাত দাঙ্গা এবং সুপ্রিম কোর্টের শুক্রবারের রায়ের প্রসঙ্গে বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী গত ১৮-১৯ বছর ধরে শিবের মতো বিষপান করে গিয়েছেন। এখন তিনি খাঁটি সোনার মতো জ্বলজ্বল করছেন।

সর্বোচ্চ আদালতের রায়কে হাতিয়ার করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, এবার চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হল যে এই অভিযোগগুলি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল। বলেন, আমি মোদীজিকে খুব কাছ থেকে এই যন্ত্রণার মুখোমুখি হতে দেখেছি। একমাত্র শক্ত মনের মানুষই এমন অবস্থান নিতে পারেন।

Amit Shah On Modi

গোটা সাক্ষাৎকারে কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট বুঝিয়ে দিয়েছেন, গুজরাত দাঙ্গা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের শুক্রবারের রায় তাঁদের জন্য কত বড় নির্বাচনী হাতিয়ার হতে যাচ্ছে। মোদী জমানায় বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে মুসলিমদের প্রতি দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকের মতো আচরণ করার অভিযোগ উঠেছে। বুলডোজার বিচারের লক্ষ্যও মূলত মুসলিমরা, উঠেছে সেই অভিযোগও। এছাড়া, নূপুর শর্মার ইসলামের নবীকে নিয়ে আপত্তিজনক মন্তব্য এবং তার জেরে উত্তরপ্রদেশ-সহ বিজেপি শাসিত রাজ্যে দাঙ্গার ঘটনায় কেন্দ্রের শাসকদল খানিক বিপাকে। বিজেপি মনে করছে, গুজরাত দাঙ্গায় প্রধানমন্ত্রীকে ক্লিনচিট বাকি অভিযোগগুলি খণ্ডন করতে তাদের সুবিধা করে দেবে। স্বয়ং মোদী ২০১৩ থেকে গুজরাত দাঙ্গা নিয়ে একটি কথাও বলেননি প্রকাশ্যে। দাঙ্গায় তাঁর নাম জুড়ে আছে বলেই তাদের এনডিএ-র প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসাবে মানতে না পেরে জোট ছেড়ে বেরিয়ে যান বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার। অন্যদিকে, মোদী কৌশল নেন, তিনি গুজরাত দাঙ্গার বিষয়ে রাজনৈতিক মঞ্চে আর পাল্টা আত্রমণে যাবেন না। যা হওয়ার আদালতে হবে।

অমিত শাহের অভিযোগ, বিজেপি বিরোধী রাজনৈতিক দল, মতাদর্শের জন্য রাজনীতিতে আসা কিছু সাংবাদিক এবং কয়েকটি এনজিও মিলে অভিযোগগুলি করেছিল এবং প্রচার এতটাই শক্তিশালী ছিল যে ধীরে ধীরে সবাই মিথ্যাকে সত্য বলে মেনে নিতে শুরু করেছিল।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা খারিজ করে দেয় সুপ্রিম কোর্ট। মামলার বিষয় ছিল, ২০০২ সালের গুজরাত দাঙ্গায় গুজরাতের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ক্লিনচিট দেওয়া এসআইটি রিপোর্টকে চ্যালেঞ্জ করে।

মামলাকারী ছিলেন দাঙ্গায় নিহত প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ এহসান জাফরির স্ত্রী জাকিয়া জাফরি। জাকিয়ার অভিযোগ ছিল, দাঙ্গায় যুক্ত ছিলেন স্বয়ং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মোদী। শুক্রবারের রায়ের সময় সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, জাকিয়ার মামলার কোনও ভিত্তি নেই।

গুজরাত দাঙ্গায় একাধিক মামলার একটি ছিল জাকিয়ার মামলা। দাঙ্গায় তাঁর ৭২ বছর বয়সি স্বামী নিহত হন। উত্তর আমদাবাদের গুলবার্গ সোসাইটির বাড়ি থেকে দাঙ্গাবাজরা তাঁকে টেনে বের করে খুন করে বলে অভিযোগ। দাঙ্গার ষড়যন্ত্রের মামলায় নিম্ন আদালতের বিচারকের সিদ্ধান্ত প্রথমে চ্যালেঞ্জ করেন জাকিয়া। মামলাটি গুলবার্গ সোসাইটি মামলা হিসাবেও পরিচিত। নিম্ন আদালত থেকে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত টানা দু-দশক লড়াই চালিয়ে গিয়েছেন জাকিয়া।

ওই ঘটনায় একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের আর্জি মেনে তখনকার গুজরাত সরকার স্পেশ্যাল ইনভেস্টিগেশন টিম (সিট) তৈরি করেছিল। নিম্ন আদালতের বিচারক সিটের দেওয়া ক্লোজার রিপোর্ট গ্রহণ করেছিলেন। তাতে যেখানে দাঙ্গার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ থেকে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সহ ৬৩ জনকে নির্দোষ সাব্যস্ত করা হয়েছিল। হাইকোর্টও সেই রায় বহাল রাখে।

শুক্রবার সুপ্রিম কোর্ট আরও বলে, জাকিয়া জাফরি অন্য কারও নির্দেশে কাজ করতেন। এনজিও অনেক ভুক্তভোগীর অজ্ঞাতে তাদের তরফে হলফনামায় স্বাক্ষর করেছে।

অমিত শাহের বক্তব্য, সবাই জানে যে তিস্তা সেতালভাদের এনজিও এইসব করছিল এবং সেই সময়ের ইউপিএ সরকার এনজিওগুলিকে অনেক সাহায্য করে। এবং সবটাই করা হয়েছিল মোদীজির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য।

সাক্ষাৎকারে অমিত শাহ বলেছেন, সিট গঠনের আর্জি আসতেই আমরা তা গ্রহণ করেছিলাম। আদালতের রায়ে স্পষ্ট, একজন পুলিশ কর্মকর্তা, একটি এনজিও এবং একটি রাজনৈতিক দল চাঞ্চল্য সৃষ্টি করতে মিথ্যাচার করেছিল। আদালতের রায়ে আরও প্রমাণিত হয়েছে যে সরকার দাঙ্গা বন্ধে যথাসাধ্য চেষ্টা করেছে।

অমিত শাহ বলেন, গুজরাতে দাঙ্গা হয়নি, একথা আমরা বলিনি। দেশের অনেক জায়গায় দাঙ্গা হয়েছে। কিন্তু, কংগ্রেস শাসনের যে কোন পাঁচ বছরের তুলনায় বিজেপির পাঁচ বছরের শাসনে দাঙ্গা কম। কত ঘণ্টার কারফিউ ছিল, কত লোক নিহত হয়েছিল, কত দিন স্বাভাবিক জনজীবন স্তব্ধ ছিল, কত দিন দাঙ্গা চলে, এসব তুলনা করলেই জানা যাবে কার শাসনামলে দাঙ্গা বেশি হয়েছিল।

You might also like