Latest News

পুলিশ ও আধাসেনার কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক অমিত শাহের, আলোচনা কাশ্মীর নিয়ে

দ্য ওয়াল ব্যুরো : জম্মু-কাশ্মীরে (Kashmir) গত কয়েক সপ্তাহে খুন হয়েছেন ১১ জন নিরীহ মানুষ। তাঁদের মধ্যে পাঁচজন গিয়েছিলেন ভিন রাজ্য থেকে। এই পরিস্থিতিতে সোমবার পুলিশ ও আধা সেনার কর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। কোভিড অতিমহামারী শুরু হওয়ার পরে এই প্রথমবার নিরাপত্তারক্ষী সংস্থাগুলির সঙ্গে মুখোমুখি বৈঠকে বসলেন অমিত।

সোমবারই কাশ্মীরের কুলগামে দু’জনকে গুলি করে মারে জঙ্গিরা। তাঁরা গিয়েছিলেন বিহার থেকে। পুলিশের ধারণা, জঙ্গিরা ভিন প্রদেশ থেকে আসা মানুষজনকে কাশ্মীর উপত্যকা থেকে তাড়িয়ে দিতে চায়। সম্ভবত আগামী ২২ অক্টোবর কাশ্মীরে যাচ্ছেন অমিত। সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল করার পরে এই প্রথমবার তিনি সেখানে যাবেন।

কিছুদিন আগে গোয়েন্দারা খবর দেন, উপত্যকায় জঙ্গিদের হাতে অস্ত্রশস্ত্র পৌঁছে দিতে ড্রোন পাঠাচ্ছে পাকিস্তান। লস্কর-ই-তৈবা ও জইশ-ই-মহম্মদের নিশানায় অকাশ্মীরি ও মুসলিমরাও রয়েছে।

জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ জানাচ্ছে, সীমান্তে জঙ্গি অনুপ্রবেশ বাড়ছে। নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে ঢুকছে লস্কর জঙ্গিরা। সম্প্রতি পুঞ্চ ও রাজৌরি সেক্টরে জঙ্গি অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেছে। গত কয়েকদিন ধরে লাগাতার অশান্ত সীমান্ত। সেনা-জঙ্গি গুলি বিনিময় চলছে দফায় দফায়।

সম্প্রতি জঙ্গি দমন অভিযানে বড় সাফল্যও পেয়েছে ভারতীয় বাহিনী। রিপোর্ট বলছে, চলতি বছর ১৫ জুলাই অবধি মোট ৮৬ জন জঙ্গি নিকেশ হয়েছে উপত্যকায়। মোট ১৬টি এনকাউন্টার হয়েছে। যার মধ্যে জুলাই মাসেই গত ২০ দিনে ১০ বার জঙ্গি দমন অভিযান চালিয়েছে সেনাবাহিনী। খতম হয়েছে ২০ জন জঙ্গি, যাদের মধ্যে চারজন পাকিস্তানের বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক সীমান্তের ধারে ড্রোনের আনাগোনা লক্ষ করা যাচ্ছে প্রায়ই। কিছুদিন আগে জম্মু এলাকায় ভারতীয় বায়ুসেনার বিমানঘাঁটিতে পাক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবা ড্রোন হামলা চালায়। এর পর থেকেই কাশ্মীরের বিভিন্ন এলাকায় জঙ্গিদের খোঁজে তল্লাশি ও এনকাউন্টার চালাচ্ছে ভারতীয় বাহিনী। জঙ্গিদের হাতে আধুনিক অস্ত্র রয়েছে।  চিনে তৈরি প্রচুর অস্ত্রশস্ত্র পাওয়া গেছে জঙ্গিদের কাছে। তার মধ্যে রয়েছে গ্রেনেড, চাইনিজ ব্ল্যাক স্টার পিস্তল, রাইফেল, নাইট্রোসেলুলোজ বিস্ফোরক ইত্যাদি। এই ধরনের বিস্ফোরক গত বছর পুলওয়ামা সেনা কনভয়ে হামলার জন্য ব্যবহার করা হয়েছিল।

ভারতীয় সেনা সূত্র জানাচ্ছে, নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর ৩৪৩.৯ কিলোমিটার সীমান্ত জুড়ে সেনার সংখ্যা প্রায় তিনগুণ করা হয়েছে। ভারতীয় বাহিনীর তিনটি ব্যাটেলিয়ন দিবারাত্র সীমান্তে নজর রেখে বসে আছে। সেনাদের হাতেও রয়েছে আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র। রাতের অন্ধকারে চোরাগোপ্তা পথে জঙ্গিদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে উন্নতমানের ক্যামেরা ও সেন্সর বসানো হয়েছে। সীমান্তের ওপার থেকে ভারতের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় ঢোকার চেষ্টা করলে সঙ্গে সঙ্গেই টের পেয়ে যাবেন সেনা জওয়ানরা।

You might also like