Latest News

Amit Shah: পিছিয়ে গেল অমিত সফর, বাংলায় তিন দিনের বদলে থাকবেন একদিন

দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের (Amit Shah) বঙ্গসফর (Bengal Tour) একদিনের জন্য পিছিয়েছে। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী তাঁর কলকাতা আসার কথা ছিল বুধবার। সকালে কলকাতায় পৌঁছে হিঙ্গলগঞ্জে বিএসএফের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা ছিল তাঁর। তারপর বিকেলে তাঁর পৌঁছে যাওয়ার কথা ছিল শিলিগুড়িতে। নতুন যে সফরসূচি কলকাতায় এসেছে মঙ্গলবার সন্ধেয়, তাতে শুধুমাত্র দেখা যাচ্ছে যে ৪ তারিখের পরিবর্তে তিনি ৫ তারিখ কলকাতায় আসছেন এবং তিনদিনের জায়গায় তাঁর আপাতত একদিনেরই সফরসূচির কথা জানানো হয়েছে।

সেই সফরসূচি অনুযায়ী অমিত শাহ (Amit Shah) হিঙ্গলগঞ্জ, কল্যাণী এবং হরিদাসপুর- এই তিনটি সীমান্ত চৌকিতে বিএসএফের অফিসার-কর্মীদের সঙ্গে মিলিত হবেন। বিএসএফের একটি মিউজিয়ামও উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। তারপর দেখা যাচ্ছে যে, বিকেল ৪:১৫ নাগাদ তাঁর আবার কলকাতায় ফিরে আসার সূচি রয়েছে।

আরও পড়ুন: ‘হিন্দি আমাদের রাষ্ট্রভাষা নয়, সংবিধানে এর উল্লেখ নেই’! ভাষা-বিতর্কে সুর চড়ালেন সোনু নিগম

সীমান্ত সফরে তিনি হেলিকপ্টারে যাতায়াত করবেন বলেই নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু তাঁর যে রাজনৈতিক কর্মসূচি উত্তরবঙ্গে ঘোষিত ছিল, সেই ব্যাপারে কিন্তু এদিন রাত পর্যন্ত কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক থেকে কোনও স্পষ্ট সূচি পাঠান হয়নি। ফলে বিজেপি রাজ্য নেতৃত্ব খানিকটা এব্যাপারে বিভ্রান্ত।

অমিত শাহের কর্মসূচির মধ্যে ছিল যে, ৬ তারিখ তিনি দিল্লি ফিরে যাওয়ার আগে রাজারহাটের একটি পাঁচতারা হোটেলে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি (BJP) সাংসদ এবং বিধায়কদের সঙ্গে মিলিত হবেন। তারপর বিজেপির কর্মকর্তা অর্থাৎ রাজ্য কমিটি, জেলা কমিটি এবং কিছু মণ্ডল সভাপতিদের সঙ্গে রাজ্যে বিজেপির সংগঠন সংক্রান্ত বিষয়ে শাহ আলোচনা করবেন বলে ঠিক ছিল।

কিন্তু সেই কর্মসূচি বাতিল হয়েছে নাকি থাকছে, এ ব্যাপারে আজ এখনও পর্যন্ত কোনও স্পষ্ট আভাস নেই। কারণ, সরকারিভাবে এখনও অবধি ৫ তারিখের প্রোগ্রামের সূচি পাঠান হয়েছে। সেখানে আবার বিকেল ৪:১৫ এর পর তাঁর কী কর্মসূচি রয়েছে, সেটিও স্পষ্ট নয়। সূচি অনুযায়ী, অনুষ্ঠান শেষে বিকেল ৪:১৫-তে কলকাতা বিমানবন্দরে ফিরবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

ফলে শাহের সফরসূচি ক’দিনের, তাতে কী কী থাকছে এসবকিছু নিয়েই এখন খানিকটা ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। আগের সূচি অনুযায়ী তাঁর ঠিক ছিল যে তিনি ৪ তারিখ বিকেলবেলা কলকাতায় আসবেন। পরদিন সকালে তাঁর যাওয়ার কথা ছিল হিঙ্গলগঞ্জে। সেখান থেকে কলকাতায় ফিরে এসে অমিত শাহের চলে যাওয়ার কথা ছিল উত্তরবঙ্গে। সেখানে শিলিগুড়িতে তাঁর একটি প্রকাশ্য সভা এবং ঘরোয়া সাংগঠনিক বৈঠক করার কথা। এছাড়া ছিল যে, তিনি দার্জিলিংয়েও একটি ঘরোয়া বৈঠক করবেন।

আরও পড়ুন: সকালে মমতার ফোন, বিকেলে চাকরি প্রার্থীদের সঙ্গে শিক্ষা দফতরের কথা, মিলল কি সমাধান?

এরপর ৬ তারিখে শিলিগুড়ি থেকে কোচবিহারের তিনবিঘায় যাওয়ার কথা ছিল তাঁর। সেখানেও বিএসএফের অনুষ্ঠানে তিনি অংশ নেবেন বলে ঠিক ছিল। সেখান থেকে দুপুর দুপুর রওনা হয়ে বাগডোগরা হয়ে তিনি কলকাতায় ফিরে আসবেন বলেই সূচিতে জানান হয়েছিল। এবং তারপর রাজারহাটে সেই হোটেলে দলীয় বিধায়ক, সাংসদ এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে দিল্লি ফিরে যাবেন।

কিন্তু এখন সন্ধের পরের পরিস্থিতিতে দেখা যাচ্ছে যে, অমিত শাহের কর্মসূচি প্রথমত তিনি একদিন পরে আসছেন কিন্তু তার বিনিময়ে তাঁর কর্মসূচি তিনদিনের থাকছে না দুদিনে নেমে আসছে সেটা স্পষ্ট নয়। তেমনই ৫ তারিখ ছাড়া বাকি দিনগুলির কর্মসূচি কী হবে, তা নিয়েও ধোঁয়াশা রয়েছে বিজেপি শিবিরের অন্দরেই।

এখন এর সঙ্গে রাজ্য বিজেপির অন্দরে চলতি ঘরোয়া দ্বন্দ্ব, ভোট বিপর্যয়, নেতৃত্ব নিয়ে বিক্ষোভের কোনও প্রভাব আছে কিনা বা এসবকিছু মাথায় রেখে শাহের সফর ঠিক হচ্ছে, সেই প্রশ্নও দলের মধ্যে উঠতে শুরু করেছে।

ইতিমধ্যেই, রানাঘাট ও বনগাঁ লোকসভা এলাকার বিজেপির ন’‌জন বিধায়ক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে চিঠি পাঠাচ্ছেন। জানতে চাইছেন, সিএএ কবে কার্যকর হবে। এই সফরেই ওই ন’জন বিধায়ক ঠিক করেছেন, বৈঠকেও তাঁরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে এই প্রশ্নের মুখে ফেলবেন। জবাব চাইবেন, সিএএ নিয়ে আর কতদিন অপেক্ষ করতে হবে তাঁদের? তাঁরা প্রত্যেকেই মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষ। নাগরিকত্বের ইস্যুতেই যাঁরা রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েছেন।

তাঁদের অন্যতম হরিণঘাটার বিধায়ক অসীম সরকার মঙ্গলবার ‌দ্য ওয়াল-কে বলেন, ‘‌আমি উদ্বাস্তু পরিবারের সন্তান। মানুষকে কথা দিয়েছিলাম ভোটে জিতে তাঁদের নাগরিকত্ব আদায় করে দেব। মানুষ আমাদের বিশ্বাস করেছে। কিন্ত আমরা বিশ্বাসের মর্যাদা দিতে পারছি না।’‌ একইসঙ্গে তাঁর প্রশ্ন, ‘‌২০১৯-এর ১০ ডিসেম্বর লোকসভায় সিএএ পাশ হয়েছে। ১১ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতি বিলে সম্মতি দেন। ১২ ডিসেম্বর আইন কার্যকর করতে বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছে। তাহলে এখনও তা বাস্তবায়িত হচ্ছে না কেন? দু বছর ধরে কী হল?’

এখানেই থামেননি অসীমবাবু। এরপর তিনি আরও বলেন, ‘‌দলকে আমি জানিয়ে দিয়েছি, সিএএ কার্যকর করা না হলে ২০২৪–এ আমি লোকের দুয়ারে ভোট চাইতে যেতে পারব না। কথা রাখতে না পারলে কোন মুখে তাঁদের কাছে ভোট চাইব। আমি নিজেও উদ্বাস্তু। উদ্বাস্তুদের স্বার্থ নিয়ে আন্দোলন করে এতদূর এসেছি, তাঁদের সঙ্গে বেইমানি করতে পারব না।’‌

এরকমই অসীম সরকারের মত আরও নানাজনের কিন্তু নানারকম সমস্যা এবং ক্ষোভের বিষয়টি আছে। ফলে অমিত শাহের সফরসূচি ঘিরে যে একটা জটিলতা তৈরি হয়েছে, অনেকেই কিন্তু মনে করছেন তার সঙ্গে রাজ্য বিজেপির অন্দরে এই যে অসন্তোষের চোরাস্রোত বইছে তা কোনওভাবে প্রভাব ফেলছে।

You might also like