Latest News

পার্ক সাকার্স থেকে কলকাতা মেডিক্যাল, অ্যাম্বুল্যান্স ভাড়া ৯ হাজার, রোগীর পরিবারের পাশে ডাক্তাররা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পার্ক সার্কাসের ইনস্টিটিউট অব চাইল্ড হেল্থ থেকে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ অবধি দূরত্ব প্রায় ৬ কিলোমিটারের কাছাকাছি। এই পথ যেতেই ৯ হাজার টাকা হেঁকে বসল অ্যাম্বুল্যান্স চালক। দুই শিশুকে নিয়ে তখন অসহায় পরিবার। দু’টো বাচ্চার শরীরেই করোনার সঙ্গে ডেঙ্গি ও এনসেফেলাইটিসের সংক্রমণ রয়েছে। এই অবস্থায় অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন ডাক্তাররা।

প্রবল জ্বর ও অন্যান্য উপসর্গ নিয়ে ইনস্টিটিউট অব চাইল্ড হেলথে ভর্তি হয়েছিল দুটি শিশু। সূত্রের খবর, একটি শিশুর শরীরে ডেঙ্গি শক সিন্ড্রোমের পাশাপাশি করোনার সংক্রমণ ধরা পড়েছিল। অন্য শিশুটি এনসেফেলাইটিসের সঙ্গেই কোভিড পজিটিভ ছিল। দুই শিশুরই চিকিৎসা হয় ইনস্টিটিউট অব চাইল্ড হেলথে।

ডেঙ্গি ও এনসেফেলাইটিসের সংক্রমণ সারিয়ে দুটি শিশুরই শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। এরপরে করোনার চিকিৎসার জন্য তাদের কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে রেফার করা হয়। পার্ক সার্কাসের হাসপাতাল থেকে কলকাতা মেডিক্যালে শিশু দুটিকে নিয়ে যাওয়ার সময়েই বিপত্তি বাঁধে।

আরও পড়ুন:ডেঙ্গি-এনসেফেলাইটিসের সঙ্গে করোনা, দুই শিশুকে সুস্থ করতে লড়াই চলছে কলকাতা মেডিক্যালে

শিশুদের পরিবার জানিয়েছে, যে অ্যাম্বুল্যান্সে করে কলকাতা মেডিক্যালে যাওয়ার কথা ছিল, সেই অ্যাম্বুল্যান্সের চালক এক পরিবারের কাছ থেকে ৯ হাজার টাকা ও অন্য পরিবারের থেকে ৬ টাকা চেয়েছিল। এত টাকা দেওয়ার সামর্থ দুই পরিবারেরই ছিল না। অভিযোগ, এর থেকে কম টাকায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কথা বললে অ্যাম্বুল্যান্সের চালক নাকি গালিগালাজ শুরু করে। শেষে টাকা কমিয়ে ৯ হাজারে দাঁড়ায়।

হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে, দুটি শিশুর একজনের শরীরে ডেঙ্গি শক সিন্ড্রোম উইথ করোনা ছিল এবং অন্যজনের এনসেফেলাইটিসের সঙ্গে করোনা ছিল। দু’জনেরই ডেঙ্গি ও এনসেফেলাইটিসের সংক্রমণ সারানো হয়। শিশুদের অবস্থা স্থিতিশীলই ছিল। এরপরে যাতে করোনার সংক্রমণ ছড়িয়ে না পড়ে তার জন্য দ্রুত কলকাতা মেডিক্যালে রেফার করা হয়েছিল। মেডিক্যাল কলেজ থেকেও জানানো হয়েছিল বেড খালি আছে, অতএব ভর্তি নিতে কোনও সমস্যা নেই।

“পার্ক সার্কাস থেকে কলকাতা মেডিক্যালে যাওয়ার গাড়ি অত রাতে পাচ্ছিলাম না। একটি অ্যাম্বুল্যান্স সেই সময় হাসপাতালে রোগী নামাতে আসে। তার চালক কলকাতা মেডিক্যালে নিয়ে যেতে রাজি হলে আমরা উঠে পড়ি। গাড়িতে ওঠার পরেই চালক অত টাকা ভাড়া চেয়ে বসে। এত টাকা যে দিতে হবে সে ধারণা ছিল না,” অভিযোগ একটি শিশুর পরিবারের।

অ্যাম্বুল্যান্স চালকের সঙ্গে তর্কাতর্কি শুরু হয়ে যায়। দুই শিশুর পরিবারই জানিয়েছে, অনেক অনুরোধের পরেও চালক রাজি না হওয়ায় এগিয়ে আসেন হাসপাতালের ডাক্তাররা। তাঁরাই অন্য অ্যাম্বুল্যান্ডের খোঁজ করেন। শেষে পাঁচ হাজার টাকায় রফা হয়। ডাক্তাররা দু’হাজার টাকা দিয়ে সাহায্য করেন।

You might also like