Latest News

ফের নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ! তৃণমূল পরিচালিত কালনা পুরসভায় বিক্ষোভ চাকরিপ্রার্থীদের

দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: ফের দুর্নীতির (corruption) অভিযোগ তৃণমূল (TMC) পরিচালিত পুরসভায়। যা নিয়ে শনিবার সকাল থেকে ক্রমশ উত্তেজনা ছড়াল কালনা পুরসভার (Kalna Municipality) বাইরে। সূত্রের খবর, সেই পুরসভায় কর্মী নিয়োগে দুর্নীতি ও স্বজনপোষণের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ (agitation) দেখিয়েছেন চাকরিপ্রার্থী ও অস্থায়ী কর্মীরা। সবথেকে বড় ঘটনা, তৃণমূল পরিচালিত এই পুরসভার বিরুদ্ধে একই ঘটনার অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন শাসকদলের এক কাউন্সিলরও। যদিও পুর চেয়ারম্যানের দাবি, আদালতের নির্দেশ মেনেই নিয়োগ হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ মিথ্যা।

এসএসসি দুর্নীতি নিয়ে এইমুহূর্তে তোলপাড় গোটা রাজ্য। জেল হেফাজতে গিয়েছেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী তথা তৃণমূল নেতা পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর ঘনিষ্ঠ বান্ধবীর ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয়েছে কোটি কোটি টাকা। এইসব ঘটনাকে ঘিরে যখন গোটা রাজ্য তোলপাড়, ঠিক এমন সময় ফের নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে বিদ্ধ হল শাসকদল। চাকরিপ্রার্থীরা তো বটেই, তৃণমূল পরিচালিত কালনা পুরসভায় নিয়োগে দুর্নীতি ও স্বজনপোষণের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন খোদ শাসকদলেরই কাউন্সিলর।

শনিবার কালনা পুরসভার গেটের সামনে চাকরির প্যানেল বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ দেখান চাকরিপ্রার্থী ও অস্থায়ী কর্মীরা। তাঁদের বাধায় গতকাল পুরভবনে ঢুকতে পারেননি চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও কর্মীরা। কালনা পুরসভা সূত্রে খবর, ২০২০ সালের মার্চে কালনা পুরসভা কর্মী নিয়োগের জন্য ২০ জনের একটি প্যানেল তৈরি করে। যদিও তা প্রকাশ্যে আনা হয়নি। এরপর মাঝে কোভিডকালে বিষয়টি স্তব্ধ হয়ে যায়। দু’বছর পর ২০২২-এ নতুন পুরবোর্ড সিদ্ধান্ত নেয়, ২০২০-র প্যানেল বাতিল করা হবে।

বাবার মৃত্যুর পরেও মেলেনি ছুটি, তাই কি খেপে গেছিল সিআইএসএফের ঘাতক জওয়ান?

এরপরই কয়েকজন আরটিআই করে জানতে পারেন, তাঁদের নাম প্যানেলে ছিল। এরপরই তাঁরা গিয়ে হাইকোর্টে মামলা করেন। প্যানেলভুক্ত ২০ জন চাকরিপ্রার্থীকে নিয়োগের নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। শুক্রবার কালনা পুরসভার তরফে তাঁদের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়। এরপরই শুরু হয় বিক্ষোভ। পরীক্ষা দিয়েও যাঁরা নিয়োগপত্র পাননি বলে দাবি, তাঁদের অভিযোগ, তত্‍কালীন ভাইস চেয়ারম্যান ও এক কাউন্সিলরের আত্মীয়র নাম প্যানেলে রয়েছে। কেন আগের প্যানেল বাতিল করা হয়নি, সেই প্রশ্ন তুলেই শনিবার থেকে শুরু হয়েছে বিক্ষোভ। 

কালনা পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর সন্দীপ বসু বলেন, ‘আমরা বোর্ড মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে এই প্যানেল আপাতত স্থগিত রাখা হোক। কারণ এখানে তত্‍কালীন ভাইস চেয়ারম্যান ও কাউন্সিলরের নাম রয়েছে। আমাদের মনে হচ্ছে যে ওই নিয়োগে স্বজনপোষণ হয়েছে।’ যদিও কালনা পুরসভার তৃণমূল নেতা ও চেয়ারম্যান আনন্দ দত্ত বলেন, ‘হাইকোর্টের নির্দেশমতই নিয়োগ হয়েছে। এখানে দুর্নীতি কীভাবে হল, তা জানি না।’

তবে নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে সরব চাকরিপ্রার্থীরা। কালনা পুরসভার অস্থায়ী কর্মী ও চাকরিপ্রার্থী সমীরকুমার সরকারের বক্তব্য, ‘আমাদের যোগ্যতা বেশি থাকা সত্ত্বেও স্বজনপোষণ করে অন্যরা চাকরি পেয়েছেন। পুরসভা যাঁরা চালাচ্ছেন, তাঁরা সেই নিয়োগ কমিটির সঙ্গে যুক্ত। বিধায়কের আত্মীয়রা কীভাবে চাকরি পান?’ কালনার তৃণমূল বিধায়ক দেবপ্রসাদ বাগের অবশ্য সাফাই, ‘নিয়ম মেনেই এই প্যানেল তৈরি হয়েছে। হাইকোর্টের নির্দেশ মেনেই তাঁদের নিয়োগ করা হচ্ছে। আমার ভাগ্নেও তো পরীক্ষা দিয়েছিল। সেও তো চাকরি পায়নি।’

You might also like