Latest News

পাকিস্তান সম্পর্কে কী বলেছেন অখিলেশ যে উত্তরপ্রদেশে ধুন্ধুমার বাঁধিয়ে দিয়েছে বিজেপি?

দ‌্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরপ্রদেশে ভোটের প্রচারে এবার সরাসরি পাকিস্তানও চলে এল। আনলেন সমাজবাদী পার্টির সুপ্রিমো অখিলেশ যাদব। তবে তাঁর সেই মন্তব্যে যেন মেঘ না চাইতে বৃষ্টির আনন্দে মেতে উঠেছে বিজেপি।

তবে প্রকাশ্যে অখিলেশের ওই মন্তব্য নিয়ে সোমবার প্রচারে হই হই বাঁধিয়ে দিয়েছে গেরুয়া শিবির। বিজেপি নেতারা জনে জনে সামাজিক মাধ্যমে সরব হয়েছে। যত চর্চা এখন অখিলেশের পাকিস্তান মন্তব্য।

উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব একটি সংবাদপত্রকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ভারতের আসল শত্রু পাকিস্তান নয়। প্রধান শত্রু হল চিন। চিনকে শক্ত হাতে মোকাবিলা করতে হবে।

এখানেই থামেননি সমাজবাদী পার্টির সুপ্রিমো। তাঁর বক্তব্য, পাকিস্তানকে দেশের পয়লা নম্বর শত্রু করে দেখাচ্ছে বিজেপি। এটা তাদের নির্বাচনী কৌশল। ভারতের প্রধান প্রতিপক্ষ হল চিন।

অখিলেশের এই বক্তব্য নিয়ে রে রে করে প্রচারে নেমে পড়েছে গেরুয়া শিবির। সাতসকালে প্রতিক্রিয়া দেন বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র সম্বিত পাত্র। তিনি বলেন অখিলেশ হলেন সেই ভারতীয় যিনি মহম্মদ আলি জিন্নাকে মহাত্মা গান্ধী, সর্দার বল্লভ ভাই প্যাটেলের সঙ্গে এক বন্ধনীতে রাখেন। তিনি পাকিস্তানের বিপদকে খাটো করে দেখবেন, এটাই স্বাভাবিক।

বিজেপি সূত্রের খবর, অখিলেশের মন্তব্যকে কীভাবে ব্যবহার করবে পার্টি তা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এবং বিজেপির রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতারা আলোচনা শুরু করেছেন। বস্তুত প্রধান প্রতিপক্ষ অখিলেশের কাছ থেকে এই রকম একটি মন্তব্যই প্রত্যাশা করছিল গেরুয়া শিবির, বলেন এক বিজেপি নেতা। তাঁর কথায়, এখন আমাদের মানুষকে বোঝাতে সুবিধা হবে যে দেশের প্রকৃত শত্রু কারা এবং শত্রুদের বন্ধু এদেশে কারা।

উত্তরপ্রদেশের এবারের নির্বাচনের তাৎপর্যপূর্ণ দিক হল কয়েকজন নেতার ব্যবহৃত কিছু মন্তব্য নিয়ে প্রচার সরগরম হয়ে আছে আগে থেকেই। অখিলেশ যেমন জিন্নাকে, গান্ধী, প্যাটেলের সঙ্গে এক আসনে বসানো মাত্র তাঁর বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানায় বিজেপি শিবির। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সমাজবাদী পার্টির সুপ্রিমোর তীব্র সমালোচনা করেন। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মুখ খোলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী যোগী। বিজেপির প্রচারে ঘুরে ফিরে আসছে অখিলেশের জিন্নাকে নিয়ে মন্তব্য। তাঁর বক্তব্য ছিল, গান্ধী, নেহরু, প্যাটেলের মতই জিন্না প্রকৃত দেশপ্রেমিক ছিলেন।

আবার বাছাই করা শব্দকেই প্রচারে হাতিয়ার করেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী। মাসখানেক আগে এক সরকারি অনুষ্ঠানে গিয়ে তিনি বলেন, আগের জমানায় আব্বাজান বলা লোকেরাই রেশন দোকানে ভালোমন্দ জিনিসপত্র পেত। মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের উদ্দেশ্য স্পষ্ট যে, তিনি মুসলিমদের ইঙ্গিত করতে চেয়েছেন। আগের জমানা মানে সমাজবাদী পার্টির সরকার। অখিলেশ ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।

উত্তরপ্রদেশে রাজনীতিতে গত শতকের গোড়া থেকেই মুসলিম এবং যাদব ভোটকে সম্বল করে রাজনীতিতে বড় জায়গা দখল করেছে সমাজবাদী পার্টি। মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন দলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি তথা অখিলেশের বাবা মুলায়ম সিং যাদব বিশ্ব হিন্দু পরিষদের অযোধ্যায় বাবরি মসজিদের দোরগোড়ায় করসেবা করার অভিযান আটকাতে পুলিশকে গুলি করার নির্দেশ দেয় তাঁর প্রশাসন। গুলিতে কয়েকজন নিহত হয়। সেই থেকে মুলায়মকে গেরুয়া শিবির মোল্লা মুলায়ম বলে কটাক্ষ করে থাকে। স্বভাবতই সমাজবাদী পার্টিকে আক্রমণ করতে যোগী ওই কথা বলেন। আবার দিন কয়েক আগে যোগী বলেন, এবারের নির্বাচন আশি আর কুড়ির লড়াই। ৮০ শতাংশ মানুষ আমাদের দিকে। যদিও এক্ষেত্রে কোন ধর্মের প্রসঙ্গ না তুললেও কারও বুঝতে অসুবিধা হয়নি তিনি আসলে ৮০ শতাংশ হিন্দু আর প্রায় ২০ শতাংশ মুসলমানদের ইঙ্গিত করেছেন। উত্তরপ্রদেশে ৮০ শতাংশের কাছাকাছি জনসংখ্যা হিন্দু। আর বাকি কুড়ি শতাংশের মধ্যে ১৯ শতাংশ মুসলিম। খ্রিস্টান বৌদ্ধ জৈন ধর্মের মানুষ নামমাত্র। যোগীর উদ্দেশ্য হল ধর্মীয় মেরুকরণ। অর্থাৎ হিন্দুদের বিজেপির পক্ষে জোটবদ্ধ করা। সেই লক্ষ্যে তাদের নয়া অস্ত্র হয়ে উঠল অখিলেশের পাকিস্তান মন্তব্য।

পাকিস্তানকে বিজেপি অবশ্য যে কোনও নির্বাচনেই টেনে আনে। ফলে তাদের কাছে অখিলেশের মন্তব্য বলতে গেলে হাতে চাঁদ পড়ার মতো। প্রায় প্রতিটি নির্বাচনেই বিজেপি প্রচার করে তারা হেরে গেলে পাকিস্থানে বাজি ফাটবে, উৎসব হবে। অর্থাৎ বিজেপি বোঝাতে চায় যে তারাই হল প্রকৃত পাকিস্তান বিরোধী এবং দেশপ্রেমিক শক্তি। এখন উত্তরপ্রদেশের নির্বাচনে অখিলেশ কীভাবে বিজেপির পাকিস্তান অস্ত্রকে মোকাবিলা করেন সেটাই দেখার। যদিও, রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, অখিলেশও মেরুকরণের অঙ্ক মাথায় রেখেই পাকিস্তান নিয়ে মন্তব্যটি করেছেন।

You might also like