Latest News

একে অপরকে সাহায্য করেই ইউপিএসসি-তে সাফল্য! অখিল-শ্রীকুমারের বন্ধুত্ব থেকে শিখছেন অজয়

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘বন্ধুত্ব’ জীবনে চলার পথে এক বড় শব্দ। সঠিক বন্ধুই আপনাকে বৈতরণী পার করতে সাহায্য করবে, আবার অনেক সময় ভুল বন্ধুত্ব আপনাকে জীবনের কিনারায় এনে দাঁড় করায়। তবে আজ আপনাদের এমন এক বন্ধুত্বের কথা জানা যাক যাঁদের কথা বইয়ের পাতা বা সিনেমার পর্দা থেকে উঠে আসা। ঠিক যেন ‘ শোলে’র জয়-বীরু। তবে আজ যাঁদের কথা বলা হবে তাঁদের নাম অখিল ও শ্রীকুমার। কেরলের দুই যুবক। একই সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছেন ইউপিএসসির সিভিল সার্ভিস (UPSC 2022) পরীক্ষা।

গল্পটা শুরু ঠিক আজ থেকে চার বছর আগে। কখন যে কে আপনার বন্ধু ও কাছের মানুষ হয়ে উঠবে তা আপনিও জানেন না। কথার কথা বন্ধু নয়, প্রকৃত বন্ধু, সুখে দুঃখে পাশে থাকা বন্ধু। অখিল ও শ্রীকুমার তেমনই দুই জন। তাঁদের বন্ধুত্ব ঘিরে আছে ইউপিএসসি (UPSC 2022)! অবাক হলেন? সত্যিই, চার বছর আগে ইউপিএসসি পরীক্ষার ব্যর্থতাই দুজনকে কাছাকাছি এনেছিল। কথা বলে জানতে পারেন তাঁরা যে, তাঁদের সমস্যাগুলো এক।

সেই সমস্যা যে কখন বন্ধুত্বের কারণ হয়ে উঠবে বুঝতে পারেনি তাঁরাও। ঠিক করেন, একসঙ্গে ইউপিএসসি-র প্রস্তুতি নেবেন। তারপর চড়াই উতরাই একসঙ্গে পার করেছেন তাঁরা। যেমন ব্যর্থতা দেখেছেন একসঙ্গে, তেমনই সাফল্যও।

সাতাশ বছরের অখিল মেনন কেরলের (Kerala) ইরিঞ্জালাকুডার বাসিন্দা আর ২৬ বছর বয়সী শ্রীকুমার রবীন্দ্রকুমার কোঝিকোড়ের বালুসেরির বাসিন্দা। দু জনেই ঠিক করেন প্রস্তুতি যদি একসঙ্গে নিতে হয়, তাহলে থাকতে হবে একসঙ্গে। যেমন ভাবা তেমন কাজ। একটি বাড়ি ভাড়া থাকতে শুরু করেন তাঁরা। অখিলের কথায়, “ব্যর্থতাই আমাদের একত্রিত করেছিল কারণ আমরা দুজনেই সেই সময়ে প্রিলিম ক্লিয়ার করতে পারিনি।”

তার পর নদী দিয়ে অনেক জল বয়ে গেছে। করোনার সময় যে যাঁর বাড়ি চলে গেলেও অনলাইনে একসঙ্গে প্রস্তুতি জারি রেখেছিলেন। কিন্তু ব্যর্থতা তাঁদের পিছু ছাড়েনি। তবে হাল ছাড়েননি তাঁরা। লাগাতার চেষ্টাই আজ তাঁদের সাফল্য পাইয়ে দিয়েছে। ইউপিএসসি-তে অখিলের অল ইন্ডিয়া র‍্যাঙ্ক ৬৬ ও শ্রীকুমারের ১৯২। শ্রীকুমারের কথায়, “মেইনস-এ দুইজনের সম্মিলিত চেষ্টাই এই সাফল্যের দরজা খুলে দিয়েছে।”

এখানেই শেষ নয়, তাঁদের সুখ দুঃখের জীবনে যোগ হয়েছে আরও একজন। নাম তাঁর অজয়। তিনি এখন তাঁদের রুমমেট। তাঁর স্বপ্নও ইউপিএসসিতে উত্তীর্ণ হওয়া। তবে এই বছর পারেননি। তবে হাল ছাড়ছেন না তিনি। পাশে আছেন অখিল ও শ্রীকুমার। তাঁরা জানান, অজয়কে সাহায্য করার জন্যই একসঙ্গে থাকার পরিকল্পনা করেছেন তাঁরা।

আগামীর জন্য তাঁদের পরামর্শ কী? এই পরীক্ষা স্প্রিন্ট নয়, ম্যারাথন হিসেবে মনে করতে হবে। ব্যর্থ হলেও ভেঙে না পড়ে ব্যর্থতার থেকে শিক্ষা নিতে বলছেন অখিল-শ্রীকুমার। নিজের ভুল খুঁজে বার করে তা শুধরে নিলেই মিলবে সাফল্য। প্রস্তুতিই সেরা বিকল্প, নেই কোনও শর্টকার্ট।

গুগল ডুডলে আজ জ্বলজ্বল করছেন বাঙালি বিজ্ঞানী! কী ঘটেছিল আজকের দিনে?

You might also like