Latest News

তৃণমূলের জাগো বাংলা পার্থকে আর ‘মন্ত্রী’ লিখছে না, লিখছে না মহাসচিবও! বড় ইঙ্গিত মমতা-অভিষেকের

রফিকুল জামাদার

তৃণমূল কংগ্রেসের (AITC) মুখপত্র জাগো বাংলার (Jago Bangla) সম্পাদক পার্থ চট্টোপাধ্যায় (Partha Chatterjee)। কিন্তু স্কুল সার্ভিস (SSC Teachers recruitment Scam) দুর্নীতি কাণ্ডে পার্থ গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে জাগো বাংলা তার সম্পাদককে আর ‘মন্ত্রী’ বলেই সম্মোধন করছে না। পার্থ চট্টোপাধ্যায় তৃণমূলের মহাসচিব। সর্বভারতীয় স্তরে কোনও রাজনৈতিক দলে এহেন মহাসচিব তথা সেক্রেটারি জেনারেলের (Secretary General) পদ ইদানীং প্রায় নেই বললেই চলে। সেদিক থেকে পার্থর পদ মাহাত্ম্য অনন্য। কিন্তু দলীয় মুখপত্র জাগো বাংলাতেই পার্থবাবুকে আর মহাসচিব বলেও সম্মোধন করা হচ্ছে না। শুধু লেখা হচ্ছে, পার্থ চট্টোপাধ্যায়।

Jago Bangla
আজকের ‘জাগো বাংলা’

অন্য মন্ত্রীদের সঙ্গে কিন্তু এমন করা হচ্ছে না। যেমন মঙ্গলবার জাগো বাংলায় অরূপ বিশ্বাসের যে ছবি ছাপা হয়েছে তার নিচে মন্ত্রী বলে সম্মোধন করা হয়েছে।

Jago Bangla
আজকের ‘জাগো বাংলা’

জানিয়ে রাখা ভাল, জাগো বাংলা ছাপতে যাওয়ার আগে তা নিয়ম করে দেখেন তৃণমূল সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ও দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। অর্থাৎ পার্থর নামের আগে থেকে যে ‘মন্ত্রী’ ও ‘মহাসচিব’ সম্মোধন ছাঁটা হয়েছে তা দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের নির্দেশেই হয়েছে বলে মনে করা যেতে পারে।

Jago Bangla
৯ই মার্চের জাগোবাংলা

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের বড় অংশের মতে, এই পদক্ষেপ অর্থবহ। সরকারি ভাবে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের মন্ত্রিত্ব তথা দফতর এবং দলীয় পদ এখনও (Expulsion from Cabinet and TMC Core Committee) কেড়ে নেননি দিদি। কিন্তু তা না করলেও প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক ব্যবস্থায় তাঁকে ইতিমধ্যেই অপ্রাসঙ্গিক করে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

পার্থর অনেক কিছু মনে পড়ছে না, অর্পিতা তবু বলছেন: ইডি সূত্র

তৃণমূলনেত্রীর এই পদক্ষেপ দেখে অনেকেরই নটবর সিং-কাণ্ডের কথা মনে পড়ছে। কেন্দ্রে প্রথম ইউপিএ জমানায় তেলের বিনিময়ে খাদ্য দুর্নীতিতে ফেঁসেছিলেন গান্ধী পরিবার ঘনিষ্ঠ নটবর সিং। সে সময়ে নটবর ছিলেন বিদেশ মন্ত্রী। অর্থাৎ মন্ত্রিসভার বিগ-ফোরে ছিলেন তিনি। নটবরের সেই দুর্নীতিতে আহত হয়েছিলেন সনিয়া গান্ধী। কারণ, তিনি ভাবতেও পারেননি যাঁকে তিনি পিতৃতুল্য বলে সম্মান করতেন, সেই নটবর এতটাই বেইজ্জত করে দিতে পারেন দলকে। তবে চোয়াল শক্ত করে নিতে বিলম্ব করেননি সনিয়া। তার পর থেকে নটবরের কার্যত আর মুখদর্শন করেননি তিনি।

তৃণমূলের (TMC) মধ্যে যে হাতে গোনা কয়েকজনকে দাদা বলে সম্মোধন করেন মমতা তাঁর মধ্যে পার্থ ছিলেন অন্যতম। এবার ২১ জুলাইয়ের সভাতেও ‘পার্থদা’ বলে তাঁর নাম উল্লেখ করেন দিদি। কালীঘাটের আস্থাভাজন এক নেতার কথায়, পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে যে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে তা হয়তো দিদিরও জানা ছিল। কিন্তু পার্থ যে ব্যক্তিগত জীবনে এতটা কদর্য সেই ধারণা তাঁর ছিল না। এই ঘটনা তাঁকে আহত করেছে। বিজেপির রাজনীতি মোকাবিলা করার স্বার্থে তিনি হয়তো প্রকাশ্যে তাঁর ক্ষোভ জানাচ্ছেন না। কিন্তু ভিতরে ভিতরে তিনি অত্যন্ত বিরক্ত।

প্রসঙ্গত, স্কুল সার্ভিস দুর্নীতি কাণ্ডে পার্থ গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই তাঁর উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপন নিয়ে চারিদিক থেকে অভিযোগ উঠছে। সাধারণ মানুষ, তৃণমূলের অনেক সমর্থক ছিঃ ছিঃ করছেন। অথচ এই পার্থই ছিলেন তৃণমূলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান। পার্থর সে পদও যে আর থাকবে তা নিয়ে কোনও সংশয় নেই।

তবে দলের মধ্যে এখন কৌতূহলের বিষয় হল, পার্থকে সরকারি ভাবে মন্ত্রিসভা থেকে কবে অপসারণ করা হবে। নবান্নের এক কর্তার কথায়, এমনিতেই পার্থ নামে শিল্প মন্ত্রী ছিলেন। শিল্প দফতর সংক্রান্ত কোনও কাজই তাঁর ছিল না। এই দফতরের কাজ মুখ্যমন্ত্রী এক প্রকার নিজেই দেখেন। তা ছাড়া এ ব্যাপারে তাঁকে পরামর্শ দেন মুখ্যমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা অমিত মিত্র।

রইল বাকি পরিষদীয় মন্ত্রী পদের দায়িত্ব। হতে পারে পার্থর থেকে এই দফতরের দায়িত্ব নিয়ে অন্য কাউকে দেবেন মুখ্যমন্ত্রী। কারণ, পরিষদীয় মন্ত্রী জেলে বা পুলিশি হেফাজতে থাকলে কাজ চলবে না। তাঁকে বিধানসভার ফ্লোরে থাকতে হবে। আগামী ২৮ তারিখ মন্ত্রিসভার বৈঠক ডেকেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সম্ভবত সেদিন এ ব্যাপারে কোনও ইঙ্গিত পাওয়া যাবে। পরিষদীয় মন্ত্রী হিসাবে পার্থ যে গাড়ি পেতেন তা আজ বিধানসভায় জমা পড়েছে। এ ঘটনাকেও একটা ইঙ্গিত বলে দেখছেন অনেকে। তবে স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় দ্য ওয়ালকে জানিয়েছেন, এটি বিধানসভার গাড়ি। পরিষদীয় মন্ত্রী হেফাজতে রয়েছেন। তাই গাড়িটি বিধানসভায় এনে রাখা হয়েছে।

You might also like