Latest News

গঙ্গাসাগর মেলায় থাকা এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে প্রাণ বাঁচল সাগরের দুই বাসিন্দারও

দ্য ওয়াল ব্যুরো: গঙ্গাসাগরের পুণ্যস্নানের আর দু’ দিন বাকি। ইতিমধ্যেই বহু পুণ্যার্থী ভিড় করেছেন মেলা প্রাঙ্গনে। কোভিড পরিস্থিতির মধ্যে গঙ্গাসাগর মেলায় এ বার সবথেকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে স্বাস্থ্য পরিষেবাকে। রাখা হয়েছে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সও। সেই অ্যাম্বুল্যান্স প্রাণ বাঁচাল সাগরের দুই বাসিন্দার।

মঙ্গলবার সকালেই গঙ্গাসাগর মেলা প্রাঙ্গনে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন একজন। সঙ্গে সঙ্গে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে করে তাঁকে নিয়ে আসা হয় হাওড়ার ডুমুরজলা হেলিপ্যাড গ্রাউন্ডে। সেখান থেকে গ্রিন করিডর করে নিয়ে যাওয়া হয় হাওড়া জেলা হাসপাতালে। কীটনাশক খেয়ে অসুস্থ একজনকেও একইভাবে নিয়ে এসে ভর্তি করা হয় হাওড়ার হাসপাতালে।

দুপুর একটা নাগাদ নিয়ে আসা হয় মুকুল গিরি নামে এক ব্যক্তিকে। সাগর এলাকারই বাসিন্দা ওই ব্যক্তি। মেলা প্রাঙ্গনে হঠাৎই বুকে যন্ত্রণা শুরু হয় তাঁর। মেলায় কর্তব্যরত মেডিকেল অফিসার ডাঃ ইমাজুদ্দিন খান জানান, বছর পঞ্চান্নর ওই ব্যক্তির ইসিজি করে দেখা যায় হার্টের সমস্যা রয়েছে তাঁর। তাই দ্রুত তাঁকে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে নিয়ে আসা হয় হাওড়ায়।

বিকেল চারটা নাগাদ হাওড়ায় নিয়ে আসা হয় মৃত্যুঞ্জয় বর নামে অন্য এক ব্যক্তিকে। তার এক আত্মীয় সুধাংশু গারু জানান, পারিবারিক বিবাদে কীটনাশক খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন সাগরের বাসিন্দা মৃত্যুঞ্জয়। তাঁকে প্রথমে স্থানীয় গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হয় তাঁর। সে সময় মেলার জন্য রাখা এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে দ্রুত ওই ব্যক্তিকেও নিয়ে আসা হয় হাওড়া হাসপাতালে। সেখানে তাঁর চিকিৎসা চলছে। ডাক্তাররা জানিয়েছেন সময়মতো নিয়ে আসাতেই প্রাণরক্ষা হয়েছে তাঁর। মেলার জন্য থাকা এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সই তাঁদের আপনজনের প্রাণ বাঁচিয়েছে বলে জানিয়েছেন মৃত্যুঞ্জয়ের পরিবারের লোকজন।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসক পি উল্গানাথন জানান, গতবছরের গঙ্গাসাগর মেলাতেও পুণ্যার্থীদের জন্য দু’টি অ্যাম্বুল্যান্স ছিল। এবারও দু’টি এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘মেলা প্রাঙ্গনে দিনরাত বিশেষ কন্ট্রোলরুম থেকে নজরদারি চালানো হচ্ছে। কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে ন্যুনতম ঝুঁকি না নিয়ে তাঁকে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে করে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এবার কোভিড পরিস্থিতিতে এ বিষয়ে সজাগ রয়েছে প্রশাসন।’’

You might also like