Latest News

ফের সোয়াইন ফ্লু-তে মৃত্যু শহরে! সারা দেশেই বাড়ছে ফ্লু-আক্রান্তের সংখ্যা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের সোয়াইন ফ্লু আক্রান্তের মৃত্যুর খবর এল শহরে। জানা গিয়েছে, সল্টলেকের আমরি হাসপাতালে বৃহস্পতিবার জ্বর নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন সল্টলেকেরই বাসিন্দা রজনী ধনানিয়া। ৫৭ বছরের ওই প্রৌঢ়ার শরীরে আরও একাধিক সমস্যা ছিল বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। সোমবার মৃত্যু হয় তাঁর।

মৃত্যুর কারণ হিসেবে উল্লেখ রয়েছে এইচওয়ানএনওয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা, নিউমোনিয়া, মারাত্মক শ্বাসকষ্ট, মারণ স্থূলত্ব ইত্যাদি। রজনীর স্বামী পবনকুমার ধনানিয়া জানিয়েছেন, দিন কয়েক ধরেই জ্বর এবং গা-হাত-পায়ে ব্যথার সমস্যায় ভুগছিলেন তাঁর স্ত্রী। বাড়ছিল শ্বাসকষ্টের সমস্যাও। আমরিতে ভর্তি হওয়ার পরে সোয়াইন ফ্লু ধরা পড়ে। চিকিৎসকেরা জানিয়ে দিয়েছিলেন, তাঁর স্ত্রীয়ের অবস্থা খুব একটা ভাল নয়।

চলতি বছরের গোড়া থেকেই শহরে সোয়াইন ফ্লু-য়ে রোগী মৃত্যুর ঘটনা ঘটতে শুরু করেছে। জানুয়ারি মাসে এই রোগে মারা যায় দশ মাসের এক শিশু। ফেব্রুয়ারি মাসে পার্ক সার্কাসের একটি নার্সিংহোমে মারা যায় বছর দশেকের একটি শিশু। এপ্রিল মাসে ফের সল্টলেকের আমরি হাসপাতালেই মারা যান ৭৪ বছরের কৃষ্ণা শর্মা। হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছিল, এইচওয়ানএনওয়ান ভাইরাসের আক্রমণে আচমকা হৃদরোগে আক্রান্ত হন ডায়াবেটিসের রোগী কৃষ্ণাদেবী।

কেন্দ্রীয় সরকারি প্রতিষ্ঠানের নাইসেডের তরফে ইঙ্গিত, চলতি বছরে শহরে বেড়েছে সোয়াইন ফ্ল‌ু পজিটিভের হার। যদিও রাজ্য সরকারি স্বাস্থ্য দফতর বলছে, সোয়াইন ফ্ল‌ু নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। নাইসেডের যদিও বক্তব্য, যা নমুনা আসছে, তার শতকরা ২০-২২ শতাংশ সোয়াইন ফ্ল‌ু পজিটিভ মিলছে। যেটা গত বছর পর্যন্তও ৮-১০% ছিল।

শীতের আগে এবং পরে দাপট দেখানো ইনফ্ল‌ুয়েঞ্জা টাইপ-ওয়ান-এর এই এইচওয়ানএনওয়ান ভাইরাসের প্রভাব শুরু হয়েছে গত কয়েক বছর ধরেই। প্রতি বছরই নভেম্বর মাস থেকে শুরু করে মার্চেও সমান ভাবে সোয়াইন ফ্ল‌ু-তে আক্রান্ত হয়েছেন সাধারণ মানুষ। গত বছরে আট জন সোয়াইন ফ্ল‌ু আক্রান্তের মৃত্যু হয়েছিল শহরে। এ বারে ফেব্রুয়ারির মধ্যেই সেই সংখ্যা ছুঁয়েছিল কমপক্ষে সাত। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, চলতি বছরে শুধু এইচওয়ানএনওয়ান নয়, দাপট দেখাচ্ছে সোয়াইন ফ্ল‌ু-র এইচ৩এন২ ভেরিয়েন্ট-ও।

স্কুল অফ ট্রপিক্যাল মেডিসিন আবার বলছে, রক্তের নমুনা কতটা উপসর্গভিত্তিক ভাবে সংগৃহীত হচ্ছে, তার উপর ফলাফল পজিটিভ আসার সম্ভাবনা নির্ভর করে। হতেই পারে, চিকিৎসকেরা অনেকেই সঠিক উপসর্গ ধরতে পেরে তার পরেই রোগীকে সোয়াইন ফ্ল‌ু-র পরীক্ষা করতে পাঠিয়েছেন। তবে, সোয়াইন ফ্ল‌ু আক্রান্তের সংখ্যা চলতি বছর বেড়েছে তো বটেই। কিন্তু, তা এক ধাক্কায় ১০-১২ শতাংশ কি না, তা বলা মুশকিল। আবার অনেক সময়েই অনেক আগে সোয়াইন ফ্ল‌ু-তে আক্রান্তের শরীরে পুরনো অ্যান্টিবডি থেকে যায়, পরে কখনও পরীক্ষাতে সেটা ধরা পড়লেও পড়তে পারে।

তবে অন্য মতও শোনা যাচ্ছে শহরের চিকিৎসক এবং হাসপাতাল কর্তাদের গলায়। এক বেসরকারি হাসপাতাল কর্তা বলেন, “চিকিৎসকেরা কতটা নিশ্চিত হয়ে সোয়াইন ফ্ল‌ু পরীক্ষা করার নিদান দিচ্ছেন, সেটা বলা মুশকিল। কারণ, আমাদের কাছে বাইরের হাসপাতাল, ক্লিনিক থেকে এমন অনেক রোগীই এসেছেন যাঁদের গ্রেড-১ লেভেলের ফ্ল‌ু হয়েছে। যাঁর বা যাঁদের সোয়াইন ফ্ল‌ু’র পরীক্ষা করানোর কোনও প্রয়োজনই নেই। সে সব রোগীদের আমরা কাউন্সেলিং করে বাড়ি পাঠিয়েছি।”

চিকিৎসেকরা বলছেন, সোয়াইন ফ্ল‌ু-র এই নতুন প্রকারটি খুব দ্রুত নিজের প্রকৃতি পরিবর্তন করায়, অন্য ফ্ল‌ু-র ক্ষেত্রে শরীরে যেমন ‘হার্ড রেজিস্টেন্ট’ বা প্রতিরোধক শক্তি তৈরি হয়, তা সোয়াইন ফ্ল‌ু-র ক্ষেত্রে হয় না। তাই শক্তি কমার বদলে শক্তি বাড়িয়ে আক্রমণ করে এই ফ্ল‌ু-র ভাইরাস।

চিকিৎসকেরা পরামর্শ দিচ্ছেন, এক: সচেতন হওয়া এবং দুই: অযথা আতঙ্ক না-ছড়ানো। জ্বর হলে, সচেতন ভাবে উপসর্গগুলি খেয়াল করা এবং নিজের এলাকা সম্পর্কে খোঁজ রাখাটা সচেতনতারই অংশ। চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে দেরি না করে। আর সেই সঙ্গে এটাও মনে রাখা দরকার, যে সোয়াইন ফ্ল‌ু আক্রান্ত হলেই মৃত্যু অবধারিত নয়, এবং সব ফ্ল‌ু-ই সোয়াইন ফ্ল‌ু নয়।

শুধু শহরে নয়, সারা দেশের নানা প্রান্ত থেকে সোয়াইন ফ্লু-তে রোগী মৃত্যুর ঘটনা সামনে আসতে থাকে। বছরের প্রথম মাসেই এই ফ্লুয়ের ধাক্কায় মৃত্যু হয়েছে ১৬৯ জনের। যা গত বছরের তুলনায় প্রায় তিন গুণ। অন্তত সাড়ে চার হাজারেরও বেশি মানুষের রক্তে মিলেছে সোয়াইন ফ্লুয়ের ভাইরাস।

নাইসেডের রিপোর্ট বলছে, এ বছর মহামারীর আকার নিয়েছে সোয়াইন ফ্লু।  দেশ জুড়ে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা।  দিন কয়েকের জ্বর। সঙ্গে সর্দি-কাশি। ওষুধ খেয়ে শরীরের তাপমাত্রা কমলেও শ্বাসকষ্টের সমস্যা কমছে না। বরং বাড়ছে। প্রয়োজনীয় শারীরিক পরীক্ষা-নিরিক্ষা করাতেই কেটে যাচ্ছে আরও কয়েক দিন। ফলে সোয়াইন ফ্লু ধরা পড়ে চিকিৎসা শুরু হতে অনেকটাই দেরি হয়ে যাচ্ছে। যার জেরে বিপদ বাড়ছে রোগীদের। বিশেষত, আক্রান্ত শিশুদের।

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক সূত্রের খবর, সোয়াইন ফ্লু আক্রান্তের মধ্যে মৃতের সংখ্যা সব চেয়ে বেশি রাজস্থান, গুজরাত, মধ্যপ্রদেশ এবং মহারাষ্ট্রে।

You might also like