Latest News

ওড়িশার সমুদ্রতীরে ভেসে এল রহস্যময় নৌকা, তাতে একজনের অচেতন দেহ…

দ্য ওয়াল ব্যুরো : শুক্রবার সকালে হইচই পড়ে গেল ওড়িশার খৈরিশাহি গ্রামে। সমুদ্রের তীরে অবস্থিত সেই ছোট্ট গ্রামের মানুষ দেখল, একটা ভাঙাচোরা নৌকা এসে ঠেকেছে কূলে। তার মধ্যে একজনের দেহ। মৃত নয়, সে জীবিত। তবে খুব দুর্বল। কোথা থেকে ভেসে এল লোকটি? কী তাঁর পরিচয়?

সমুদ্রের তীরে রহস্যময় নৌকা আসার খবর শুনে আশপাশের গ্রাম থেকে মানুষ ভিড় করতে লাগল উপকূলে। একসময় এসে পড়ল পুলিশও। আরোহীর সেবা করে তার জ্ঞান ফেরাল গ্রামের মানুষই। একটু সুস্থ হয়ে তিনি শোনালেন আশ্চর্য কাহিনি।

লোকটির নাম অমৃত কুজুর। বয়স ৪৯। বাড়ি আন্দামানে। ২৮ দিন আগে তিনি ও তাঁর এক বন্ধু মিলে নৌকা নিয়ে ভেসে পড়েছিলেন সমুদ্রে। বন্ধুর নাম দিব্যরঞ্জন। তাঁরা সমুদ্রের বুকে বিভিন্ন জাহাজকে বেচতেন পানীয় জল ও নানা শাকসবজি, ফলমূল। ২৮ সেপ্টেম্বর সমুদ্রযাত্রা করার সময় তাঁদের নৌকায় ছিল পাঁচ লক্ষ টাকার মালপত্র।

সমুদ্রে বেরোনর কিছুদিন পরেই তাঁরা ঝড়ের মুখে পড়েন। উত্তাল সমুদ্রে নৌকা পথ হারিয়ে ফেলে। কয়েক ঘণ্টা ধরে তাঁরা নৌকাটিকে ঠিক পথে আনার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু পরে তাঁদের জ্বালানি ফুরিয়ে যায়। নৌকার পালও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাঁরা রেডিও মারফৎ কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি। নৌকায় অনেকখানি তার ছিল। ওজন কমানোর জন্য তারগুলি জলে ফেলে দেওয়া হয়।

সমুদ্রে তাঁরা অনেক জাহাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চেষ্টা করেছিলেন। প্রথমে কেউই তাঁদের দেখতে পায়নি। শেষে মায়ানমারের নৌবাহিনীর একটি জাহাজ তাঁদের দেখতে পায়। তারা অমৃতদের নৌকায় ২৬০ লিটার ডিজেল দেয়। অকূল সমুদ্রে পথ খুঁজে পাওয়ার জন্য দেয় একটি কম্পাস।

দু’জন নতুন উৎসাহে ফের আন্দামানের দিকে যাত্রা শুরু করেন। কিন্তু তাঁদের ভাগ্য ছিল মন্দ। পথে তাঁরা দ্বিতীয়বার ঝড়ের মুখে পড়েন। ঝড় না থামা অবধি তাঁরা সমুদ্রে নোঙর ফেলে নৌকা দাঁড় করিয়ে রাখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু প্রবল ঝড়ে নোঙর ছিঁড়ে যায়। নৌকা ফের সমুদ্রে এলোমেলো ভাসতে থাকে। বিশাল বিশাল ঢেউয়ে নৌকা ডুবে যাওয়ার উপক্রম হয়। যদিও শেষ পর্যন্ত ডোবেনি।

ফের নৌকার জ্বালানি ফুরিয়ে যায়। খাদ্য ও জল ছাড়া সমুদ্রে ভাসতে থাকেন দু’জন। দিব্যরঞ্জন অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁর মৃত্যু হয়। অমৃত দু’দিন দেহটি নৌকায় রেখে দিয়েছিলেন। কিন্তু মৃতদেহে পচনের লক্ষণ দেখা দিতে জলে ভাসিয়ে দেন।

অমৃত নিজে বৃষ্টির জলে তোয়ালে ভিজিয়ে রেখেছিলেন। সেই জলে সে তৃষ্ণা মেটাতেন। একসময় প্রবল তৃষ্ণায় সমুদ্রের জলও পান করতে বাধ্য হয়েছিলেন।

সমুদ্রে ভাসতে ভাসতে আন্দামান থেকে প্রায় ১৩০০ কিলোমিটার দূরে তিনি এসে পড়েন ওড়িশা উপকূলে। ডাক্তাররা তাঁকে পরীক্ষা করে বলেছেন, তাঁর শরীর ভালোই আছে। তাঁর পরিবারের লোকজনকে খবর দেওয়া হয়েছে। দু’-একদিনের মধ্যে তাঁরা আন্দামান থেকে এসে পৌঁছবেন।

 

You might also like