Latest News

বাবা ছিলেন ভ্যানচালক, দর্জি মায়ের লড়াই হাওড়ার অচিন্ত্যকে পৌঁছে দিয়েছে সাফল্যের শিখরে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: হাওড়ার (Howrah) টালির ঘর থেকে বার্মিংহামে সাফল্যের রাজপ্রাসাদে অচিন্ত্য শিউলি (Achinta Sheuli)। কমনওয়েলথ গেমসে (CWG 2022) ৭৩ কেজি বিভাগে নজির গড়ে বাংলার ছেলের সোনা জয়ের ঘটনায় আলোড়িত আসমুদ্র হিমাচল।

ইতিমধ্যেই রাষ্ট্রপতি থেকে প্রধানমন্ত্রী, কিংবা মুখ্যমন্ত্রীও টুইট করে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তাঁকে। ভারতীয় সময়ে রাত দেড়টার পরে খবর এসে পৌঁছায় অচিন্ত্য সোনা জিতেছেন। খবর আসা মাত্রই হাওড়ার পাঁচলার গ্রামে উৎসব শুরু হয়ে যায়। গ্রামবাসীরা সবাই অচিন্ত্যদের টালির ঘরে এসে পৌঁছান। রাতেই শুরু হয়ে যায় মিস্টি মুখ।

উড়ন্ত শরীরে দুরন্ত ক্যাচ! স্টাবস মনে করালেন জন্টিকে, দেখুন ভিডিও

ছোট থেকেই লড়াই করে বড় হয়েছেন এই তরুণ ভারোত্তোলক। অচিন্ত্যর বাবা পেশায় একজন ভ্যান চালক ছিলেন। ৯ বছর আগেই তিনি মারা যান। তার পর সংসারে কার্যত নুন আনতে পান্তা ফুরানোর মতো অবস্থা হয়ে গিয়েছিল। সেই পরিস্থিতিতে ভাইয়ের খেলা বন্ধ হতে দেননি অচিন্ত্যর দাদা অলোক। তার জন্য নিজে খেলা ছেড়ে দিয়েছিলেন। সেই দাদাকেই পদক উৎসর্গ করলেন অচিন্ত্য।

বাবা মারা যাওয়ার পরে মা পূর্ণিমা দেবী দর্জির কাজ করে সংসার চালিয়েছেন। তাঁর সাপ্তাহিক আয় খুব বেশি হলে ছিল মাত্র ৫০০ টাকা। মাকে সাহায্য করতে দুই ভাইও জরির কাজ করতেন। সেই টাকাতেই চলত সংসার।

দাদা অলোকের ত্যাগও ভাইকে সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দিয়েছে। কারণ দাদাও ছিলেন ভাল ভারোত্তোলক, কিন্তু ভাইকে উৎসাহ দিতে তিনি খেলা ছেড়ে দেন। অচিন্ত্য তাই সোনা জিতে উৎসর্গ করেছেন দাদাকেই। বাড়িতে মায়ের কাছে ফিরে নারকেল-ভাত খাবেন, সেটাই জানান ২০ বছরের তরুণ তারকা।

অচিন্ত্য বার্মিংহামে সোনা জয়ের পরে বলেছেন, ‘‘বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে দাদাই আমার জন্য সব কিছু করেছে। আর তাই এই পুরস্কার আমি আমার দাদা এবং কোচকে উৎসর্গ করতে চাই। দাদা নিজে ভারোত্তোলক ছিল, আমরা একসঙ্গে ২০১৩ সালে জাতীয় আসরে নেমে পদক জিতেছিলাম।’’

You might also like