Latest News

Abhishek Banerjee: কে বলে গো এই প্রভাতে নেই তুমি

দ্য ওয়াল ব্যুরো: রবিবাসরীয় বিকেলে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) সঙ্গে দেখা করে আনুষ্ঠানিক ভাবে তৃণমূলে ফিরে এলেন ব্যারাকপুরের বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং। তাঁর ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে আগেই জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, পার্থ ভৌমিকদের ডেকে নিয়েছিলেন অভিষেক। অর্জুন বিকেলে সেই বৈঠকেই যোগ দিলেন।

তাৎপর্যপূর্ণ ভাবেই, এদিনের সেই ফ্রেমে কোথাও দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী, মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় বা ফিরহাদ হাকিম-অরূপ বিশ্বাসদের দেখা গেল না। কেন দেখা গেল না? কারণ, সূত্রের দাবি, অর্জুনকে তৃণমূলের শর্তে ঘরে ফিরিয়ে এনে শুভেন্দু-অমিত শাহদের অস্বস্তিতে ফেলে দেওয়ার দৌত্যে বক্সী-পার্থদের কোনও ভূমিকাই ছিল না।

বস্তুত এখন যে কাজটা অভিষেক (Abhishek Banerjee) করছেন, তা ভাল-মন্দ বিচার সময় নিশ্চয়ই করবে, কিন্তু একদা এটাই করতেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক মুকুল রায়। চব্বিশ ঘণ্টা রাজনীতিতে ডুবে থাকতেন মুকুল, আর নিঁখুত অঙ্ক কষে এই ভাঙাগড়ার খেলা খেলতেন। তাঁর সেই ভূমিকার কারণেই তৃণমূলে মমতা পরবর্তী স্থানে ‘ফার্স্ট এমন ইক্যুয়ালস’ ছিলেন মুকুল। রবিবার সেই ফারাকটাই স্পষ্ট করে দেখালেন অভিষেকও।

অথচ কিছুদিন আগেই অভিষেককে (Abhishek Banerjee) কেন্দ্র করে তৃণমূলের অন্দরে পাওয়ার স্ট্রাগল প্রকট হয়ে পড়েছিল। দলের একাংশ তাঁর ক্ষমতা খর্ব করতে উঠে পড়ে লেগেছিলেন। সেদিক থেকে মাইলফলক হয়ে রয়েছে একটি বিশেষ দিন। এই ২০২২ সালেরই ১৩ ফেব্রুয়ারি। সেদিন সন্ধেয় কালীঘাট তাঁর বাসভবনে বৈঠকের পর তৃণমূলের ওয়ার্কিং কমিটি ঘোষণা করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবং তার সঙ্গে সঙ্গেই দলের একাংশের মধ্যে যেন যুদ্ধজয়ের আনন্দ দেখা গিয়েছিল।

কেন আনন্দ? স্বস্তির প্রথম কারণ দিদি জানিয়ে দিয়েছিলেন, অভিষেক যতই বলুক, আপাতত এক ব্যক্তি এক পদ নীতি বাস্তবায়িত হবে না। আর দুই, সাংগঠনিক কমিটি সাময়িক ভাবে ভেঙে দেওয়ায় অভিষেকের সর্বভারতীয় সাধারণ পদটা সেই সময়ে চলে গিয়েছিল। ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, অসীমা পাত্র, অনুব্রত মণ্ডলের মতোই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তখন কেবল ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য মাত্র।

দ্য ওয়ালে সেদিনই প্রশ্ন তোলা হয়েছিল, তা হলে কি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) আর তৃণমূলের নম্বর টু নন? আবার সেই প্রশ্নের জবাব ছিল ওই প্রতিবেদনেই। তাতে লেখা হয়েছিল, অভিষেকের মর্যাদা পদ নির্ভর নয়, তা থেকে স্বাধীন। সুতরাং পদ থাকল না গেল তা সামগ্রিক মর্যাদা ও অবস্থানে কোনও আঁচ ফেলতে পারবে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূলের সর্বময় নেত্রী। তা যেমন শাশ্বত সত্য, তেমনই গত কয়েক বছর ধরে বাংলার রাজনীতিতে এই ধারণাও প্রতিষ্ঠিত যে অভিষেকই হলেন অঘোষিত নম্বর টু। অর্থাৎ সেকেন্ড ইন কম্যান্ড। এবং বাস্তব হল, অদূর ভবিষ্যতে সেই ধারণার কোনও বদল ঘটার সম্ভাবনা নেই।

অর্জুন যে রবিবার তৃণমূলে যোগ দেবেন তা দ্য ওয়াল সবার আগে লিখেছিল। সেই খবর সত্যি প্রমাণিত হয়েছে। আবার এই গোটা পর্ব ঘটল অভিষেকেরই (Abhishek Banerjee) পৌরোহিত্যে। এবং তাতে এও প্রমাণ হল যে দ্য ওয়াল সেদিন যে সম্ভাবনার কথা লিখেছিল তাও সত্যি প্রমাণিত হল। তৃণমূলের অঘোষিত নম্বর টু অভিষেকই।

কে বলে এই প্রভাতে নেই তিনি!

একদিকে ঋণের পাহাড়, অন্যদিকে পাহাড়চুড়ো! পিয়ালীর এভারেস্ট সামিট যেন টানটান স্নায়ুযুদ্ধ

You might also like