Latest News

‘আমার বউকে টার্গেট করেছে’, ‘তোর সিআইএসএফ কি ঘুমোচ্ছিল?’, কাঁথিতে অভিষেক

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মনে পড়ে লোকসভা ভোটের শেষ পর্বের আগে মেটিয়াবুরুজে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা? ডায়মন্ড হারবারের প্রার্থী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনে সেই সভায় দিদি বলেছিলেন, “বিজেপি ওকেও ছাড়ে না, ওর বউকেও ছাড়ে না। বেচারার একটা ছোট্ট বউ আছে, পাঞ্জাবী মেয়ে, বাংলাও বোঝে না ভাল করে। তাকেও ছাড়ছে না।”

শনিবার কাঁথিতে জনসভা করতে গিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সভা থেকে যুব তৃণমূল সভাপতি বলেন, “আমার সঙ্গে পারছে না, এখন আমার বউকে টার্গেট করেছে। কী বলছে? বলছে আমার বউয়ের নাকি তাইল্যান্ডের ব্যাঙ্কে অ্যাকাউন্ট আছে! কলকাতা ছাড়া কোথাও আমার বউয়ের অ্যাকাউন্ট নেই।”

হঠাৎ নিজের স্ত্রীর কথা সভা মঞ্চে তুললেন কেন যুব তৃণমূল সভাপতি?

সম্প্রতি পরপর কয়েকটি সভায় শুভেন্দু অধিকারী নথি দেখিয়ে অভিযোগ করেন, “লালার টাকা যেত তাইল্যান্ডের কাসিকর্ন ব্রাঞ্চের ব্যাঙ্কে, ম্যাডাম নারুলার অ্যাকাউন্টে। ম্যাডাম নারুলাটা কে? যিনি লোকসভা ভোটের সময়ে সোনা নিয়ে বিমানবন্দরে ধরা পড়েছিলেন!”

পাল্টা এদিন অভিষেক বলেন, “তোর সিআইএসএফ কি নাকে নস্যি দিয়ে ঘুমোচ্ছিল? এয়ারপোর্টে তো এত সিসিটিভি ক্যামেরা! ধরল না কেন।”

উনিশের লোকসভা ভোটের আগে তোলপাড় পড়ে গিয়েছিল সেই ঘটনায়। ১৫-১৬ মার্চের মাঝের রাতে ব্যাঙ্কক থেকে ফিরছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী রুজিরা নারুলা বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে ছিলেন আরও একজন মহিলা। কেন্দ্রীয় শুল্ক দফতর দাবি করেছিল, অভিষেকের স্ত্রীর ব্যাগ চেক করতে গেলে তাঁরা বাধা দেন। কাস্টমসের এক্তিয়ারভুক্ত এলাকায় ঢুকে পড়ে বিধাননগর পুলিশ। কার্যত কাস্টমস কর্তাদের ঘেরাটোপ থেকে জোর করে রুজিরাদের বার করে নিয়ে যায় বিধাননগর পুলিশ। এ নিয়ে মামলাও চলছে হাইকোর্টে।

এর পর হইচই পড়ে যায় রাজ্য রাজনীতিতে। বিজেপি-সহ একাধিক বিরোধী দল অভিযোগ তোলে অভিষেকের স্ত্রীর কাছে সোনা ছিল। আড়াল করতেই পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। কাস্টমস কর্তারা অভিযোগ করেন, প্রথমে পুলিশ তাদের অভিযোগ নেয়নি। পরে নেয়। ২৩ মার্চ ব্যক্তিগত সাংবাদিক সম্মেলন করেন অভিষেক। চ্যালেঞ্জ ছোড়েন বিজেপি-র বিরুদ্ধে। দাবি করেন ওই রাতের সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশের।

শুভেন্দু অবশ্য পরিচয় প্রকাশ করেননি। প্রশ্ন তুলে শুধু বলেছেন, “এই ম্যাডাম নারুলাটাকে?” অভিষেক তারই জবাব দিলেন।

You might also like