Latest News

যেখানে শক্তিশালী কংগ্রেসের হাত, সেখানে দাঁত ফোটাতে পারল না আপ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজনীতিতে একটা কথা চালু আছে। তা হল, প্রতিটা ভোটের জয়-পরাজয়ে শিক্ষা থাকে। যে জেতে তার জন্য, যে হারে তার জন্যও।

কিন্তু কংগ্রেস (Congress) কি সেই শিক্ষা নেয়?

গুজরাতে (Gujarat Election) একচেটিয়া বিজেপির জয় আর হিমাচলে (Himachal Pradesh Election) কংগ্রেসের ফিরে আসার বাইরেও এই দুই রাজ্যের ভোটের ফলে আরও একটি দিক রয়েছে—যেখানে কংগ্রেস শক্তিশালী সেখানে দাঁত ফোটাতে পারছে না আপ (AAP)।

গুজরাতে ভোটের ফলে দেখা যাচ্ছে পাঁচটা আসন জিতেছে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের পার্টি। ৭৮ থেকে ১৭-তে নেমে এসেছে কংগ্রেস। ভোটের ফলে আরও একটি বিষয় দেখা গিয়েছে অন্তত খান তিরিশ আসনে আপ দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে।

অথচ হিমাচলে গিয়ে খাতা খোলা তো দূরের কথা ঝাঁটার কাঠির একটা দাগও ফেলতে পারেনি আপ। এতে একটা বিষয় পরিষ্কার, কংগ্রেসের দুর্বলতাই আপকে মাথা তুলতে দিয়েছে। কংগ্রেস যেখানে শক্তিশালী, বিজেপিকে হঠিয়ে ক্ষমতায় ফেরার তাকত রাখে সেখানে সাফ হয়ে গিয়েছে আপ।

পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, রাজনীতিতে কখনও শূ্ন্যস্থান বলে কিছু থাকে না। যত শক্তিশালী শাসকই হোক না কেন, বিরোধী পরিসর থাকেই। সেই পরিসরে কেউ যদি গা ছাড়া ভাব দেখায় তা হলে কোনও নৈরাজ্যবাদী বা মৌলবাদী শক্তি উঠে আসার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

কংগ্রেস গুজরাতে যে ফেল করেছে তা শোচনীয় বললেও কম বলা হবে। বরং এটা বলা যেতে হবে কংগ্রেস গুজরাতে লড়েইনি। আবার হিমাচলে কংগ্রেস লড়ার মতো লড়েছে। এবং এই লড়াই শুরুর আগেও একটা লড়াই আছে। কংগ্রেসের একদা মুখ্যমন্ত্রী তথা বীরভদ্র সিংয়ের স্ত্রী প্রতিভা সিং এক বছর আগে হিমাচলে উপ নির্বাচনে বিজেপিকে পরাস্ত করে জিতেছেন। সেই সময়ে হিমাচলে আরও দুটি বিধানসভারও উপ নির্বাচন ছিল। সেই দুই আসনেও ডাহার হারে শাসক দল বিজেপি। তার প্রতিভা সিং রাজ্যে কংগ্রেসের সভানেত্রী হন।

তার উপর আইসিং অন দ্য কেকের মতো ছিলেন প্রিয়ঙ্কা গান্ধী। সাদা চোখে গত ছমাস ধরে দেখা গিয়েছে হিমাচলে দফায় দফায় পড়ে থাকছেন প্রিয়ঙ্কা গান্ধী। ঘনঘন যাচ্ছেন ছত্তীসগড়ের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেশ বাঘেল, শচীন পাইলটরা। আবার গুজরাতকে সেদিক থেকে সিলেবাসের বাইরে করে রেখেছিল কংগ্রেস। যেন হারার আগেই হেরে গিয়েছিল কংগ্রেস। দেবভূমের ক্ষেত্রে যে সিরিয়াসনেস দেখিয়েছিল কংগ্রেস মোদীর রাজ্যের ক্ষেত্রে তা দেখায়নি।

বিশ্লেষকরা অনেকে এও বলছেন, এখানে আরও একটি বিষয় প্রাসঙ্গিক। ষেখানে মজবুত আঞ্চলিক নেতৃত্ব রয়েছে সেখানে মোদীর মুখ দিয়েও বিজেপি ভোটে জিততে পারছে না। হিমাচলে কংগ্রেসের মজবুত নেতৃত্ব ছিল। তুলনায় বিজেপির ঘরে ছিল কোন্দল। সেই কোন্দল আসলে দুর্বল নেতৃ্ত্বের কারণেই তৈরি হয়। গুজরাতে এক সময়ে নরেন্দ্র মোদীর উপর ক্ষুব্ধ ছিলেন কেশুভাই প্যাটেল। কিন্তু মোদী এতটাই নির্ণায়ক নেতৃত্ব দেন যে কেশুভাইরা বিক্ষুব্ধ রাজনীতি করেও হালে পানি পাননি।

এই প্রতিবেদনের শুরুতে যে শিক্ষার প্রসঙ্গ লেখা হয়েছিল তা কংগ্রেসের কাছে ছিল। সাত বছর আগে ‘১৫ সালের দিল্লি ছিল সেই শিক্ষার অন্যতম। তারপর হালে পাঞ্জাব। সে রাজ্যে কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ কোন্দলই আপের রাস্তা পরিষ্কার করে দিয়েছিল। ক্যাপ্টেন অমরেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে সিধুর গণ্ডগোল রোখা যায়নি কংগ্রেসের সাংগঠনিক দুর্বলতার জন্য। গুজরাতে দুর্বল কংগ্রেসের মাটি খাবলে নিল আপ। পারল না হিমাচলে।

হিসেব স্পষ্ট। কংগ্রেস কি সেই হিসেবের দিকে তাকাবে?

মোদীর রাজ্যে গেরুয়া গর্জন, নাড্ডার রাজ্য হাতছাড়া, দেবভূমে ফিরল কংগ্রেস

You might also like