Latest News

বিষ্ণুপুরে যুবককে বাঁশ-রড দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে, থেঁতলে আধমরা! গ্রেফতার তিন অভিযুক্ত

দ্য ওয়াল ব্যুরো: চরম নৃশংসতার সাক্ষী থাকল রাতের বিষ্ণুপুর। বচসার জেরে যুবককে নৃশংস ভাবে রাস্তার মাঝে রড, লাঠি, শাবল দিয়ে বেধড়ক মারধর করে থেঁতলে দেওয়া হল দেওয়ালে! মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন ওই যুবক। গ্রেফতার হয়েছে তিন অভিযুক্ত।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সূত্রপাত গত ১৯ জুলাই। সেদিন সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ পাড়ার এক বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে উল্টোরথ দেখতে যান বিষ্ণুপুরের কাদাকুলি মহাপাত্রপাড়ার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা উৎপল মহাপাত্র। যাওয়ার পথে আনুমানিক রাত ৮টা নাগাদ বিষ্ণুপুর বড় কালীতলা মন্দিরের সামনে বাইকের হ্যান্ডেল লেগে যায়। এই নিয়ে সেখানকার তিন ব্যক্তির সঙ্গে বচসা বাঁধে উৎপলদের।

অভিযোগ, তাঁদের দুজনকেই কয়েকটি থাপ্পড় মেরে বসে বচসাকারী ৩ জন। তবে এখানেই শেষ নয়। এর পর আনুমানিক রাত ১০টা নাগাদ উল্টোরথ থেকে ফেরার সময়ে ওই একই জায়গায় ফের উৎপল ও তাঁর বন্ধুর পথ আটকায় বচসাকারী ওই ৩ জন। বাঁশ, লাঠি, রড এবং পাঞ্চ দিয়ে বেধড়ক মারধর করে উৎপলকে।

অভিযোগ, মার খেয়ে উৎপল অজ্ঞান হয়ে গেলে, তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করতে কালী মন্দিরের পিছনের দেওয়ালে তাঁর মুখ থেঁতলে দেওয়া হয়। ওই রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে ফেলে চম্পট দেয় তিন দুষ্কৃতী। এর পরে গুরুতর অবস্থায় উৎপলকে বিষ্ণুপুর সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে, তাঁকে রেফার করা হয় বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজে।

বাঁকুড়ার ওই হাসপাতালে উৎপলের জ্ঞান ফিরলেও ২১ তারিখ সেখান থেকে তাঁকে ফের রেফার করা হয় কলকাতায়। পরিবারের দাবি, সেখানেও চিকিৎসা পাননি মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করতে থাকা উৎপল মহাপাত্র। এনআরএস হাসপাতাল থেকে ফিরিয়ে দেওয়ার পর পিজি হাসপাতালে ইমারজেন্সি বিভাগে চিকিৎসা করিয়ে তাঁকে বিষ্ণুপুরের বাড়িতেই ফিরিয়ে আনতে বাধ্য হয় উৎপলের পরিবার।

ঘটনার লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে থানায়। অভিযোগ পাওয়ার ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেফতার করা হয় ৩ অভিযুক্তকে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ তারিখ বেলিয়াতোড় থেকে গ্রেফতার করা হয় তাপস দাসকে এবং ২৪ তারিখ বিষ্ণুপুর থেকেই গ্রেফতার করা হয় খোকা দাস এবং শুভজিৎ কর্মকারকে। যত দ্রুত সম্ভব সাজা পাক তারা, এটাই চাইছে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়তে থাকা উৎপলের পরিবার।

You might also like