Latest News

মাস্কে মুখ ঢাকা বন্ধুদের চিনতে পারলাম, সেটা দারুন অনুভূতি

সাগর বিশ্বাস

এতদিন পর স্কুলে (School) এসে সবথেকে বেশি খুশি হয়েছি আমার প্রিয় বন্ধুর (Student) সঙ্গে দেখা হওয়ায়। যতদিন স্কুল বন্ধ হয়েছে, সেই থেকে বলাই যায় প্রায় বন্ধই ছিল ওর সঙ্গে দেখা। মোবাইলেও কথা হত না তেমন। বহুদিন পর বন্ধু প্রীতমের সঙ্গে দেখা হয়ে খুব খুশি হয়েছি।

প্রীতমের বাড়িতে একটি মোবাইল। পড়ার জন্য সামান্য সময়ের জন্য হাতে পেত মোবাইলটা। তাই বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করার সুযোগ পেত না। আমার সঙ্গেও কথা হত না।যেহেতু ক্লাস নাইনে পড়ি, সেভাবে হাতে মোবাইল পাইনা। স্কুলের দেখা হওয়া, আড্ডাটা অধরাই থেকে গিয়েছিল।

স্কুলে আসার পেছনে অন্যতম কারণই ছিল প্রীতমের সঙ্গে দেখা করার তাগিদ। পাশাপাশি ছিল ক্লাসে বসে ক্লাস করার ইচ্ছা। স্কুলের দরজা খোলার পরই যেন সেটাই ফিরে এল মুক্ত বাতাসের মত।

আনন্দ যেমন ছিল, তেমন ভয়ও ছিল মনে। ভ্যাকসিন হয়নি আমাদের, তাই করোনা হয় যদি, আবার গৃহবন্দি হয়ে যাব। কিন্তু বন্ধু, টিচার সকলের দেখা পেয়ে সেই ভয় কেটে গেছে। স্কুলের বেল যেন কানে বাজছে এখনও।

মুখে মাস্ক পড়ে যেহেতু ক্লাস করিনি আগে কখনও, তাই সেটা ঘিরে অন্য অনুভূতি ছিল। মুখে মাস্ক থাকলেও, বন্ধুদের যে চিনে ফেলা যায়, সেটা উপভোগ করলাম আজ। ভালই কাটল প্রথমদিন। তবে হ্যাঁ লাইনে দাঁড়িয়ে জাতীয় সঙ্গীতটা মিস করলাম। হয়তো আবার সেই পুরোনো ছন্দে ফিরবে, তবে এটাই মন্দ কি।

লাইন করে স্কুলে ঢোকা, হাতে স্যানিটাইজার দেওয়া বারবার, থার্মাল গানে তাপমাত্রা মেপে নেওয়া এগুলো প্রথম অনুভূতি হয়ে থাকল স্কুল জীবনে। পরের বছর মাধ্যমিক দেব, তাই এখন থেকে ক্লাস শুরু হওয়ায় পড়াশুনাটাও আগের মত হবে, সেই আশাই রাখি। অনলাইনে যতই পড়ি, স্কুলে গিয়ে আজ সমানে থেকে টিচারের পড়া শুনে মন ভরে গেল। আর শেষে বন্ধুদের বলা, ‘আবার কাল দেখা হবে’ এটাই ভাল থাকার ভ্যাকসিন।

(ভিআইপি নগর হাইস্কুল, ছাত্র)

পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা সুখপাঠ 

You might also like