Latest News

জলপাইগুড়িতে সোনালি তক্ষক উদ্ধার, চিনে পাচারের ছক বানচাল

দ্য ওয়াল ব্যুরো : বন দফতরের অভিযানে উদ্ধার হল অতি বিরল প্রজাতির একটি সোনালি তক্ষক। এর আসল নাম ‘গোল্ডেন গেকো’! ভিয়েতনামের আদি বাসিন্দা এই তক্ষকটি মেঘালয়, নেপাল হয়ে চিনে পাচারের মতলব ছিল পাচারকারী দলের। সেই ছক বানচাল হয়ে গেল জলপাইগুড়ির বৈকন্ঠপুর বনবিভাগের বেলাকোবা রেঞ্জের বনকর্মীদের প্রচেষ্টায়। জানা গিয়েছে, শিলিগুড়িতে পৌঁছনোর পর সোনালি তক্ষকটি হাতবদল হত ২৫ লক্ষ টাকায়!

বন্যপ্রাণী ও বন্যপ্রাণীর দেহাংশ ইত্যাদি পাচারকারীদের বিরুদ্ধে বেলাকোবা রেঞ্জ উল্লেখযোগ্য কাজ করেছে আগেও। শুক্রবার রাতেও তঁৎ পেতে বসে পেতে অতি বিরল প্রজাতির সোনালি তক্ষক উদ্ধার করেছেন বেলাকোবা রেঞ্জের বনকর্মীরা। বমাল গ্রেফতার হয়েছে পাচারকারী দলের ৩ সদস্যও। জানা গিয়েছে, গোপন সূত্রে সেই খবর পেয়ে ওদলাবাড়ি এলাকায় টিম নিয়ে অভিযান চালান বেলাকোবার রেঞ্জ অফিসার সঞ্জয় দত্ত। শুক্রবার রাতে ডুয়ার্সের ওদলাবাড়ি এলাকার কাছে একটি ধাবার কাছে ওঁৎ পেতে বসে থাকেন তাঁরা। নির্দিষ্ট নম্বরের গাড়িটি এলে তল্লাশি চালিয়ে একটি ব্যাকপ্যাকের ভেতর থেকে উদ্ধার হয় গোল্ডেন গেকোটি।

বিশ্বজোড়া বন্যপ্রাণী ও বন্যপ্রাণীর দেহাংশ পাচারের শেষ গন্তব্য চিন। চিনের বাজারে এইধরনের নানা বন্যপ্রাণীর চাহিদা আকাশছোঁয়া। উদ্ধার হওয়া গোল্ডেন গেকোটিও চিনে পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। মেঘালয় থেকে আনা হচ্ছিল সোনালি তক্ষকটি। শিলিগুড়িতে বিপুল অঙ্কের টাকার বিনিময়ে হাতবদলের পর সেটি যেত নেপালে এবং নেপাল থেকে চিনে চলে যেত বহুমূল্য তক্ষকটি। কিন্তু শেষপর্যন্ত সেই অপচেষ্টা রুখে দিয়েছেন বৈকন্ঠপুর বনবিভাগের বেলাকোবা রেঞ্জার সঞ্জয় দত্ত এবং তাঁর সহকর্মীরা। এটিকে তাঁদের বন্যপ্রাণী পাচারকারীদের বিরুদ্ধে ফের বড়সড় সাফল্য বলে মনে করা হচ্ছে।

গোল্ডেন গেকো প্রাথমিকভাবে কীটপতঙ্গভুক সরীসৃপ হলেও এরা কিছু ফলও খেয়ে থাকে। আর পাতায় লেগে থাকা বা পত্রবৃন্তে সঞ্চিত বৃষ্টির জল পান করে তৃষ্ণা মেটায়। সারা শরীরের সোনা রঙের আঁশের কারণে গোল্ডেন গেকো নাম পেয়েছে প্রাণীটি। সোনালি তক্ষকের পুরুষরা দৈর্ঘ্যে (লেজ সহ) প্রায় ৭ থেকে ৮ ইঞ্চি পর্যন্ত হতে পারে, কিন্তু এদের স্ত্রীরা ৫ থেকে ৬ ইঞ্চির বেশি লম্বা হয় না। পুরুষদের লম্বা লেজের গোড়ায় মাংসল গিঁটের মতো দেখা যায়। আর পায়ের তলার অংশে ছিদ্র দেখা দেয়। স্ত্রীগুলির ক্ষেত্রে এগুলোর কোনওটাই থাকে না। ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অফ নেচার (IUCN) প্রাণীটিকে বিপন্ন প্রজাতির বলে চিহ্নিত করেছে।

You might also like