Latest News

পণের দাবিতে অন্তঃসত্ত্বার পেটে লাথি, হাতে কাস্তের কোপ! বীভৎস কাণ্ড জলপাইগুড়িতে

দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: চার বছর আগে বিয়ে হয়েছে মহিলার। এরপর থেকেই পণের (dowry) দাবিতে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁর ওপর অত্যাচার (torture) চালায়। সঙ্গে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ। বর্তমানে তিনি অন্তঃস্বত্ত্বা (pregnant woman)। এরপরেও রেহাই মেলেনি। পণ নিয়ে বিবাদ, কথাকাটাকাটির মধ্যেই এবার সেই মহিলার পেটে সজোরে লাথি মারল শ্বশুরবাড়ির লোকেরা। সেখানেই না থেমে তাঁর হাতে মারা হলো কাস্তের কোপ। ঘটনাটি ঘটেছে জলপাইগুড়ির (Jalpaiguri) ময়নাগুড়িতে।

ময়নাগুড়ির কুমারপাড়া এলাকার বাসিন্দা ওই নির্যাতিতা। রাখালহাট কামার পাড়া এলাকার দিবেশ পালের সঙ্গে চার বছর আগে বিয়ে হয় তাঁর। একটি কন্যা সন্তানও রয়েছে তাঁদের। বর্তমানে সেই মহিলা পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। শীঘ্রই আরও এক সন্তানের জন্ম দেবেন তিনি। এমন অবস্থাতেও তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকেরা প্রায় রোজ শারীরিক ও মানসিকভাবে অত্যাচার চালাত।

শুক্রবার সকালে ফের পণ নিয়ে অশান্তি শুরু হয় সংসারে। এরপরই ওই মহিলাকে পেটে লাথি মারে এবং কাস্তে দিয়ে হাতে কোপ মারে শ্বশুরবাড়ির লোকেরা। প্রাণে বাঁচতে কোনওরকমে সেই বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে এলাকার এক মুদি দোকানে আশ্রয় নেন তিনি। শেষে তাঁরাই ওই মহিলাকে ময়নাগুড়ি গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে আসেন। সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় চিকিৎসা। হাসপাতাল সূত্রে খবর, সেই মহিলার হাতে আটটি সেলাই পড়েছে।

বাড়িতে ঢুকতে দিচ্ছে না নতুন স্বামীর পরিবার! স্ত্রীর অধিকার চেয়ে ধর্নায় অন্তঃসত্ত্বা মহিলা

এরপর ময়নাগুড়ি থানার দ্বারস্থ হন ওই নির্যাতিতা। শ্বশুরবাড়ির সকলের বিরুদ্ধে ডায়েরি করেন পুলিশের কাছে। পরে তিনি জানান, বিয়ের তিন মাস পর থেকেই শ্বশুরবাড়ির লোকেরা তাঁর ওপর অত্যাচার চালাত। এই অবস্থায় একাধিকবার বাপের বাড়ি গিয়ে উঠলেও ফের শ্বশুরবাড়ি ফিরে আসেন তিনি। এর আগে নাকি তাঁকে ইলেকট্রিক শক দিয়ে মারার চেষ্টাও করা হয়েছিল। সেবার কোনওরকমে প্রাণে বেঁচে যান সেই নির্যাতিতা।

স্থানীয় বাসিন্দা পবিত্র রায় এই ঘটনার বিষয়ে বলেন, ‘এই পরিবারে দীর্ঘদিন ধরে গণ্ডগোল চলছে। বাড়ির বৌয়ের উপর বহুদিন ধরে নির্যাতন চালান হচ্ছে। সেই মহিলাও বারবার নিজের বাপের বাড়ি চলে যান, আবার পরে ফিরেও আসেন। আজকেও একই ঘটনা ঘটল। আমরা এই পরিবারের কঠোর শাস্তি চাইছি।’ এদিকে, সেই মহিলার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমেছে ময়নাগুড়ি থানার পুলিশ।

You might also like