Latest News

হাওড়ায় গরম মোম ঢেলে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রকে শাস্তি! অভিযুক্ত গৃহশিক্ষক

দ্য ওয়াল ব্যুরো: হোম ওয়ার্ক করেনি ছাত্র। শাস্তি হিসেবে গায়ে গরম মোম ঢেলে দিলেন গৃহশিক্ষক। ঘটনায় গুরুতর জখম হয় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র। ঘটনায় স্তম্ভিত পরিবার।

মা, বাবা, দাদা, দিদির সঙ্গে থাকে সে। গত ১৪ অগাস্ট সন্ধ্যেবেলা দাদা-দিদির সঙ্গে পড়তে বসেছিল সে। অভিযোগ, পড়া ধরলে বলতে না পারায় মোমবাতি জ্বালিয়ে গরম মোম গায়ে ঢেলে দেন গৃহশিক্ষক দীপক প্রজাপতি। এমনকি গায়ে গরম ছেঁকা দেওয়াও হয়। অভিযুক্ত গৃহশিক্ষকের নামে ১৯ অগাস্ট গোলাবাড়ি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে পরিবার। তবে এখনও অভিযুক্তকে ধরতে পারেনি পুলিশ।

সালকিয়ার এক ফুল বিক্রেতার তিন ছোট ছেলে মেয়ে স্থানীয় গৃহশিক্ষক দীপক প্রজাপতির কাছে পড়ত। গত ১৪ অগাস্ট ওই গৃহশিক্ষক সন্ধ্যেবেলায় ওই ফুল ব্যবসায়ীর বাড়িতে পড়াতে যায়। সেই সময় বাড়িতে দ্বিতীয় শ্রেণীর ওই ছাত্রের বাবা মা ছিলেন না। সে দাদা এবং দিদির সঙ্গে পড়তে বসে। পরে ওই শিক্ষক বাচ্চাটিকে পড়া ধরলে সে না পারায় উত্তেজিত হয়ে যায়। অভিযোগ এরপরই মোমবাতি জ্বেলে গরম মোম ওই বাচ্ছাটির গায়ের বিভিন্ন জায়গায় ঢেলে দেয়। এর পাশাপাশি শরীরে গরম হাতা দিয়ে ছ্যাকা দেয় বলে অভিযোগ। শিশুটির হাতে পায়ে ও পিঠে বড় বড় ফোসকা পড়ে যায়। যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকে।

শিশুটির বাবা-মা বাড়ি ফিরে এলে তাদেরকে শিশুটির দিদি এবং দাদা সব খুলে বলে। এরপর স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে শিশুটিকে নিয়ে যায় তার বাবা-মা। তাকে চিকিৎসার পর গোলাবাড়ি থানায় নিয়ে গিয়ে গোটা ঘটনাটা পুলিশকে বলে। পরেরদিন হাওড়া জেলা হাসপাতালে শিশুটিকে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে চিকিৎসা করেন। এরপর গত ১৯ অগাস্ট দীপক প্রজাপতি নামে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে গোলাবাড়ি থানায় এফআইআর করেন তার মা।

পরিবারের তরফে পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তোলে পরিবার। পুলিশ কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রতিবেশীদের সহায়তায় শিশুটির মা বুধবার হাওড়া সিটি পুলিশের কমিশনারের সঙ্গে দেখা করেন। কমিশনারের নির্দেশে গোলাবাড়ি থানা পুলিশ নড়েচড়ে বসে। পুলিশ তদন্ত শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার হয়নি অভিযুক্ত। শিশুটির পরিবার চাইছে অবিলম্বে ওই শিক্ষককে গ্রেফতার করা হোক।

You might also like