Latest News

মাংস কেন কম, বিয়ের আসরে অসভ্যতা পাত্রপক্ষের, বিয়ে ভাঙলেন কনে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমাদের সমাজ পুরুষতান্ত্রিক। বরাবরই এখানে কন্যাকে পাত্রের হাতে দান করা হয়, পাত্রপক্ষের সামনে মেয়ের বাড়িকে থাকতে হয় মাথা নিচু করে। এই বস্তাপচা, চাপিয়ে দেওয়া নিয়মের বেড়াজালকে ছিড়ে ফেলে নতুন আলো দেখছে আজকের মেয়েরা। এই ঘটনা তারই জ্বলজ্যান্ত সাক্ষ্য বহন করে।

পণপ্রথা থেকে খাওয়াদাওয়া নিয়ে পাত্রপক্ষের একপ্রকার দাদাগিরি চলে। এমনই ঘটনা ঘটল বর্ধমানের গলসিতে। নিজেই দায়িত্ব নিয়ে ভাঙলেন নিজের বিয়ে। বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে শুরু হয়েছিল খাওয়াদাওয়া। হঠাৎই বরপক্ষ দাবি করে, পাতে মাংস কম পড়েছে আর তাই নিয়ে বচসা থেকে বেধে যায় হাতাহাতি। প্যান্ডেল তছনছ করে দেন তাঁরা। মাথা ঠান্ডা হওয়ার পরে দুই পরিবারই মিটমাটের রাস্তায় যেতে চাইছিলেন। কিন্তু বেঁকে বসলেন পাত্রী, আত্মসম্মানকে মযার্দা দিয়েছেন তিনি। সামান্য বিষয় নিয়ে এমন ধুন্ধুমার ঘটানো পরিবারের ছেলের সঙ্গে সংসার করবেন না জানিয়ে বিয়ে ভাঙলেন তিনি।

শনিবার গলসির বাহিরঘন্না গ্রামে কনের এমন সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন পরিজন থেকে পড়শিরা। পাত্রীর বাবা, পেশায় দিনমজুর। তিনি বলেন, “গোড়ায় খানিক দ্বিধায় ছিলাম। কিন্তু পরে মেয়ের সিদ্ধান্তই ঠিক বলে মনে হয়েছে। ওই শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে ও ভাল থাকত না।” বছর একুশের ওই তরুণী সটান জানান, “যাঁরা সামান্য মাংসের জন্য বিয়েবাড়িতে ভাঙচুর করতে পারে, তাঁদের বাড়ির বৌ হতে পারব না।”

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার জনা সত্তর বরযাত্রী-সহ পাত্র বিয়ে করতে আসেন। কনের পরিবার জানায়, দুপুরে মসজিদে বিয়ে হয়। বাড়িতে ছিল উৎসবের পরিবেশ। রীতি মেনে কাজী এসে রেজিস্ট্রেশন করান। এর পরেই বরযাত্রীরা খেতে বসে মাংস কম দেওয়া হচ্ছে দাবি করে। দু’পক্ষের মনোমালিন্য হয়। অভিযোগ, এর পরেই কয়েকজন বরযাত্রী ভাঙচুর করে।

বিয়েবাড়িতে ঝামেলার খবর পেয়ে পুলিশ আসে কিন্তু কোনও লিখিত অভিযোগ না থাকায় গ্রেফতার করা হয়নি কাউকে। পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার দু’পক্ষ বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় বসেন। মিটমাটও হয়ে গিয়েছিল প্রায়। কিন্তু তখনই বিয়ে ভাঙার কথা ঘোষণা করেন বিয়ের কনে। দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করা মেয়েটি জেদ ধরায় কাজীকে ডেকে ‘তালাকপত্র’ তৈরি করা হয়। কনের বাবা বলেন, ‘”মেয়ের কথা শুনেই তালাকের ব্যবস্থা করেছি।” পাত্রীর বক্তব্য, “ওই বাড়িতে গিয়ে শান্তি পেতাম না।”

বিয়ের পাত্রীর এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন অনেকেই। কনের দিনমজুর বাবা জানান যে নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী তাঁরা আয়োজন করেন বিয়েতে। পাত্রপক্ষের পাতে মাংস কম দেওয়ার অভিযোগকে তিনি মানতে নারাজ পাত্রীর বাবা।

You might also like