Latest News

কালনায় অস্বাভাবিক মৃত্যু দশম শ্রেণির ছাত্রর, স্কুলে ভ্যাকসিন নিয়েই অসুস্থ বলে দাবি পরিবারের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন স্কুলে চলছে ছোটদের ভ্যাকসিনেশন। ১৫ থেকে ১৮ বছরের ছেলেমেয়েরা ভ্যাকসিন পাচ্ছে সরকারি উদ্যোগে। পূর্ব বর্ধমানের সমুদ্রগড় পঞ্চায়েতের অন্তর্গত বনপুকুর এলাকার সিংহজুলি হাই মাদ্রাসাতেও চলছিল এই ভ্যাকসিনেশন। অভিযোগ, সেখানেই ভ্যাকসিন নিয়ে মৃত্যু হয়েছে দশম শ্রেণির এক ছাত্রের।

তবে ছাত্রের পরিবারের তরফে এমন অভিযোগ উঠলেও, ভ্যাকসিন নিয়েই মৃত্যু কিনা, তার সত্যতা বা যুক্তি নিয়ে এখনও নিশ্চিত হওয়ার কোনও কারণ ঘটেনি বলেই জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

জানা গেছে, বনপুকুর এলাকার বাসিন্দা, বছর পনেরোর ইউসুফ মুন্সি ৬ জানুয়ারি ভ্যাকসিন নিয়েছিল  সিংহজুলি হাই মাদ্রাসাতে। পরিবারের দাবি, এর পরেই শরীর অসুস্থ হয়ে পড়ে সে। পেটে ব্যথা আর শরীর দুর্বল লাগার কারণে প্রথমে কালনা হসপিটালে ভর্তি করা হয় তাঁকে। পরে বর্ধমান মেডিক্যাল হসপিটালে নিয়ে গিয়েও চিকিৎসা করানো হয় তাঁর।

তার পরে কয়েক দিন চিকিৎসা চলার পরে আজ, শুক্রবার সকালে তার অবস্থার ফের অবনতি হয়। বর্ধমান থেকে আবার কালনা হাসপাতালে তাকে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।

মৃত ছাত্রের পরিবারের লোকেদের দাবি, ভ্যাকসিন নেওয়ার পরেই শারীরিক অসুস্থতা থেকে মৃত্যু হয়েছে তাঁদের ছেলের। তাঁরা অভিযোগ তুলেছেন, ভ্যাকসিন না নিলে এমন হতো না। ঘটনার কথা শোনা যেতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বনপুকুর এলাকায়।

মৃত ছাত্রের মামা নাসারুল শেখ জানান, ভ্যাকসিন নেওয়ার আগে পর্যন্ত প্রাণবন্ত ছিল সে। গ্রামের যে কোনও আপদবিপদে ঝাঁপিয়ে পড়ত। ৬ তারিখ স্কুলে ভ্যাকসিন নেওয়ার পরেই তার খাওয়াদাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। পা ফুলে যায়, হাঁটতে পারছিল না সে। তাঁর কথায়, “ওষুধ খেয়েও সুস্থ হয়নি ছেলে। পরিস্থিতি খারাপই হতে থাকে। বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে গিয়ে ইউএসজি করা হয়। তাতে খারাপ কিছু মেলেনি। কিন্তু ধীরে ধীরে ওর কথা বন্ধ হয়ে যায়। আজ সকালে আরও খারাপ হল, কালনা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময়ে মারাই যায় ও। ডাক্তাররা এই মৃত্যুর কারণ ধরতে পারছেন না। ওঁকে স্যালাইন দেওয়া হয়নি কেন, সে প্রশ্ন করেছেন। কিন্তু আমরা তো হাসপাতালে নিয়ে গেছিলাম। স্যালাইন দেওয়ার কথা তো কেউ বলেননি! আমরা ভ্যাকসিনটাকেই ছেলের মৃত্যুর কারণ বলে মনে করছি। ”

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আজ কালনা মহকুমা হাসপাতালে মৃতদেহের ময়নাতদন্ত করা হবে। কালনা মহকুমা হসপিটালে সুপার অরূপরতন কর জানান, পোস্টমর্টেম করলে তবেই মৃত্যুর সঠিক কারণ অনুসন্ধান জানা যাবে। সম্ভবত ভ্যাকসিনের কারণে এই মৃত্যু নয় বলেই জানিয়েছেন তিনি।

তাঁর কথায়, “দেহ আসার পরে আমরা বাড়ির লোকের কথা শুনেছি। ওঁরা বলেছেন ভ্যাকসিন নেওয়ার পরেই নাকি ছেলেটি অসুস্থ হয়ে পড়ে। তার পরেই হাসপাতালে ভর্তি করেন ওঁরা। ভ্যাকসিন-জনিত কারণে এরকম কোনও মৃত্যুর খবর আমরা পাইনি। সম্ভবত ওর অন্য কোনও অসুখ ছিল। পোস্টমর্টেম করার পরে নিশ্চয় আমরা কারণ খুঁজে পাব। বাড়ির লোক ভ্যাকসিনকে দায়ী করলেও, সেটা সত্যি নয় বলেই মনে হচ্ছে। ১৫ থেকে ১৮ বছরের ছেলেমেয়েদের কোভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে, সকলেই সুস্থ আছে বলেই খবর। সকলে এগিয়ে এসে ভ্যাকসিন নিয়ে নিলেই ভাল, কোভিড বিধি মেনে চলতে হবে।”

You might also like