Latest News

৭৪ বছরে কোলে এল দুই ফুটফুটে সন্তান, বেশি বয়সে মা হওয়ার রেকর্ড করলেন মাঙ্গাম্মা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১৯৬২ তে ২২ শে মার্চ বিয়ে করেছিলেন এরমাট্টি মাঙ্গাম্মা এবং এরমাট্টি রাজা রাও।  একটা দুটো করে ৫৭ টা বছর পেরিয়ে গেছে।  নিঃসন্তান দম্পতির কোলে এবার এসেছে সন্তান।  তাও একজন নয়, দু-দুটো লক্ষ্মী এসেছে অন্ধ্রপ্রদেশের গুন্টুরের এই দম্পতির কাছে।

এখন মাঙ্গাম্মার বয়স ৭৪! রাজা রাও ৮০ ছুঁয়েছেন।  বারবার তাঁরা এক একজন ডাক্তারের কাছে গেছেন, কিন্তু কোনও সুফল পাননি।  শেষে ২০১৮-এর নভেম্বরে গুন্টুরের অহল্যা নার্সিংহোমে ডাঃ এস উমাশঙ্করের কাছে যান।  তিনি এটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে নেন।

উমাশঙ্কর বলছেন, “মাঙ্গাম্মার বয়স ৭৪ হলেও, তাঁর ব্লাড প্রেশার, সুগারের সমস্যা নেই, বংশগত কোনও রোগও পাওয়া যায়নি।  তাঁর তিরিশ বছর আগে মেনোপজ় হয়ে গেছে।  আইভিএফ পদ্ধতির মাধ্যমে তাঁর পিরিয়ডস এক মাসের মধ্যে আমরা আবারও চালু করতে পেরেছিলাম। ”

রাজা রাওকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল কেন এই বয়সে এসে এই ঝক্কি নিতে চাইছেন তাঁরা? তিনি বলছেন, অন্ধ্রপ্রদেশের যে জায়গায় তাঁরা থাকেন, সেখানে প্রতিবেশীরা সবসময় তাঁদের নানা কথা শুনিয়েছেন নিঃসন্তান বলে।  তাঁরাও সবসময়েই চেয়ে এসেছেন তাঁদের ঘরে ফুটফুটে শিশু খেলে বেড়াক, তার হাসির খিলখিল শব্দ শোনা যাক।  তাই বারবার ফল না পেয়েও তাঁরা চেষ্টা থামাননি।  শেষে এসেছে সাফল্য।

৫ই সেপ্টেম্বর দুই শিশুর জন্ম দিয়েছেন মাঙ্গাম্মা।  তিনি বলছেন, তাঁরই এক প্রতিবেশী ৫৫ বছর বয়সে মা হয়েছিলেন, আর সেই ঘটনাই তাঁকে অনুপ্রাণিত করেছে।  উমাশঙ্কর বলছেন কৃষক এই পরিবারটি বেশ কিছু বছর ধরে নিজেদের প্রস্তুত করেছেন আস্তে আস্তে, যাতে চিকিৎসার খরচে কোনও সমস্যা না হয়।  গত বছরের নভেম্বর, ডিসেম্বরে অন্য এক মহিলার ডিম্বানু এবং রাজা রাওয়ের শুক্রাণু নিয়ে মাঙ্গাম্মার দেহে আইভিএফ পদ্ধতিতে রাখা হয়।  টানা পর্যবেক্ষণে রাখা হয় মাঙ্গাম্মাকে।  সিজ়ারিয়ান পদ্ধতিতে এই দুই শিশুর জন্ম দেন মাঙ্গাম্মা।  তাদের ওজন প্রায় ১ কেজি ৮০০ গ্রাম।  এর বেশি কিছু হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়নি।

উমাশঙ্কর বলছেন, মেয়েদের বুকের দুধ খাওয়াতে পারবেন না মাঙ্গাম্মা।  তবে তাতেও সমস্যা নেই, মিল্ক ব্যাঙ্ক থেকে দুধ নিয়ে মেয়েদের খাওয়াতে পারবেন মাঙ্গাম্মা।  এর আগে ৭২ বছরের দলজিন্দর কৌর ২০১৬ তে হরিয়ানায় জন্ম দিয়েছিলেন ২ কেজি ওজনের এক ফুটফুটে সন্তানের।  সেক্ষেত্রেও আইভিএফ পদ্ধতিরই সাহায্য নেওয়া হয়েছিল।  এখনও পর্যন্ত মনে করা হচ্ছে, সবচেয়ে বেশি বয়সে মা হলেন গুন্টুরের এই মহিলা।  আপাতত সুস্থ আছেন মাঙ্গাম্মা এবং তাঁর দুই সন্তান।

মাঙ্গাম্মা এখন শুধুই ‘আম্মা’ শোনার অপেক্ষায়।

You might also like