Latest News

ইরানের সেনাপ্রধান সোলেমানিকে হত্যা করতে ব্যবহার করা হয় প্রায় সাড়ে ছ’কোটি ডলারের এয়ারক্র্যাফট

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাগদাদে বাণিজ্যিক বিমান থেকে নামার অনেক আগেই ভাগ্য নির্ধারণ হয়েই গিয়েছিল ইরানের সেনাপ্রধান কাশেম সোলেমানির।

কুদস বাহিনীর কমান্ডার সোলেমানিকে হত্যার কয়েক ঘণ্টা আগেই লেবাননের রাজধানী বেইরুটে বসে মার্কিন বাহিনী জেনে নিয়েছিল সোলেমানি কখন কোথায় যাবেন তার খুঁটিনাটি। তারা সেখানে বসেই দেখেছে বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগামী বিমানে উঠেছেন সোলেমানি। একথা জানিয়েছেন ওই হামলার সঙ্গে যুক্ত এক মার্কিন আধিকারিক।

ড্রোনের সাহায্যে সোলেমানির উপরে নজর রাখা হচ্ছিল যখন তিনি বাগদাদের উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন তখন থেকেই। নজরদার ড্রোনগুলির মধ্যে একটি ছিল জেনারেল অ্যাটমিক্সে তৈরি। এটি লেজার দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা হয় এবং আকাশ থেকে মাটিতে ক্ষেপণযোগ্য হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্রে সজ্জিত ছিল। খুব ‘হাইপ্রোফাইল’ ব্যক্তির উপরে হামলা করার জন্য এটি ব্যবহার করা হয়। জেনারেল অ্যাটমিক হল একটি মার্কিন সংস্থা যার প্রধান কার্যালয় সান ডিয়েগোয়।

রিপার নামে যে ৬.৪০ কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের বিশাল এয়ারক্র্যাফটি ব্যবহার করা হয়েছিল ডানা সমেত সেটি ২০ মিটার চওড়া। হামলা করার অন্তত দশ মিনিট আগে থেকে এটি সোলেমানি ও মার্কিন সেনাদের ‘শত্রু’দের নজরে রেখেছিল।

সম্ভবত রিপারে বসানো ক্যামেরার সাহায্যেই সোলেমানিকে চিহ্নিত করা হয়, তাঁর অবস্থান ঠিক কোথায় সে ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া  যায় এমনকি তিনি তখন কী ধরনের পোশাক পরেছিলেন সে ব্যাপারেও নিশ্চিত হওয়া যায় বলে জানিয়েছেন ইরাক ও আফগানিস্তান মিশনে যুক্ত প্রাক্তন মার্কিন স্পেশাল অপারেশন সোলজার ব্রেট ভেলিকোভিচ।

কী ভাবে হামলা করা হয়েছিল তা একনজরে দেখে নিন।

দুটি গাড়ির কনভয়ের প্রথম গাড়িটি ছিল সোলেমানির। তারা বিমানবন্দর ছেড়ে রাস্তায় উঠছিল। রাস্তায় ওঠার কয়েক সেকেন্ড আগেই দু’টি করে হেলফায়ার গাড়ি দুটিকে আক্রমণ করে। এর ফলে একজন সাধারণ নাগরিকেরও মৃত্যু হয়নি।

দ্য রিপার এয়ারক্যাফট

শুক্রবারই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জানিয়ে দিয়েছিল যে যাতে সাধারণ নাগরিকের মৃত্যু যথাসম্ভব করা করা যায় সেই চেষ্টাই করা হয়েছিল। এদিনের বক্তব্য সেই দাবিকে সুপ্রতিষ্ঠিত করল। এই হামলা করার আগে থেকে গোয়েন্দা রিপোর্টও ছিল একেবারে নিখুঁত।

ভেলিকোভিচ বলেছেন, ইরাকে ড্রোনের সাহায্য নিয়ে হামলা করা যতটা সহজ বলে মনে হয় বাস্তবে সেটি তার চেয়েও সহজ, অন্তত লেবাননের সঙ্গে তুলনায়। কারণ মরুভূমির উপরে খুব নীচ দিয়ে কিছু উড়লে তা সহজেই লোকের নজরে পড়বে।

সোলেমানির সেলেব্রিটি হয়ে ওঠাও সহায়তা করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে, এর ফলে সোলেমানির গতিবিধি জানা তাদের পক্ষে অনেক সহজ হয়ে গেছে।

এর আগে হেলফায়ারের সাহায্যে হামলা করে হত্যা করা হয়েছে এমন চেনা নাম হল জিহাদি জন। ২০১৫ সালে তাকেও হত্যা করা হয়েছিল সিরিয়ার রাক্কায়। সে ছিল ইসলামিক স্টেটের একজন জঙ্গি।

তবে মার্কিন ইতিহাসে এ ব্যাপারে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হল ১৯৪৩ সালের ১৮ এপ্রিল জাপানি অ্যাডমিরাল ইসোরোকু ইয়ামামোতোর বিমানে হামলা করা। পার্ল হারবারে হামলার প্রধান মস্তিষ্ক ইয়ামামোতোর বিমান ৪৩৫ মাইল ধাওয়া করে গিয়ে হামলাটি করা হয়েছিল।

You might also like