Latest News

গুরগাঁওতে নমাজের সময় বিক্ষোভ, ধৃত ৩০

দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত অক্টোবরে গুরগাঁওয়ের সেক্টর ৪৭ (Sector 47) এলাকায় প্রকাশ্যে নমাজ পড়ার বিরোধিতা করেছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শুক্রবার দক্ষিণপন্থী কয়েকটি গোষ্ঠীর সমর্থকরা ১২ এ সেক্টরে নমাজ পড়ার সময় বিক্ষোভ দেখালেন। তাঁদের হাতে ছিল প্ল্যাকার্ড। তাতে লেখা ছিল, ‘গুরগাঁও প্রশাসন, ঘুম থেকে জেগে ওঠো’। সেখানে আপাতত বড় সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। অন্তত ৩০ জন বিক্ষোভকারী গ্রেফতার হয়েছেন। গুরগাঁওয়ের এসডিএম অনীতা চৌধুরি বলেছে, “এখন পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ। যারা নমাজে বিঘ্ন ঘটাতে এসেছিল, তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।”

সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিসুয়ালে দেখা যায়, অল্প সংখ্যক মানুষ জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখাচ্ছে। তারা কেউই মাস্ক পরেনি। তারা স্লোগান দিচ্ছিল ‘বন্ধ করো বন্ধ করো’। ১২-এ সেক্টরে মুসলিমরা যেখানে নমাজ পড়ছিলেন, তা একজনের ব্যক্তিগত সম্পত্তি। গত সপ্তাহে নমাজের সময় একদল লোক ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দেয়।

তার আগের সপ্তাহে সেক্টর ৪৭ এলাকায় নমাজ পড়া নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পুলিশ একসময় নির্দেশ দিয়েছিল, আগে যেখানে নমাজ পড়া হয়েছিল, সেখান থেকে ১০০ মিটার দূরে নমাজ পড়তে হবে। কিন্তু তাতেও আপত্তি  তুলে নমাজ পাঠের নতুন স্থলের দিকে দল বেঁধে স্লোগান দিয়ে এগনোর চেষ্টা করে স্থানীয় বাসিন্দারা। ৭০-৮০ জনের হাতে ছিল প্ল্যাকার্ড। পুলিশ নিশ্ছিন্দ্র নিরাপত্তার বেড়ি তুলে তাদের আটকে দেয়।

সংঘাত এড়াতে এলাকার মুসলিমদের সুভাষ চক এলাকা থেকে নমাজ পাঠের স্থলে পৌঁছতে বলে পুলিশ। এসিপি সদর আমন যাদব বলেন, শান্তিপূর্ণ ভাবেই নমাজের প্রার্থনা হয়েছে। গত সপ্তাহে আমরা দুই সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক করি। সমস্যা মেটানোর লক্ষ্যে এগচ্ছি আমরা। বেলা বারোটার পর স্থানীয় বাসিন্দারা নমাজ পাঠের স্থল থেকে কিছুটা দূরে জড়ো হয়ে ধর্মীয় স্লোগান দিতে থাকে, মাইক, পোর্টেবল স্পিকার নিয়ে ভজন, ধর্মীয় গান শুরু করে। প্রকাশ্য স্থানে নমাজ পাঠ বন্ধ করতে সরকার ব্যর্থ বলে অভিযোগ তুলেও স্লোগান দেয় তারা।

প্রকাশ্যে নমাজ পাঠের জন্য নির্ধারিত ৩৭টি এলাকার মধ্যে আছে সেক্টর ৪৭। ২০১৮ সালে একাধিক বাধাবিপত্তির মধ্যে দুই সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের নিয়ে প্রশাসন বৈঠক করে। সেখানেই রফা হয়, কোন  কোন জায়গায় প্রকাশ্যে নমাজ পড়া যাবে। তবে বাসিন্দাদের দাবি, এটা পাকাপাকি বন্দোবস্ত নয়, শুধু একদিনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

গত তিন বছর ধরে  নমাজ স্থলে আসা এক ব্যক্তির কথায়, মাত্র গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এত কথা হচ্ছে। আসলে অশান্তি পাকিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চাইছে কিছু লোক।

এ মাসেই পুলিশ কমিশনারকে পাঠানো চিঠিতে নাগরিক সংগঠন গুরগাঁও নাগরিক একতা মঞ্চ জানিয়েছে, তিনটি সেক্টরে গত কয়েক মাস ধরে প্রার্থনাস্থল বন্ধই করে দেওয়া হয়েছে।

You might also like