Latest News

ছেলেকে মর্গে রেখে ভোট দিতে গেলেন মা, আপ্লুত অধীর

মামিনুল ইসলাম, মুর্শিদাবাদ: তাঁর একটা ভোটের জন্যও যদি বদলে যায় পছন্দের প্রার্থীর ভবিষ্যত, তাই ছেলের মৃতদেহ মর্গে রেখে বুথমুখী হলেন মা। ভোটারের এমন মনের জোরে বিস্মিত বহরমপুরের প্রার্থী অধীর চৌধুরী নিজেই।

সোমবার শ্রীগুরু পাঠশালা হাইস্কুলের বুথে ভোট দিতে গিয়েছিলেন মাঝদিয়ার বাসিন্দা রেনুকা মার্ডি। গিয়ে দেখেন মস্ত লাইন। তাই ফিরে যান ঘরে। আর গিয়েই দেখতে পান ছেলে রজত মার্ডির দেহ ঝুলছে ঘরের কড়িকাঠ থেকে। রেনুকার চিৎকারে ছুটে আসেন পড়শিরা। তাঁরাই তড়িঘড়ি তাকে নামিয়ে নিয়ে ছোটেন হাসপাতালে। কিন্তু চিকিৎসকরা রজতকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ছেলের দেহ মর্গে রেখে ফের বুথে ফেরেন মা। বলছিলেন, “ছেলেকে তো আর ফিরে পাব না। আমার একটা ভোটের জন্য যদি দাদা হেরে যান তাই ভোটটা দিয়ে গেলাম।”

সোমবার সকাল থেকে বহরমপুরের প্রতিটি বুথে ছিল টানটান উত্তেজনা। সেই আবহে কেউ টের পাননি ঠিক কতটা অসম্ভবকে গতকাল সম্ভব করেছেন রেনুকা। তবে আজ অধীর চৌধুরীর কানে পৌঁছে গেছে সেই খবর। আর খবর পেয়েই আজ তিনি পৌঁছে গেলেন সন্তানহারা দম্পতি রেনুকা ও সদানন্দ মার্ডির বাড়িতে।

সন্তানশোক ভাগ করে নিয়ে অধীর বললেন, “সন্তান হারানোর যন্ত্রণা আমি বুঝি। আমার নিজেরই ভাবতে অবাক লাগছে, যে মহিলার সন্তান আত্মহত্যা করেছে সেই মহিলা মৃত সন্তানকে ফেলে রেখে আমার মতো জনপ্রতিনিধিকে ভোট দিয়েছেন। পৃথিবীতে এমন কোনও জনপ্রতিনিধি আছে কিনা আমার জানা নেই, যিনি এমন বিরল সম্মান পেয়েছেন। এই পরিবারের প্রতি আমি সারাজীবন কৃতজ্ঞ থাকব।”

মৃত রজতের মা রেনুকা মার্ডি বলেন, “আমার তিন সন্তান, বড় ছেলে কলকাতায় চাকরি করে। রজত আমার পরের দুই যমজ সন্তানের একজন। খুব মনের কষ্টে ভুগছিল। অনেক বুঝিয়েছি। কিন্তু শেষরক্ষা হল না।”

গতকালের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, “সকালে ভোট দিতে গিয়ে দেখি লম্বা লাইন। তাই পরে ভোট দেব বলে বাড়ি চলে আসি। বাড়িতে এসে দেখি গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলছে আমার ছেলে। তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু কিছু করা যায়নি। তখন আমার একা একা বসে কাঁদা ছাড়া উপায় নেই। হঠাৎই ভাবলাম আমার একটা ভোটে যদি দাদা হেরে যান তাহলে সারাজীবনেও আমার অনুশোচনা যাবে না। তাই আবার ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিলাম।”

You might also like