Latest News

মহালয়ার ভোরেই দশভুজার আরাধনা দামোদরের চরে

শ্যাম দাস, আসানসোল : রাত থাকতেই বেজে উঠল ঢাক। সাড়া পড়ে গেল গোটা গ্রামে। বৃষ্টি মাথায় কলা বউ স্নান, ঘট প্রতিষ্ঠা, ভোগের ব্যবস্থা, শুরু হয়ে গেল তোড়জোড়। দুর্গাপুজো যে!

যে রাতে আম বাঙালি ভোরে ওঠার জন্য মনে মনে প্রস্তুতি নেয়, মহিষাসুরমর্দিনী শোনার জন্য ধুলো ঝেড়ে রাখে রেডিওর, সে রাতেই দুর্গাপুজোর ঢাক বেজে ওঠে হীরাপুরের ধেনুয়া গ্রামে। আজ থেকে নয়, ৮০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এ ভাবেই চলে আসছে দশভুজার আরাধনা।

একেবারেই দামোদরের চরে কালীকৃষ্ণ আশ্রম। সে আশ্রমেই প্রথা মেনে মাতৃ আরাধনা হয় পিতৃপক্ষের শেষে অমাবস্যায়। রাতের প্রথম প্রহরে হয় কালীপুজো। তারপর ঘট বিসর্জন দেওয়ার পর শুরু হয় দুর্গা পুজো। একই সঙ্গে ষষ্ঠী-সপ্তমী-অষ্টমী-নবমী ও দশমীর পুজো হয়। পুজো শেষে বিসর্জন দেওয়া হয় দেবীর ঘট। পিতৃপক্ষে বোধন আর দেবীপক্ষে বিসর্জনই কালীকৃষ্ণ মন্দিরের দুর্গাপুজোর রীতি।

কালীকৃষ্ণ আশ্রমের সেবাইত মোহনঠাকুর থাকেন দামোদরের অন্য পারে। বাঁকুড়ার সিহি গ্রামে। কাল রাতেই নদী পার হয়ে তিনি চলে এসেছেন ধেনুয়া গ্রামের আশ্রমে। বললেন, “১৯৩৭ সালে কালীকৃষ্ণ সরস্বতী দেবীর স্বপ্নাদেশ পেয়ে প্রথম শুরু করেছিলেন এই পুজো। পরবর্তীতে তাঁর শিষ্য সত্যানন্দ সরস্বতী পুজোর ধারা বজায় রাখেন। ১৯৭৩ সালে তিনি চলে যাওয়ার পরে বেশ কিছুদিন বন্ধ ছিল পুজো। পরে ১৯৭৭ সালে আবার তেজানন্দ ব্রক্ষ্মচারী শুরু করেন পুজো। পরম্পরা মেনে এখনও চলে আসছে পুজো।”

দশভুজা দেবী এখানে সিংহবাহিনী হলেও অসুর নেই। ছেলেমেয়ে লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশ, কেউ থাকে না মায়ের সঙ্গে। থাকে শুধু দুর্গার দুই সখী জয়া আর বিজয়া।

আজ দিনভর উৎসব দামোদরের চরে ধেনুয়া গ্রামে। শুধু গ্রামের লোক নয়, দূর দূরান্তের বহু মানুষও সামিল হয়েছেন উৎসবে। পুজোর গন্ধ ধেনুয়া গ্রামেও। তবে সেখানে আজই বাজবে বিসর্জনের সুর। আবার অপেক্ষা শুরু হয়ে যাবে আগামী বছরের।

You might also like