Latest News

দুশো ঘরের বাস, পুজো হয় সাত সাতটা, জঙ্গলঘেরা শিবডি গ্রামে

দ্য ওয়াল ব্যুরো, পুরুলিয়া : শহরের পুজোর জাঁকও যেন হার মেনে যায় জঙ্গলঘেরা শিবডি গ্রামের পুজোর কাছে। পুজো এলেই সাজো সাজো রব গোটা গ্রামে। মণ্ডপ তৈরি, প্রতিমা গড়া তো আছেই, বাড়ি বাড়ি পর্যন্ত নতুন মাটির প্রলেপ, নতুন রঙের আঁচড়। হবে নাই বা কেন? দুশো পরিবারের বাস যে গ্রামে, সেখানে সাত সাতটি দুর্গাপুজো !

কথিত আছে, প্রায় চারশো বছর আগে কাশিপুরের রাজা উত্তরপ্রদেশের কানপুর থেকে শিবরাম দুবে এবং তুলারাম দুবে নামে দুই ব্রাহ্মণকে রাজবাড়ীতে নিয়ে আসেন। রাজপুরোহিত হিসেবে তাঁদের সঙ্গে নিয়ে পুরুলিয়া মফস্বল থানা এলাকার জঙ্গলঘেরা এই জায়গায় শিকারে আসেন তৎকালীন রাজা। তখন এই জায়গাটি শিবরাম এবং তুলারামকে দান করেন রাজা। তারপর থেকে দুই ভাই সপরিবারে এখানেই থেকে যান। বড়ো ভাই শিবরামের নামানুসারে এই গ্রামের রাখা হয় শিবডি। পরে বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষজনেরা এই গ্রামে এসে বসবাস করতে শুরু করেন। ধীরে ধীরে একটি ছোট গ্রামের আকার নেয় স্থানটি। সেই সময়ই দুর্গা পুজো শুরু করেন শিবরাম এবং তুলারাম। পরে গ্রামের জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দুর্গাপুজোও ভাগ হতে থাকে। একে একে এক থেকে সাতে দাঁড়ায় সংখ্যাটা।

শিবডি গ্রামের বাসিন্দা ভূদেবচন্দ্র দুবে, দিবাকর দুবেরা জানান, প্রথমে জঙ্গলঘেরা এই গ্রামে একটিই দুর্গাপুজো হতো। পরে পাড়া ভাগ হয় যত, ভাগ হয়ে যায় পুজোও। প্রায় একশো বছর ধরে এ গ্রামে চারটি মূর্তি পুজো এবং তিনটি ঘট পুজো হয়ে আসছে।

পুজো সামনে এলেই তাই সাজো সাজো রব গোটা গ্রামে। প্রতিটি বাড়িতে নতুন প্রলেপ দেওয়া হয় মাটির। রং করা হয়। এ বারও কাশিপুরের রাজ পুরোহিতদের হাতে গড়ে ওঠা এই গ্রামে ইতিমধ্যেই পুজোর ছাপ পড়ে গিয়েছে। মূর্তি গড়ার কাজ শুরু হয়ে গেছে সেই কবে। এ গ্রামে ৫০ ঘর ব্রাক্ষ্মণের বাস। নবমীর দিন তাঁরাই বিশেষ সাজে সেজে সেজে মেতে ওঠেন বিশেষ ধরণের নাচে। এ তল্লাটে সেই নাচের পরিচিতি ‘ব্রাক্ষ্মণ চুড়পা’ নামে। শিবডি গ্রামের ‘ব্রাক্ষ্মণ চুড়পা’ দেখতে নবমী পুজোর দিন ভিড় জমান পাশের বহু গ্রামের মানুষ।

You might also like