Latest News

সত্যজিতের কলকাতাকে সালাম মাজিদির, মমতা বললেন হলিউডও ছুঁতে পারি আমরা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘সালাম কলকাতা, সালাম সত্যজিৎ রায়।’

কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবের আঙিনায় দাঁড়িয়ে এই শহরের বিশ্ববরেণ্য ফিল্মমেকারকে এইভাবেই শ্রদ্ধা জানালেন, এই মুহূর্তে বিশ্বের অন্যতম নামকরা ইরানের ফিল্মমেকার মাজিদ মাজিদি।

আন্তর্জাতিক ফিল্ম মানচিত্র এই শহর যে আজও সত্যজিতের শহর বলেই পরিচিত, আবারও বোঝা গেল সে কথাই।

আর সেই একই মঞ্চে দাঁড়িয়ে প্রবল প্রত্যয়ের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এই শহরকে বিশ্বের সিনেমার দরবারে আবার প্রতিষ্ঠা করার কথা ঘোষণা করলেন। বললেন, তিনি স্বপ্ন দেখেন, এই শহরের চলচ্চিত্র উৎসবও একদিন কান চলচ্চিত্র উৎসবের মাত্রা নেবে। ‘ভাই’ শাহরুখ খানের সঙ্গে সে নিয়ে আলোচনাও করেছেন তিনি। এই শহরের চলচ্চিত্র শিল্প যে সুযোগ পেলে হলিউডের সিনেমার মান ছুতে পারে তাঁর সেই বিশ্বাসের কথাও তিনি জানালেন নিঃসংকোচে।

মঞ্চে তখন শাহরুখের সঙ্গেই ভারতীয় সিনেমার সব থেকে লম্বা মানুষ অমিতাভ বচ্চন। ওয়াহিদা রহমানের সঙ্গেই স্টেজ আলো করে বিশ্ব সিনেমার পরিচিত মুখ মাধবী মুখোপাধ্যায়, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। প্রসেনজিৎ থেকে দেব। মহেশ ভট্ট, গৌতম ঘোষের অদূরেই সৃজিত মুখোপাধ্যায়, কৌশিক গাঙ্গুলি।

অমিতাভ বচ্চন আবার শুরু করলেন বাংলায়। বললেন, বার বার এসে একই কথা বলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ তাঁকে এরপর ছাড় দেওয়ার জন্য।

মুখ্যমন্ত্রী পালটা অনুরোধ, পরের বার ২৫ বছর হচ্ছে এই চলচ্চিত্র উৎসবের। অমিতাভকে সেখানে আসতেই হবে।

অনুষ্ঠানের শেষ লগ্নে দীর্ঘ ভাষণ দিয়ে অমিতাভ দর্শককে বোঝালেন শুধু অভিনেতা নয়, চলচ্চিত্র শিল্পে আসলে অবদান থাকে ক্যামেরাম্যান, সাউন্ড ডিজাইনার থেকে স্পট বয় সবার।

এই শিল্পের বরেণ্য দিকপালদের অনেকেই যে একদিন শুরু করেছিলেন সামান্য কাজে সে কথাও বোঝাতে বচ্চন সাব টেনে আনলেন বাঙালি চলচ্চিত্র পরিচালক বিমল রায়ের প্রসঙ্গ। একদিন এই শহরেই ক্যামেরা কেয়ারটেকার হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন পরে হিন্দি ফিল্ম জগতের কিংবদন্তি হয়ে ওঠা এই নির্দেশক। আনলেন গুরুদত্তের প্রসঙ্গও। হিন্দি সিনেমার এই বিখ্যাত অভিনেতা-নির্দেশকও কাজ শুরু করেছিলেন একই সঙ্গে অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর, কোরিওগ্রাফার এবং ছোট রোলের অভিনেতা হিসেবে। বচ্চনের মুখে উঠে এল আজকের স্টার কিডদের অনেকেরই অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর হিসেবে ইন্ডাস্ট্রিতে পা রাখার কথা।

এই শহরেই ১৮৯৮ সালে হীরালাল সেন তৈরি করেছিলেন উপমহাদেশের প্রথম ফিল্ম প্রযোজনার কোম্পানি। দাদা সাহেব ফালকের পাশাপাশি, প্রথম ভারতীয় ফিল্ম নির্মাতা হিসেবে উঠে আসে তাঁর নামও।

হীরালালের কথা যেমন উঠে এল প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের কণ্ঠে। তেমনই হীরালালের তৈরি করা ছবি গুলো যে আগুনে পুড়ে নষ্ট হয়ে গিয়েছে, সে প্রসঙ্গ টেনে অমিতাভ বচ্চন বললেন ফিল্ম রিস্টোরেশনের কথাও। জানা গেল, এই ব্যাপারে ইতিমধ্যেই উদ্যোগী হয়েছে রাজ্য সরকার।

এই মঞ্চে দাঁড়িয়েই আবার কপট অভিমান করলেন শাহরুখ খান। মনি কাউলের ছবি দিয়ে চলচ্চিত্রে পা রাখা আজকের এই মেগাস্টার অভিমানের সুরে বললেন, ৭০ টা সিনেমা করেছি, অথচ আমার করা সিনেমা ফেস্টিভালে দেখানো হয় না। বললেন, তিনি মোটেও ইন্টেলেকচুয়াল নন। কিন্তু এই শহরের সঙ্গে সম্পর্কের কারণেই বাড়ছে তাঁর ইন্টেলেকচুয়াল বোধ। হয়ত আগামী দশ বছরে তাঁর কোনও ছবিও জায়গা করে নেব ফেস্টভালের তালিকায়।

অবশ্য সেই খেদ মেটাতে মুখ্যমন্ত্রীর অনুমতি নিয়েই তিনি উদ্বোধনের মঞ্চেই দেখালেন নতুন ছবি ‘জিরো’র ট্রেলর। নেতাজি ইন্ডোরের ভর্তি স্টেডিয়ামে চিৎকার ও হাততালি বলে দিল ফেস্টিভালের দর্শকের কাছেও তিনি সমান জনপ্রিয়।

আবার ভাইফোঁটার প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রীও শাহরুখকে আগামী বছরের আগাম নিমন্ত্রণ করে রাখলেন।

মাজিদ মাজিদির গলায় যদি উঠে আসেন সত্যজিৎ, তবে অনুষ্ঠানের সূচনা অবশ্যই ঋত্বিক ঘটককে নিয়ে। ‘মেঘে ঢাকা তারা’র এ টি কাননের গলায় গাওয়া হংসধ্বনি রাগে ‘লাগি লগন’ গেয়েই অনুষ্ঠান শুরু করলেন রশিদ খান। তারপর সেই গানের সুর থেকেই কখনও রূপঙ্করের গলায় ‘দেখো রে নয়ন মেলে’ থেকে উষা উত্থুপের গাওয়া ‘আমি মিস ক্যালকাটা’। তেজেন্দ্র নারায়ণ মজুমদারের সরোদে আবার উঠে এল ‘অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি’র ‘আমি যামিনী তুমি শশী হে’র সুর। এদের সঙ্গে একশো বছরে বাংলা সিনেমার ইতিহাসকে সঙ্গীতের মাধ্যমে সম্মান জানালেন বিক্রম ঘোষ, উষা উত্থুপ, লোপামুদ্রা মিত্ররা।

শুরু হয়ে গেল ৭০টা দেশের ১৭১ টি ফিচার ফিল্ম, ১৫০ টা শর্ট ও ডকুমেন্টারি নিয়ে ২৪ তম কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসব।

You might also like