Latest News

৯/১১-র ২০ বছর, টুইন টাওয়ারের টুকরো এখন ছড়িয়ে আছে পুরো আমেরিকায়

দ্য ওয়াল ব্যুরো : আমেরিকায় জঙ্গি হানার ১০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ২০০৯ সালে নিউ ইয়র্ক (New York) ও নিউ জার্সির বন্দর কর্তৃপক্ষ একটি আরকাইভ কমিটি তৈরি করে। ধ্বংস হয়ে যাওয়া টুইন টাওয়ারের স্মৃতিচিহ্ন সংগ্রহ করতে শুরু করে ওই কমিটি। তার মধ্যে ছিল চশমার ভাঙা কাচ, অফিসে ব্যবহৃত নানা জিনিসপত্র, দুমড়ে মুচড়ে যাওয়া পুলিশ ও দমকলের গাড়ি। এসবের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি পরিমাণে পাওয়া গিয়েছিল ধাতু। স্রেফ টুইন টাওয়ারের ধ্বংসাবশেষ থেকে যে স্টিল পাওয়া গিয়েছিল, তার পরিমাণ ৭ হাজার টন।

ওই বিপুল পরিমাণ ইস্পাত রাখা ছিল জেএফকে এয়ারপোর্টের হ্যাঙ্গারে। ওই ইস্পাত দিয়ে তৈরি হয়েছে অসংখ্য স্মারক। যাঁরা জঙ্গি হানার পর ত্রাণকার্য চালাতে গিয়ে মারা গিয়েছিলেন, মূলত তাঁদের সম্মানে তৈরি হয়েছে স্মারকগুলি। ২০১৬ সাল অবধি স্মারক তৈরির কাজ চলেছে। সেগুলি ছড়িয়ে আছে বিভিন্ন থানায়, দমকলের অফিসে, গ্রন্থাগারে, অনেকের বাড়িতে এবং বহু সংগঠনের কার্যালয়ে।

৯/১১-র স্মারক সবচেয়ে বেশি সংখ্যায় আছে নিউ ইয়র্ক ও তার আশপাশে। এছাড়া আমেরিকার ৫০ টি প্রদেশের কোথাও না কোথাও পাওয়া যাবে এই স্মারক। কানাডা, জার্মানি, ইতালি ও ইংল্যান্ডেও অনেকে ওই স্মারক সংগ্রহ করেছেন। দক্ষিণ কোরিয়ায় আমেরিকার সেনা ঘাঁটিতে রাখা আছে ওই স্মারক। আফগানিস্তানেও ওই স্মারক নিয়ে গিয়েছিল মার্কিন সেনা। সেদিন টুইন টাওয়ারে যাঁরা মারা গিয়েছিলেন, তাঁদের বেশিরভাগের দেহই শনাক্ত করা যায়নি। তাই মৃতদের আত্মীয়-প্রিয়জনদের কাছে টুইন টাওয়ারের ইস্পাত দিয়ে তৈরি স্মারকের গুরুত্বই আলাদা।

পর্যবেক্ষকদের মতে, টুইন টাওয়ারের স্মারকের ব্যাপক চাহিদা থেকে বোঝা যায়, আমেরিকানদের মনে জঙ্গি হানার ঘটনা বিরাট প্রভাব ফেলেছিল। ওই স্মারক তাঁদের এখনও মনে করিয়ে দেয়, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর কি বিরাট বিপদের মুখে পড়েছিল আমেরিকা।

ধংসাবশেষের এক ক্ষুদ্র অংশ দিয়েই স্মারক তৈরি হয়েছে। ১০ লক্ষ টন ধ্বংসাবশেষ পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল স্ট্যাটেন দ্বীপে। সেই শহর থেকে ২ লক্ষ টন ইস্পাত আন্তর্জাতিক স্ক্র্যাপ মেটাল মার্কেটে বেচে দেওয়া হয়। তার এক বড় অংশ আসে এশিয়ায়। তা থেকে নানা সামগ্রী তৈরি হয়। এখনও টুইন টাওয়ারের ধ্বংসস্তূপে পাওয়া ইস্পাত দিয়ে অনেক জিনিস বানানো হচ্ছে। অনেকে বলছেন, ধ্বংসের পরেই আসে সৃষ্টি। ভেঙে পড়া টুইন টাওয়ারের ইস্পাত দিয়ে নতুন সামগ্রী বানানোতে সেকথাই প্রমাণিত হয়।

You might also like