Latest News

বেসরকারিকরণের বিরুদ্ধে দু’দিনের ব্যাঙ্ক ধর্মঘট শুরু সোমবার

দ্য ওয়াল ব্যুরো : বেসরকারিকরণ ও ব্যাঙ্কে সংস্কারের বিরুদ্ধে ১৫ ও ১৬ মার্চ সারা ভারত ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে ইউনাইটেড ফোরাম অব ব্যাঙ্ক ইউনিয়ন। বিভিন্ন ব্যাঙ্ককর্মী সংগঠনের যৌথ মঞ্চ ইউএফবিইউ জানিয়েছে, প্রায় ১০ লক্ষ ব্যাঙ্ককর্মী ধর্মঘটে অংশগ্রহণ করবেন। ব্যাঙ্কের বিভিন্ন পরিষেবা, যথা ডিপোজিট, উইথড্রয়াল, চেক ক্লিয়ারেন্স ও লোন অ্যাপ্রুভাল, সবকিছুই বন্ধ থাকবে এই দুই দিনে। তবে এটিএমগুলি সম্ভবত কাজ করবে।

গত ১৩ মার্চ মাসের দ্বিতীয় শনিবারে ব্যাঙ্ক বন্ধ ছিল। ১৪ মার্চ ছিল রবিবার। এরপর দু’দিন ধর্মঘট হলে টানা চারদিন বন্ধ থাকবে ব্যাঙ্ক।

গত কেন্দ্রীয় বাজেটে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন ঘোষণা করেন, আইডিবিআই বাদে আরও দু’টি ব্যাঙ্কের বেসরকারিকরণ করা হবে। বিলগ্নিকরণ থেকে চলতি আর্থিক বছরে ১ লক্ষ ৭৫ হাজার কোটি টাকা তোলার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছে।

ধর্মঘটী ব্যাঙ্ক ইউনিয়নগুলির মধ্যে আছে অল ইন্ডিয়া ব্যাঙ্ক অফিসার্স ফেডারেশন, অল ইন্ডিয়া ব্যাঙ্ক এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশন, ন্যাশনাল কনফেডারেশন অব ব্যাঙ্ক এমপ্লয়িজ, অল ইন্ডিয়া ব্যাঙ্ক অফিসার্স কনফেডারেশন, ব্যাঙ্ক এমপ্লয়িজ ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া, ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক এমপ্লয়িজ ফেডারেশন, ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক অফিসার্স কংগ্রেস এবং ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অব ব্যাঙ্ক ওয়ার্কার্স।

চারটি জেনারেল ইনসিওরেন্স কোম্পানির সঙ্গে যুক্ত ইউনিয়নগুলি ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে ১৭ মার্চ। এলআইসি-র ইউনিয়নগুলি ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে ১৮ মার্চ।

আর্থিক ঘাটতির মোকাবিলা করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার চারটি মাঝারি মাপের ব্যাঙ্ক বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যে চারটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক বেসরকারিকরণের জন্য শর্টলিস্ট করা হয়েছে, তাদের মধ্যে আছে ব্যাঙ্ক অব মহারাষ্ট্র, ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া, ইন্ডিয়ান ওভারসিজ ব্যাঙ্ক এবং সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া। একটি সূত্রে খবর, চারটির মধ্যে অন্তত দু’টি ব্যাঙ্ককে ২০২১-২২ সালের আর্থিক বছরের মধ্যেই বিক্রি করে দেওয়া হবে। সরকার প্রথমে মাঝারি ও ছোট মাপের ব্যাঙ্কগুলি বেসরকারিকরণের দিকে নজর দিচ্ছে। তাতে সাধারণ মানুষের কী প্রতিক্রিয়া হয়, তা লক্ষ করে বড় মাপের ব্যাঙ্ক বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।

এর পাশাপাশি নির্মলা সীতারমন ঘোষণা করেন, এবার থেকে বেসরকারি ব্যাঙ্কও সরকারি কাজ করতে পারবে।

অর্থনীতিতে করোনার ধাক্কা সামলাতে গত বাজেটে ব্যাপক বেসরকারিকরণের পথে হেঁটেছে সরকার। আশা করা হচ্ছে, এভাবে অর্থনীতিকে কিছুদূর চাঙ্গা করা যাবে। চলতি আর্থিক বছরে রাজকোষ ঘাটতি পৌঁছতে পারে জিডিপি-র ৯.৫ শতাংশে। করোনা অতিমহামারীর ফলে রাজকোষ ঘাটতির রেকর্ড হতে পারে ২০২০-২১ সালে।

সরকারের রাজস্ব বাবদ আয় ও ব্যয়ের মধ্যে যে ফারাক, তাকেই রাজকোষ ঘাটতি বলা হয়। ২০২১-২২ সালের আর্থিক বছরে ওই ঘাটতি ৬.৮ শতাংশে বেঁধে রাখার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর শক্তিকান্ত দাস বলেন, আগামী আর্থিক বছরে ১২ লক্ষ কোটি টাকা ঋণ করা হতে পারে।

You might also like