Latest News

স্মৃতিধন্য চন্দ্রকোনায় পালিত হল গুরু নানকের জন্মদিন

দ্য ওয়াল ব্যুরো, পশ্চিম মেদিনীপুর : সালটা ছিল ১৫১০। জুন মাস। রাঢ়বঙ্গের উপর দিয়ে পুরী যাচ্ছিলেন গুরু নানক। জগন্নাথ দর্শনে। চন্দ্রকোনার রামগড় পেরিয়ে যাওয়ার সময় হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত নানক, অনুগামীদের নিয়ে  বিশ্রাম নিতে বসেছিলেন রাস্তার ধারে একটি বেলগাছের নীচে।

চন্দ্রকোনায় সে সময় রাজা চন্দ্রকেতুর রাজত্ব। গুরু নানকের চন্দ্রকোনা আগমনের খবর পেয়ে রাজা এসে সসম্মানে তাঁকে নিয়ে যান রাজপ্রাসাদে। সেখানে তিনদিন রাজার আতিথ্য গ্রহণ করেছিলেন গুরু নানক। কথিত, রাজা চন্দ্রকেতুর কোনও পুত্র ছিল না। ছিল একটি মাত্র কন্যা। রাজার দুঃখ জানতে পেরে সেই কন্যাকেই নাকি তিনি পুত্রে রূপান্তরিত করেছিলেন। গুরু নানকের আশীর্বাদে পুত্র লাভ করে খুশি হয়ে তাঁকে কয়েক বিঘা নিষ্কর জমি দান করেছিলেন রাজা চন্দ্রকেতু।

চন্দ্রকোনায় এসে যে বেলগাছের তলায় বসে গুরুনানক বিশ্রাম নিয়েছিলেন সেই বেলগাছ আজও রয়েছে। রামগড়ের ওই এলাকার পরিচিতি এখন নানকস্থল নামে। গুরু নানকের স্মৃতিধন্য নানকস্থলে এখনও সারা বছর ভিড় করেন ধর্মপ্রাণ মানুষ। মঙ্গলবার তাঁর জন্মদিনও সাড়ম্বরে পালিত হল এখানে। বিশেষ এই দিনটিতে জেলা ছাড়িয়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিখ ধর্মাবলম্বী মানুষজন ভিড় জমান রামগড়ের এই গুরুদুয়ারায়। এ দিনও সকাল থেকে ভজন, নামসংকীর্তন, প্রার্থনা, প্রসাদ বিতরণের মাধ্যমে পালিত হল গুরুনানকের জন্মদিন। শিখ ধর্মাবলম্বী মানুষজন ছাড়া অন্যান্য ধর্মের মানুষও রামগড়ের গুরুদুয়ারায় এসেছিলেন আশীর্বাদ প্রার্থনা করতে।

রামগড়ের এই নানকস্থলকে শিখ ধর্মের মানুষ একটি অন্যতম তীর্থস্থান বলেই মনে করে। এখন নতুনভাবে সাজিয়ে তোলা হয়েছে নানক স্থলকে। গুরু নানকের স্মৃতিবিজড়িত ফলক রয়েছে এখানে। উপাসনা মন্দিরে প্রতিদিন হয় প্রার্থনা। পূজারী সতনম সিং জানালেন, রামগড়ের নানকস্থল শুধু শিখ ধর্মাবলম্বীদের কাছেই নয়, সমস্ত চন্দ্রকোনাবাসীর কাছেই অতি গর্বের। গুরু নানক শিখ ধর্মের গুরু হলেও তিনি সবার কাছেই সমান শ্রদ্ধেয়। জন্মদিনে রামগড়ে নানান ধর্মের মানুষের সমাগম সেটাই আবার প্রমাণ করল।

You might also like