Latest News

মণিপুরে ঝাঁঝরা ১০ বছরের আবীরও, বাবার মতো সেনা হওয়া আর হল না

দ্য ওয়াল ব্যুরো: জুতো-মোজা পরে, ছোট্ট ছোট্ট পায়ে ছুটে বেড়াচ্ছে সে মাঠ জুড়ে। কখনও কম্যান্ডোদের মতো বুকে হেঁটে পেরোচ্ছে নিচু করে বানানো গুহা। কখনও আবার ছোট্ট লাফে পার করছে বাধা। কখনও সাবধানে পা ফেলে পেরোচ্ছে শুইয়ে রাখা মই, শেষে আবার চালাচ্ছে সাইকেল। পেছন থেকে তাকে নির্দেশ দিচ্ছে তার বাবা, বিপ্লব ত্রিপাঠী। সব মিলিয়ে যেন চলছে এক খুদে সেনার প্রশিক্ষণ। ১০ বছরের (10 years) আবীর ত্রিপাঠীর হাবভাব যেন বলছে, ঠিক বাবার মতোই সেনা হয়ে উঠবে সে একদিন!

এই ভিডিও সম্প্রতি সামনে এসেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। আবীরের ছুটোছুটি দেখে, আনন্দ দেখে চোখের জল ধরে রাখতে পারছেন না কেউ। কারণ ভিডিওর এই ছোট্ট আবীর এখন কফিনবন্দি হয়ে পাড়ি দিয়েছে বহু দূরের পথে। আর কোনও দিন ‘বাবার মতো’ হওয়া হবে না তার। তার বাবারও আর কখনও হবে না সন্তানকে আদর করা। হয়তো বাবা-ছেলে অন্য কোনও এক দুনিয়ার বাসিন্দা হয়ে দূর থেকে দেখবে এই পৃথিবীকে!

শনিবার মণিপুরে ভারতীয় সেনা জওয়ান বিপ্লব ত্রিপাঠীর কনভয়ে হামলা চালায় জঙ্গিরা। ঝাঁঝরা হয়ে যান তিনি। সে সময়ে বিপ্লব ত্রিপাঠীর সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্ত্রী অনুজা ও দশ বছরের পুত্র আবীরও। ভয়ানক হামলায় প্রাণ হারায় তারাও। মারা যান অসম রাইফেলের আরও চার জওয়ান। ঘটনায় শোকস্তব্ধ গোটা দেশ।স্বাধীনতা সংগ্রামী দাদুর অনুপ্রেরণাতেই সেনা জীবনে এসেছিলেন বিপ্লব ত্রিপাঠী। ছোট থেকেই সেনাদের প্রতি ছিল তাঁর অসম্ভব শ্রদ্ধা। যা তাঁকে ধীরে ধীরে টেনে আনে এই জীবনে। জন্মসূত্রে তিনি ছত্তীসগড়ের রায়গড়ের মানুষ। জাতীয় নিরাপত্তা অ্যাকাডেমি থেকে স্নাতক পাশ করে দেরাদুনের ইন্ডিয়ান মিলিটারি অ্যাকাডেমিতে ভর্তি হন বিপ্লব। এরপর দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছুটে গেছেন তিনি। তবে যেখানেই গেছেন নিজের ব্যবহার ও স্বভাবের কারণে মন জয় করে নিয়েছেন সবার। শেষে কর্মরত ছিলেন অসমে। এই বছর দীপাবলির ছুটি কাটাতে বিপ্লবের পরিবার পৌঁছে গিয়েছিলেন মণিপুরে। গোটা পরিবার মেতে উঠেছিল আনন্দে। কেউ দুঃস্বপ্নেও ভাবেননি, এটাই শেষ আনন্দ! এর পরে ঝাঁঝরা হয়ে যাবে গোটা পরিবার!

আপনার বাড়ির খাবার জল জীবাণুমুক্ত তো? এবার দুয়ারেই আসছে পরীক্ষার সুযোগ

শহিদ এই সেনাদেরই শেষকৃত্য সমাপন হল আজ, সোমবার। জাতীয় মর্যাদায় শেষ বিদায় জানানো হয় তাঁদের। পুষ্পস্তবক, গানস্যালুটে সম্মান জানোন হয় যথাযোগ্য শ্রদ্ধা-সহকারে। তারই নানা টুকরো দৃশ্য ভাসছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। পাশাপাশি দেখা যায়, বাকসায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে শহিদ সুমন স্বর্গীয়ারির দেহ। সেখানে তাঁর কফিনের সামনে ভেঙে পড়েন স্ত্রী। ছোট্ট সন্তানকে কোলে করে দেখান মৃত বাবার নিথর মুখ। এ মর্মান্তিক দৃশ্য যেন সহ্যের অতীত!

মণিপুর এবং সন্নিহিত এলাকায় বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপদ্রব নতুন নয়। এর আগেও বহুবার মণিপুরে অসম রাইফেলসের কনভয়ে হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে শনিবারের হামলা সব আতঙ্ককে ছাপিয়ে গেছে। কার্যত কাপুরুষের মতো সেনা অফিসারদের কনভয়ে হামলা চালায় জঙ্গিরা। কম্যান্ডিং অফিসারের পরিবারকেও ছাড়েনি তারা। তারই মাসুল দিল দশ বছরের ছোট্ট আবীর।

পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা ‘সুখপাঠ’

You might also like