Latest News

সালিশি সভার নিদান মেনে প্রৌঢ়ের হাতের দশ আঙুল কেটে নিল ছেলে

দ্য ওয়াল ব্যুরো, বীরভূম : সালিশি সভার নিদান মেনে এক প্রৌঢ়ের হাতের দশ আঙুল কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠল তাঁরই ছেলের বিরুদ্ধে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় বছর পঞ্চান্নর ওই প্রৌঢ়, ফন্দি সর্দারকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। উত্তেজনা থাকায় গ্রামে টহল দিচ্ছে বিশাল পুলিশ বাহিনী।

পারুই থানার রাধাকেষ্টপুর গ্রামের বাসিন্দা ফন্দি সর্দার। মঙ্গলবার রাতে ফন্দি সর্দারের ছেলে হরিশচন্দ্র গ্রামের মোড়লের নিধান অনুসারে বাবার হাতে দশটি আঙুল কেটে নেয় বলে অভিযোগ। এরপরই এলাকা জুড়ে চাঞ্চল্য এর সৃষ্টি হয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পারুই থানার বিশাল পুলিশবাহিনী। গ্রেফতার করা হয় হরিশচন্দ্র সর্দারকে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেশ কয়েকদিন আগে গ্রামে একদল সাধু এসেছিলেন। তারা ফন্দি সর্দারের বাড়িতে অপদেবতা আছে এমনটা দাবি করেন। এরপর থেকে গ্রামের বেশ কয়েকজন লোক পরপর অসুস্থ হয়ে পড়েন। আর সেই দায় বর্তায় ফন্দি সর্দারের এর উপর। সালিশি সভায় বসিয়ে তাকে ডাইন অপবাদ দেওয়া হয়। ফন্দি সর্দার প্রত্যেকদিন তাঁর বাড়ির কালী মন্দিরে পুজো করেন। সেই পুজো করার জন্যই গ্রামের লোকেরা অসুখ হয়ে পড়ছেন বলে জানিয়ে দেন মাতব্বররা। তাই পুজো বন্ধ করারও নির্দেশ দেওয়া হয়। অভিযোগ, পুজো বন্ধ না করলে তাঁর দশটি আঙুল কেটে নেওয়ার নিদান দেয় গ্রামের মোড়ল অনিল সর্দার। এরপর থেকে ফন্দি সর্দার ও তাঁর পরিবারের লোকের উপর অত্যাচার শুরু করে গ্রামবাসীরা।

মঙ্গলবার রাত আটটা নাগাদ বাড়ির কালী মন্দিরে বসেছিলেন ফন্দি সর্দার ও তার ছেলে হরিশচন্দ্র সর্দার। এমন সময় হরিশচন্দ্র ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর বাবার দু’ হাতের দশটি আঙুল কেটে পাশের একটি পুকুরে ফেলে দেয় বলে অভিযোগ। গুরুতর আহত ফন্দিকে উদ্ধার করে প্রথমে বোলপুর মহকুমা হাসপাতালে ও পরে বর্ধমান মেডিকেল কলেজে নিয়ে যান এলাকার বাসিন্দারা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পারুই থানার পুলিশ। হরিশচন্দ্রকে আটক করে।

ফন্দি সর্দারের স্ত্রী সুশীলা সর্দার বলেন, “কয়েকদিন আগে গ্রামের মোড়ল অনিল সর্দার তাঁর হাতের দশটি আঙুল কেটে নেওয়ার নিদান দেয়। এরপর থেকেই আমাদের উপর খুব অত্যাচার করত। হরিশকে একদিন মারধরও করেছিল। গতকাল রাতে হরিশ তার বাবার হাতের দশটি আঙুল কেটে নিয়ে পুকুরের জলে ফেলে দেয়।” অভিযুক্ত অনিল সর্দারের দাবি, “গ্রামবাসীরা সকলে মিলে এই সিদ্ধান্ত নেয়। আমি গ্রামবাসীদের বলেছিলাম বসে মীমাংসা করে নিতে, কিন্তু কেউ আমার কথা শোনেনি।”

বীরভূমের পুলিশ সুপার কুণাল আগরওয়াল বলেন, “এই ভয়াবহ ঘটনায় হরিশ সহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঠিক কী কারণে এমন ঘটনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি ওই গ্রামে কুসংস্কারের বিরুদ্ধে প্রচার কর্মসূচিও নেওয়া হবে।”

 

 

You might also like