Latest News

পুজোর এলেই আলো হয়ে ওঠে ময়নাপুরের জমিদার বাড়ির জীর্ণ ঠাকুরদালান

মৃন্ময় পান, বাঁকুড়া : অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়। ব্রিটিশ শাসকদের চাপিয়ে দেওয়া অতিরিক্ত করের বোঝা টানতে না পেরে মল্ল রাজাদের একের পর এক তালুক নিলাম হচ্ছে তখন। এই সময়েই জমিদারি শুরু হয় ময়নাপুরের মুখোপাধ্যায় পরিবারের। বিষ্ণুপুরের শেষ মল্ল রাজা চৈতন্য সিংহের দেওয়ান ছিলেন ময়নাপুরের বাসিন্দা চণ্ডীচরণ মুখোপাধ্যায়। চৈতন্য সিংহের আমলেই ময়নাপুর তালুকের জমিদারি লাভ করে মুখোপাধ্যায় পরিবার।  

আর জমিদারী পত্তনের সঙ্গে সঙ্গে জমিদার বাড়ির ঠাকুর দালানে শুরু হয় দুর্গাপুজো। পরে দুর্গামন্দির ও চণ্ডীমণ্ডপ সংস্কার করেন ওই পরিবারেরই নিধিকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় ও তারিণীপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। কথিত আছে, সে সময় জমিদারির একদিনের আয়ে ওই বিশাল চণ্ডী মণ্ডপ ও দুর্গা মন্দির তৈরি হয়েছিল। পুজাকে ঘিরে সে সময় ধুমধামেরও সীমা ছিল না।  বিশাল জমিদার বাড়ির সদস্য ও তালুকের প্রজায় পুজার চারদিন গমগম করত চণ্ডী মণ্ডপ। যাত্রাপালা, রামায়ণ গান এ সব তো ছিলই, পাশাপাশি চারদিন ধরে চলত ভোজ।

 

বাঁকুড়া জেলার প্রাচীন জনপদগুলির মধ্যে অন্যতম হল জয়পুর ব্লকের এই ময়নাপুর গ্রাম। বহু কাল আগেই এই গ্রাম এলাকার একটি বর্ধিষ্ণু গ্রামের মর্যাদা পেয়ে আসছে। এই গ্রামকে কেন্দ্র করেই মুখোপাধ্যায় পরিবারের জমিদারি। ব্রিটিশ আমলের রমরমিয়ে চলা সেই জমিদারির এখন কণামাত্র অবশিষ্ট নেই। তবু প্রাচীন রীতি মেনে ময়নাপুর জমিদার বাড়ির ঠাকুর দালানে এখনও নিষ্ঠার সঙ্গে পালিত হয় দুর্গোৎসব।

এখন জমিদারি না থাকায় পুজোর জৌলুস কমেছে। জীবন জীবিকার তাগিদে দূর দূরান্তে ছড়িয়ে পড়েছে জমিদারবাড়ির সদস্যরা। তবে পুজো এলেই মাটির টানে ফেরেন তাঁরা। ভিড় করেন জমিদার বাড়ির জীর্ণ দালানে। ফের গমগম করে ওঠে পলেস্তরা খসা ছাদ আর দেওয়ালের ঘেরাটোপ।

You might also like