অধীর চৌধুরীর নাম যুবকের সুইসাইড নোটে! ছুটে গেলেন সাংসদ, ভেঙে পড়লেন কান্নায়

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: তাঁর জনপ্রিয়তা নিয়ে সংশয় রাখেন না তাঁর অতি বড় প্রতিপক্ষও। বহরমপুর শহরে কথিত আছে, তিনি মুশকিল আসান। এ হেন জনপ্রিয় নেতা তথা পাঁচ বারের কংগ্রেস সাংসদ অধীর চৌধুরী বোধহয় আশা করেননি এমন দিন দেখতে হবে। সুইসাইড নোট লিখে আত্মঘাতী হলেন এক যুবক। চিরকুটে লিখে গেলেন, “আমার আশা পূরণ হল না। অধীর চৌধুরীর ডবল হ্যাটট্রিক আর দেখা হল না। বিদায় বন্ধু!”

    মৃতের নাম সুরজিৎ বিশ্বাস (৩২)। বহরমপুর সদরেই বাড়ি সুরজিতের। রবিবার সকালে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় তাঁর ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান পরিবারের লোকজন। উদ্ধার হয় সুইসাইড নোট। খবর যায় অধীরবাবুর কাছে। সময় নষ্ট না করে ছুটে চলে যান লোকসভার কংগ্রেস দলনেতা।

    অধীরবাবুকে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন সুরজিতের মা-বাবা। জানান, সারাক্ষণ শুধু অধীর চোধুরীই ছিল পেশায় টোটো চালক সুরজিতের ধ্যানজ্ঞান। মোবাইলের রিংটোনে বাজত অধীরবাবুর বক্তৃতা। সুযোগ পেলেই ছোট ভাইকে প্রাক্তন রেল প্রতিমন্ত্রীর ছবি দেখিয়ে সুরজিৎ বলতেন, “এই লোকটাকে আদর্শ করবি। মানুষ হলে এঁর মতো হবি।” সুরজিতের ছবি আর সুইসাইড নোট দেখতে দেখতে চোখের কোণটা চিকচিক করে ওঠে বহু যুদ্ধ জয়ের সেনানীরও।

    অধীরবাবু বলেন, “আমি ভাবতেও পারি না মানুষ আমাকে এত ভালবাসেন। আমার আফশোস আমি যদি কোনওভাবে ওই যুবককে বাঁচাতে পারতাম তাহলে নিজেকে সার্থক বলে মনে করতাম”। তিনি সুরজিতের মা-বাবাকে বলেন, “সন্তান হারানোর শোক আমি বুঝি। তা কোনও ভাবেই ভোলার নয়। তবে আমি সবসময় আপনাদের পাশে রয়েছি।” তবে কী কারণে সুরজিৎ আত্মঘাতী হয়েছেন তা অবশ্য স্পষ্ট নয়। তাঁর পরিবারের লোকজন জানিয়েছেন, তিনি সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন না।

    মনে পড়ে লোকসভা ভোটের কথা? তাঁর একটা ভোটের জন্যও যদি বদলে যায় পছন্দের প্রার্থীর ভবিষ্যৎ, তাই ছেলের মৃতদেহ মর্গে রেখে বুথমুখী হয়েছিলেন মা। ভোট দিয়ে বেরিয়ে বলেছিলেন, “অধীর চৌধুরী ভগবান। ছেলের লাশ মর্গে রেখে ওঁকে জেতাতে এসেছি।” মাঝদিয়ার বাসিন্দা রেনুকা মার্ডির এমন ঘটনায় অবাক হয়ে গিয়েছিলেন কঠিন লড়াইয়ের মুখোমুখি দাঁড়ানো অধীরবাবু।

    আরও পড়ুন: ছেলেকে মর্গে রেখে ভোট দিতে গেলেন মা, আপ্লুত অধীর

    দেশের রাজনীতিতে যখন নেতানেত্রীদের সম্পর্কে মানুষের এত ঘৃণা, তখন গত ৩০এপ্রিল ও আজ ৩ নভেম্বরেরদুটি ঘটনা যেন অন্য কথা জানান দিল। যা দেখে অনেকেই বলছেন, মানুষের ভালবাসার নিরিখে বাকি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা একদিকে। অধীরবাবু আর এক দিকে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More