মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৭

আপনার নাম মঙ্গল গ্রহে পাঠিয়ে দেবে নাসা, কী ভাবে জানতে পড়ুন

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মঙ্গলে যাওয়ার টিকিট বুক করেছেন তো। না হলে চটপট করে ফেলুন। লাখ লাখ মানুষকে মঙ্গলে নিয়ে যাবে নাসা। টিকিট বুকিং চলছে জোরকদমে। হাতে আর মাত্র ২০ দিন।

অবাক হলেন! আপনি চাইলেও যেতে পারেন রহস্যময় ‘লাল গ্রহে।’ এখন যাঁরা ভাবছেন, সাধ থাকলেও কি আর সাধ্যে কুলোবে! বামন হয়ে চাঁদে থুড়ি মঙ্গলে হাত দেওয়া কি এতই সহজ! কোনও চিন্তা নেই, নাসা জানিয়েছে সশরীরে যেতে হবে না, অন্তত নামটুকু পৌঁছে যাক মঙ্গলের মাটিতে। টুইট করে নাম এন্ট্রি করার বোর্ডিং পাসও পাঠিয়ে দিয়েছে নাসা। তাতেই এখন নাম লেখাবার হিড়িক পড়ে গেছে।

নাসার মঙ্গল-মিশনের প্রস্তুতি চলছে কয়েক বছর ধরেই। মঙ্গলযান ‘ইনসাইট’-এর পরে আগামী বছর নাসার নতুন অভিযান ‘মার্স ২০২০’ (Mars2020)। সাজিয়ে গুছিয়ে রোভারকে মঙ্গলকে পাঠাবে নাসা। লাল-মাটি ছুঁতে অবশ্য সময় লাগবে আরও এক বছর, অর্থাৎ রোভার মঙ্গলে ল্যান্ড করবে ২০২১ সালে। এই অভিযানে সামিল হতে পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষকে নিমন্ত্রণ পাঠিয়েছে নাসা। রোভারে চেপে মঙ্গলে পাড়ি দেবে পৃথিবীবাসীদের নাম।

সেটা কী ভাবে হবে? বোর্ডিম পাসে নিজের নাম ও প্রয়োজনীয় তথ্য ভরে সাবমিট করে দিতে হবে। এই নাম তুলে দেওয়া হবে রোভারের সিলিকন মাইক্রোচিপে। ইলেকট্রন রশ্মি দিয়ে চিপের উপর খোদাই করা হবে নাম। সেখা হবে আনুবীক্ষনিক হরফে। নাম সমেত চিপ সঙ্গে নিয়ে মঙ্গলে পাড়ি দেবে রোভার।

ওয়াশিংটনে নাসার সায়েন্স মিশন ডিরেক্টরেটের শীর্ষ অধিকর্তা ডঃ থোমাস জুরবাকেন বলেছেন, “ঐতিহাসিক মঙ্গলযাত্রার জন্য প্রস্তুত নাসা। আমরা চাই এই অভিযানে গোটা পৃথিবী সামিল হোক।”

কোন কোন ‘মণি-মাণিক্য’ লুকিয়ে রয়েছে মঙ্গলের অন্দরে, মাটি খুঁড়ে তার তল্লাশ চালানোর জন্য পাঠানো হয়েছিল ‘ইনসাইট’ ল্যান্ডার মহাকাশযানকে। লাল গ্রহ-এর অন্দরে তরল জলের ধারা এখনও গোপনে বয়ে চলেছে কি না, তা-ও খুঁজে দেখা কাজ ছিল নাসার এই ল্যান্ডারের। পরের অভিযানে ১০০ কিলোগ্রাম রোভারের কাজ মঙ্গলের মাটিতে প্রাণের চিহ্ন খুঁজে বার। মঙ্গলের আবহাওয়া, সেখানে মাটির প্রকৃতি পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা করা।

রোভার এও দেখবে এখনও অগ্ন্যূৎপাত হয় কি না মঙ্গলের পিঠের নীচে, হলে তা কতটা ভয়াবহ। এও দেখবে, কম্পন কতটা তীব্র হয় ‘লাল গ্রহ’-এর শিলাস্তরে (যাকে বিজ্ঞানের পরিভাষায় বলে, ‘মার্সকোয়েক’)। এর আগে মঙ্গলের কক্ষপথে প্রদক্ষিণ করার জন্য পাঠানো হয়েছে বহু ‘অরবিটার’। পাঠানো হয়েছে লাল গ্রহ-এর পিঠে ঘুরে বেড়ানোর জন্য বেশ কয়েকটি ‘রোভার’ও। নামানো হয়েছে কয়েকটি ‘ল্যান্ডার’ও। কিন্তু তারা কেউই মঙ্গলের মাটি খোঁড়েনি। নজর দেয়নি মঙ্গলের ভিতরে। এই কাজটাই এ বার করবে এই রোভার।

Comments are closed.