সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৬

ক্রিমের বদলে টুথপেস্ট ভরা ওরিও বিস্কুট! ঘরছাড়া অসহায়কে এমন খাবার দিয়ে জেল হলো যুবকের

  • 35
  •  
  •  
    35
    Shares

দ্য ওয়াল ব্যুরো: জিভে জল আনা ওরিও বিস্কুট। তবে ভিতরে সাদা মিষ্টি ক্রিম নয়, বরং ভরা রয়েছে টুথপেস্ট। আর ঠিক এমন টুথপেস্ট ভরা ওরিও বিস্কুটই এক গৃহহীন দরিদ্রকে খেতে দিয়েছিলেন স্পেনের বিখ্যাত ইউটিউবার কাংহুয়া রেন। এমন অমানবিক আচরণের জন্য ওই স্প্যানিশ ইউটিউবারকে ১৫ মাসের জেলের সাজা শুনিয়েছে সে দেশের আদালত। এ ছাড়াও অভিযুক্ত ইউটিউবারকে আদালত নির্দেশ দিয়েছে ওই ঘড়ছাড়া প্রৌঢ়কে ২২,৩০০ ডলার দেওয়ার।

ক্যাডবেরি ওরিও। তা সে বিস্কুট হোক, কিংবা আইসক্রিমে থাকা ওরিও-র গুঁড়ো। বিশ্ব জুড়ে এর জনপ্রিয়তা সেই শুরুর সময় থেকেই। বাচ্চাদের স্বাদ বদলের জন্য বাড়িতে মিল্ক শেকেও আজকাল ওরিও মিশিয়ে দেন মায়েরা। কিন্তু তা বলে, ওরিও বিস্কুটের মধ্যে টুথপেস্ট! সাদা নরম মিষ্টি ক্রিমের বদলে টুথপেস্ট ভরে কেউ কাউকে ওরিও বিস্কুট খেতে দিতে পারেন এমনটা বোধহয় জানা ছিল না কারও।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের রিপোর্ট অনুযায়ী, ৫২ বছর বয়সী এক ঘরছাড়াকে নিছক মজার ছলেই নাকি টুথপেস্ট ভরা ওরিও বিস্কুট খেতে দিয়েছিলেন ওই স্প্যানিশ ইউটিউবার। সরল মনে বিশ্বাস করে বিস্কুট খেয়েওছিলেন ওই প্রৌঢ়। তারপরেই শুরু হয় সমস্যা। মারাত্মক বমি করতে শুরু করেন ওই প্রৌঢ়। অসুস্থ হয়ে পড়ায় স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। পুলিশ জানিয়েছে, এখন খানিকটা সুস্থ রয়েছেন ওই প্রৌঢ়। তবে পুলিশকে তিনি জানিয়েছেন, “অনেকদিন ধরেই রাস্তাতেই থাকি। যে যা দেয় তাই খেয়েই পেট চলে। তবে এর আগে কেউ কোনওদিন আমার সঙ্গে এরকম ব্যবহার করেননি।”

নেট দুনিয়ায় ব্যাপক জনপ্রিয় স্প্যানিশ ইউটিউবার রেন। তাঁর রসিকতার ভিডিওর জন্যই নিত্যদিন বেড়েই চলেছে ফ্যান ফলোয়িং। তবে একজন অসহায় মানুষের সঙ্গে এ ধরণের আচরণ করায় রেনের জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েছে। নিন্দার ঝড় বইছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। রেন অবশ্য এত কিছুর পরেও বেশ নির্বিকার। বরং আদালতে দাঁড়িয়ে নিজের কাজের সপক্ষে যুক্তি দিয়েছেন তিনি। বলেছেন, নিছক মজার জন্যই নাকি এমনটা করেছেন তিনি। পাশাপাশ রেন এও বলেন, নিজের শোয়ের জনপ্রিয়তা বাড়ানোর জন্যই এমন অদ্ভুত কাজ করেন তিনি। আর জনগণও এইসব অদ্ভুত জিনিসই নাকি পছন্দ করেন। ইতিমধ্যেই এই অসহায়ের সঙ্গে অমানবিক আচরণের বিনিময়ে ২ হাজার ইউরো উপার্জন করেছেন রেন। এমনটাই জানিয়েছে আদালত।

Comments are closed.