করোনা সংক্রমণের জন্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের দোষ দেওয়া ভুল, বার্তা আমেরিকার

"এই মুহূর্তে বিভিন্ন দেশে করোনা সংক্রমণের জন্য সংখ্যালঘুদের উপর দোষ দেওয়া হচ্ছে। সব সরকারের উচিত এই দোষারোপ বন্ধ করা। কারণ এই করোনাভাইরাসের কোনও উৎস নেই। সংখ্যালঘুরা এই ভাইরাস ছড়ায়নি।”

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশ্বজুড়ে মহামারীর আকার নিয়েছে নোভেল করোনাভাইরাস। অনেক দেশই এই ভাইরাস ছড়ানোর পিছনে চিনকে দায়ী করেছে। কিছু দেশ আবার কিছু সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার দোষ চাপাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সংখ্যালঘুদের দোষ দেওয়া উচিত নয় বলেই জানাল আমেরিকা। বিশ্বের সব দেশের কাছে এই আর্জি জানাল তারা।

    আমেরিকার আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক অ্যাম্বাসেডর স্যাম ব্রাউনব্যাক সব ধর্মীয় সম্প্রদায়গুলির কাছে আর্জি জানিয়েছেন, তারা যাতে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলে। সেইসঙ্গে চিন, ইরানের মতো দেশগুলির কাছে অনুরোধ করা হয়েছে এই সময় ধর্মীয় কারণে জেলবন্দিদের মুক্তি দেওয়া হোক।

    বিশ্বের বিভিন্ন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠকে স্যাম ব্রাউনব্যাক বলেন, “আমার ধারণা এই মুহূর্তে ধর্মীয় সম্প্রদায়গুলির উচিত সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে। সেটাই আমাদের দরকার। কিন্তু এই মুহূর্তে বিভিন্ন দেশে করোনা সংক্রমণের জন্য সংখ্যালঘুদের উপর দোষ দেওয়া হচ্ছে। সব সরকারের উচিত এই দোষারোপ বন্ধ করা। কারণ এই করোনাভাইরাসের কোনও উৎস নেই। সংখ্যালঘুরা এই ভাইরাস ছড়ায়নি।”

    সব সরকারের কাছে আর্জি জানিয়ে ব্রাউনব্যাক বলেছেন, “এই সময় সমস্ত দেশের সরকারদের উচিত প্রকাশ্যে একথা বলা যে, এই ভাইরাস বিশ্বে মহামারীর আকার নিয়েছে। এর সঙ্গে সংখ্যালঘুদের কোনও সম্পর্ক নেই। কিন্তু তার বদলে অনেক দেশেই দোষারোপের খেলা চলছে। আমার মনে হয় এটা ধীরে ধীরে বন্ধ হবে।”

    ব্রাউনব্যাক জানিয়েছেন এই সময় সব দেশের সরকারের উচিত সেখানকার সংখ্যালঘুরা ঠিকমতো ত্রাণ পাচ্ছেন কিনা তা দেখা। তিনি বলেন, “আমরা অনেক দেশে দেখছি সরকারি সুবিধা ও ত্রাণের তালিকা থেকে সংখ্যালঘুদের বাদ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে সব ধর্মের মানুষই এই ভাইরাসের কবলে পড়ছেন। তাই সবাইকে সাহায্য করা উচিত। নইলে তার পরিণাম আরও খারাপ হবে।”

    বিভিন্ন দেশে ধর্মীয় কারণে জেলবন্দিদের এই সময় ছেড়ে দেওয়ারও আর্জি জানিয়েছেন মার্কিন অ্যাম্বাসেডর। তিনি বলেন, “যদি কেউ নিজের ধর্মের উপর বিশ্বাস করে জেহাদি হয়ে কোনও বিস্ফোরণ বা নাশকতা ঘটিয়েছে, তাহলে তাকে জেলবন্দি রাখার অধিকার সরকারের রয়েছে। কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে ধর্মের প্রতি অন্ধ আনুগত্যের ফলেই এই নাশকতা সে ঘটিয়েছে। প্রকৃত শিক্ষা পেলেই নিজের ভুল সে বুঝতে পারবে। কোনও ব্যক্তিগত রাগ থেকে কিন্তু এই ঘটনা সে ঘটায়নি। তাই এই পরিস্থিতিতে সব দেশের উচিত এই বন্দিদের মুক্তি দেওয়া।”

    এই প্রসঙ্গে কিছু দেশের উদাহরণ নিয়ে এসেছেন স্যাম ব্রাউনব্যাক। তিনি বলেছেন, “আমরা জানি চিনের কী অবস্থা। সেখানে খ্রিস্টান, তিব্বতীয় বুদ্ধিস্টদের অনেককে জেলবন্দি করে রাখা হয়েছে। একই অবস্থা ইরানে। সেখানে শিয়া-সুন্নির সমস্যা। যাঁরা সংখ্যালঘু তাঁরাই জেলবন্দি। কিন্তু এই মুহূর্তে এই হওয়া উচিত নয়। সবাইকে মানবতার দৃষ্টিভঙ্গিতে সবটা দেখা উচিত।”

    মার্কিন অ্যাম্বাসেডরের এই বক্তব্যের পরে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই আমেরিকায় তো ক’দিন আগে করোনা সংক্রমণের জন্য চিনকে দায়ী করছিল। হঠাৎ কী এমন হল যে রাতারাতি ভোল পালটে ফেলল তারা।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More